২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ফিফার “প্রেফার্ড প্ল্যাটফর্ম”টিকটক

সিনিউজ ডেস্ক: ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর সাথে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে, ফিফার সাথে পার্টনারশিপ করেছে টিকটক।

যৌথ উদ্যোগ এবং ইন্টিগ্রেশনের জন্য এই পার্টনারশিপে টিকটক হবে ফিফার জন্য “প্রেফার্ড প্ল্যাটফর্ম” বা পছন্দের প্ল্যাটফর্ম। টিকটকে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং পুরো টুর্নামেন্ট নিয়ে বিশেষ কনটেন্ট দেখতে পারবে ভক্ত ও ক্রিয়েটররা। ফিফার সাথে এর আগে, ফিফা নারী বিশ্বকাপ ২০২৩, এর জন্য প্রথমবারের মতো ফিফার “প্রেফার্ড প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে টিকটক চুক্তিবদ্ধ হয়। এই পার্টনারশিপের ফলস্বরূপ টিকটকে ফিফার কনটেন্টে ভিউয়ের পরিমাণ দশ বিলিয়নকেও ছাড়িয়ে যায়।

২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপের সাথে পার্টনারশিপটি থাকবে। টিকটকের এই পার্টনারশিপ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল মিডিয়া পার্টনারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের অংশবিশেষ লাইভ-স্ট্রিম করা, কিউরেটেড ক্লিপ পোস্ট করা এবং টিকটকের জন্য ফিফার তৈরি বিশেষ কনটেন্টে অ্যাক্সেস- এমন অনেক সুযোগ এখানে থাকবে। টিকটকে প্রিমিয়াম বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সম্প্রচারকারীরা তাদের ফিফা বিশ্বকাপের কনটেন্ট থেকে আয়ও করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ফিফার ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি সুরক্ষিত রাখতে অ্যান্টি-পাইরেসি নীতিমালা বাস্তবায়ন করবে টিকটক।

ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম বলেন, “ফিফার লক্ষ্য হলো যত বেশি সম্ভব ভক্তদের কাছে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের এর মুহূর্ত তুলে ধরা। খেলাধুলার ইতিহাসের এই ইভেন্টটি সবচেয়ে বড়। আর এর লক্ষ্যকে আরও ত্বরান্বিত করতে টিকটককে টুর্নামেন্টের প্রথম “প্রেফার্ড প্ল্যাটফর্ম” করা সবচেয়ে ভালো একটি পদক্ষেপ হয়েছে বলে আমি মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল যৌথ উদ্যোগ। এটি বিশ্বজুড়ে আরও বেশি ভক্তকে ফুটবল বিশ্বকাপের এর সাথে নতুনভাবে যুক্ত করবে, যেখানে ভক্তরা পর্দার পেছনের গল্পগুলো আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে। ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে মানুষকে এটি আরও বেশি একত্র করছে। তাই সবার কাছে এর প্রচারও বৃদ্ধি পাওয়া উচিত।”

“প্রেফার্ড প্ল্যাটফর্ম” পার্টনারশিপের কারণে টিকটক ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য একটি হাব হিসেবে কাজ করবে। এই হাবটি “টিকটক গেইমপ্ল্যান” দিয়ে পরিচালিত হবে এবং একটি সক্রিয় জায়গা হয়ে উঠবে। এটি ভক্তদের জন্য আকর্ষণীয় কনটেন্ট খুঁজে পেতে সাহায্য করবে, যেগুলো ৪৮টি দলের টুর্নামেন্টকে তুলে ধরবে। পাশাপাশি ম্যাচের টিকিট ও দেখার তথ্য, কাস্টম স্টিকার, ফিল্টার এবং গেমিফিকেশন ফিচারও পাওয়া যাবে টিকটকে।

প্রথমবারের মতো, টিকটক এবং ফিফা মিলে একটি ক্রিয়েটর প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্বের কয়েকজন নির্বাচিত টিকটক ক্রিয়েটর বিশেষ সুযোগ পাবেন। তারা ম্যাচের পর্দার আড়ালের ঘটনাগুলো, যেমন প্রেস কনফারেন্স বা খেলোয়াড়দের ট্রেনিং, সরাসরি দেখতে ও শেয়ার করতে পারবেন। এতে সাধারণ ভক্তরা টিকটকে বিশ্বকাপের সাথে ভিন্নভাবে যুক্ত হতে পারবে। ফিফার পুরোনো ভিডিও আর্কাইভ ব্যবহার করে নতুন কনটেন্ট বানানোরও সুযোগ পাবেন ক্রিয়েটররা।

টিকটকের গ্লোবাল হেড অফ কনটেন্ট জেমস স্ট্যাফোর্ড বলেন, “গত কয়েক বছরে টিকটকে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে দারুণভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ফিফার প্রথম পছন্দের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, ভক্তরা ৯০ মিনিটের ম্যাচের পাশাপাশি এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট ও ক্রিয়েটরদের অ্যাক্সেস দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।”

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।