সিনিউজ ডেস্ক: সার্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে মোট ৩,৮৫৮ কোটি টাকা আয় করেছে গ্রামীণফোন লিমিটেড, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৩% বেশি। এই প্রান্তিক শেষে অপারেটরটির মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩৯ লাখে। মোট গ্রাহকের ৫৮.১ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ৮৭ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।
গ্রামীণফোন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “নেটওয়ার্কে বরাবরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ সংযোগ প্রদানকারী হিসেবে আমাদের অবস্থান আরো দৃঢ় করতে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। আমাদের এই অগ্রগতি পরিচালিত হচ্ছে তিনটি মূল স্তম্ভকে কেন্দ্র করে – একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা, দক্ষতা কাজে লাগানো এবং প্রকৃত অর্থে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো। গত কয়েক প্রান্তিকে আমরা সার্বিক অর্থনীতির কঠিন পরিস্থিতি দেখেছি এবং পরবর্তীতে স্থিতিশীলতার কিছু আভাসও দেখা গেছে। বিশেষভাবে ২০২৫ আমাদের জন্য এগিয়ে যাওয়ার বছর। বিদ্যমান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চতুর্থ প্রান্তিকের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, আমরা সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছি; রাজস্ব বৃদ্ধি, মুনাফা নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে আরো মূল্যভিত্তিক ও স্থিতিশীল একটি ব্যবসা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।
|
গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান |
চতুর্থ প্রান্তিক ২০২৫ |
|
রাজস্ব (কোটি টাকা) |
৩,৮৫৮ |
|
রাজস্ব প্রবৃদ্ধি (ইয়ার অন ইয়ার) |
+৩.৩% |
|
কর পরবর্তী মুনাফা (কোটি টাকা) |
৬৯৩ |
|
এনপিএটি মার্জিন |
১৮.০% |
|
এনপিএটি প্রবৃদ্ধি (ইয়ার অন ইয়ার) |
+২.৬% |
|
ইবিআইটিডিএ মার্জিন |
৫৮.০% |
|
শেয়ার প্রতি আয় |
৫.১ |
|
মূলধন ব্যয় (লাইসেন্স, ইজারা ও এআরও ব্যতীত) (কোটি টাকা) |
১৯০ |
তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল সেবার ব্যাপ্তি বাড়ায় আস্থাশীল সংযোগ নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাইবার নিরাপত্তা। সবচেয়ে নিরাপদ নেটওয়ার্ক পরিচালনার মাধ্যমে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে গ্রামীণফোন; যাতে সহায়তা করছে অত্যাধুনিক, বহুস্তরবিশিষ্ট সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা। নিজেদের নেটওয়ার্কের সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি জিপি শিল্ডের মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে আমাদের ভূমিকার প্রতিফলন। সার্বিক অর্থনীতির কঠিন পরিস্থিতির কারণে নিকট ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় বড় সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আমরা সরকারের জাতীয় ডিজিটাল অগ্রাধিকারগুলোর অংশীদার হিসেবে কাজ করতে এবং অর্থনীতি ও সমাজের জন্য টেকসই অবদানের ক্ষেত্র উন্মোচনে সংকল্পবদ্ধ।”
গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অটো মাগনে রিসব্যাক বলেন, “ভোক্তাব্যয় বৃদ্ধির অব্যাহত চাপে ক্রয়ক্ষমতা এখনও সীমিত এবং এমন পরিস্থিতিতে আমরা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বছরজুড়ে বিভিন্ন কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছি আমরা, যা প্রত্যেক প্রান্তিকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে। ২০২৫ সালের শেষ দুই প্রান্তিকে আমরা যথাক্রমে ১.৪% ও ৩.৩% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। ব্যয় ও মূলধনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে এ প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সার্বিক ব্যয় বেড়েছে মাত্র ১.৫%, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ছিল প্রায় ৮%। মোট কর পরবর্তী মুনাফায় (এনপিএটি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৬%; যেখানে মূলত স্পেকট্রাম ও নেটওয়ার্কে সাম্প্রতিক বিনিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট উচ্চ অবচয় ও অবলোপন, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ করের প্রভাব পড়েছে। স্বল্পমেয়াদে এসব ব্যয় প্রভাব ফেললেও ব্যবসাকে শক্তিশালী করতে এবং ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য তা একইসাথে কোম্পানির বিনিয়োগ।
তিনি বলেন, “২০২৫ সালের জন্য গ্রামীণফোনের বোর্ড দ্বিতীয় ধাপে শেয়ার প্রতি ১০.৫ টাকা লভ্যাংশ প্রস্তাব করছে। বছরের প্রথমার্ধে ইতোমধ্যে শেয়ার প্রতি ১১ টাকা অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালে মোট ঘোষিত লভ্যাংশ দাঁড়িয়েছে ২১.৫ টাকায়, যা এনপিএটির ৯৮.২%। শুধু শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানই নয়, আরো বৃহত্তর অবদানের ক্ষেত্র হিসেবে করবাবদ আমাদের ভূমিকাও তুলে ধরতে চাই। ২০২৫ সালে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১২,১৫৬ কোটি টাকা প্রদান আমাদের এই ভূমিকার একটি শক্তিশালী প্রতিফলন। আমরা বাংলাদেশের বৃহত্তম করদাতাদের অন্যতম; এটি সার্বিকভাবে সমাজ ও অর্থনীতিতে লাভজনক এবং দায়িত্বশীলভাবে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে।”
