বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ তিনটি র‌্যাংকিংয়েই প্রথম সারিতে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়

সিনিউজ ডেস্ক:যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিপক্ক¦তার বিষয়টি সময় সাপেক্ষ তথাপি মাত্র উনিশ বছর বয়সেই (২০০২-২০২১) সবাইকে অবাক করে দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদেন্ডের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষা র‌্যাংকিংয়েই একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এরমধ্যে দুটি র‌্যাংকিংয়ে তো রীতিমতো শীর্ষ অবস্থানেই রয়েছে। র‌্যাংক দুটি হচ্ছে টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‌্যাংকিং এবং ইউআই গ্রিনমেট্রিক্স র‌্যাংকিং। এছাড়া কিউএস এশিয়া র‌্যাংকিংয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি রয়েছে ৪র্থ অবস্থানে। এতসব সাফল্যের পিছনে রয়েছে এর সর্বাধূনিক প্রযুক্তি নির্ভর যুগোপযোগী ও মান সম্মত শিক্ষা, শিক্ষকদের নিরলস প্রচষ্টা আর কর্তৃপক্ষের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও সর্বাধূনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি । তাইতো দীর্ঘ এক বছরের ও বেশী সময় ধরে লক ডাউনের কারনে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সম্পূর্ন ব্যতিক্রম।
বাংলাদেশের যে সেক্টরটি এখনও লকডাউনের মুখোমুখি তা হল সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে আছে। অনলাইন কার্যক্রমের গতির ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ এ ভয়াবহ পরিস্থিতিকে কাটিয়ে উঠতে প্রণান্তকর চেষ্টা করছে। সব বাধা বিপত্তি এবং প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক শিক্ষা কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে যে প্রতিষ্ঠান তার নাম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। সকল প্রকার শিক্ষা কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ডিআইইউ যে শক্তিশালী টুলসটি ব্যবহার করছে তা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং বেøন্ডেড লার্নিং সিস্টেম (বিএলসি)।
অতিসম্প্রতি প্রকাশিত টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে টিন এইজড ইউনিভার্সিটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। সারা বিশ্বের ১১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে এই র‌্যাংকিংয়ে, যার মধ্যে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৩০১ থেকে ৪০০ তালিকার মধ্যে। এই অবস্থান বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম।
জাতিসংঘ নির্ধারিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভিত্তিতে এ র‌্যাংকিং করা হয়। গুণগত শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে থাকা বিশ্বের ৯৬৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষ ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বাংলাদেশের জন্য ড্যাফোডিলের এ সাফল্য সত্যিই এক অভূতপূর্ব অর্জন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শুরু থেকেই জ্ঞানার্জনের সংস্কৃতির বিকাশ, শিক্ষার দর্শন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই র‌্যাংকিং সেই চেষ্টারই স্বীকৃতি। টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাংকিংয়ের মতে, এ বছর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ অর্জন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এই র‌্যাংকিং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্রীক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একসঙ্গে কাজ করা ও আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টাকে ইঙ্গিত করে।
এর আগে গত ৭ ডিসেম্বরে প্রকাশিত ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ে টানা ৪র্থ বারের মতো প্রথম স্থান অর্জন করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যাহত প্রচেষ্টার কারণে এই মাইলফলক অর্জন সম্ভব হয়েছে। র‌্যাংকিংয়ে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান ১৮১তম, যেখানে প্রথম অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডের ওয়াগেনিংগেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। ছয়টি মানদÐের ভিত্তিতে এ র‌্যাংকিং প্রস্তুত করা হয়। মানদÐগুলো হচ্ছে: অবকাঠামো (১৫%), শক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন (২১%), আবর্জনা (১৮%), পানি (১০%), পরিবহন (১৮%) এবং শিক্ষা (১৮%)।
পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই লক্ষমাত্রা অর্জনের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে এ র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়। এইসব ক্ষেত্রে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, স্থাপত্য বিভাগ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও পাবলিক হেলথ বিভাগ বিশেষ অবদান রাখছে। গত বছর সারা বিশ্ব থেকে ৯১২টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিয়েছে গ্রিনমেট্রিক র‌্যাংকিংয়ে।
এছাড়া গত ২৫ নভেম্বর ২০২০ তারিখে প্রকাশিত কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৪র্থ স্থান লাভ করেছে। কিউএস (কোয়াককোয়ারেল সাইমন্ডস) এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং তালিকায় দেখা যায়, অসাধারণ সাফল্য ও উদ্যোগের ভিত্তিতে মূল্যায়নে এশিয়ার সেরা ৪৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান চতুর্থ।
নিয়োগদাতাদের মূল্যায়নে এশিয়া অঞ্চলের সেরা ৭০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান ১৪৪ তম। একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয় (২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত) হিসেবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এ মর্যাদাপূর্ন অবস্থান শুধু বিশ্ববিদ্যালটিরই অসামান্য অর্জন নয় বরং বাংলাদেশের জন্যও তা গৌরবের।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেল সাইমন্ডস (কিউএস) প্রতিবছর মোট ১১টি আন্তর্জাতিক মানদÐের ভিত্তিতে সারা পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক র‌্যাংকিং প্রকাশ করে থাকে। এগারোটি মানদÐের মধ্যে রয়েছে: প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাফল্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক, গবেষণা প্রবন্ধের সাইটেশন, পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপাত, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী বিনিময়ের হার ইত্যাদি।
বলার অপেক্ষা রাখে না, গুণগত শিক্ষার মান অব্যাহতভাবে ধরে রাখা, বাংলাদেশ উচ্চতর পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা স্নাতকদের মেধাবী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এসব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করে নিয়েছে। এর ফলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েটদের স্থানীয় চাকরির বাজারে তো বটেই, গেøাবাল মার্কেটেও কর্মসংস্থানের পথ সুগম হচ্ছে।
তীক্ষè দূরদৃষ্টি সম্পন্ন দেশের তথ্যপ্রযুক্তিখাতের আইকন একজন স্বপ্নবাজ মানুষ ড. মোঃ সবুর খানের প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং বৈধতা’র মত কঠিন চ্যালেঞ্জেগুলো মোকাবেলা করে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ একশত পঞ্চাশ একর জায়গার উপর ডিআইইউ’র সবুজ স্থায়ী ক্যাম্পাস, যেটি দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বাধিক সজ্জিত, নান্দনিক এবং সেরা ক্যাম্পাসগুলির অন্যতম একটি হিসেবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টি নন্দন ৮/১০ টি পূর্নাঙ্গ হল রীতিমত সবাইকে দেয়ার মতই। শিক্ষা এবং গবেষণার দিক দিয়ে ক্রমাগত বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়েও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানীয়। এই অতিমারীকালেও ডিআইইউ তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, বরং কোন কোন ক্ষেত্রে অতীতের চেয়ে আরও দ্রæত গতিতে।
কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষার নিয়মিত সমস্ত কার্যক্রমসমূহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে সেশন জটের বিষয়ে ভয়ে আছে আর প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও সেশনজটের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তবে, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এলএমএস’ ও ‘বিএলসি’ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থাগুলিকে এই সংকটেও কিভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হয় তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এবং অনুপ্রাণিত করেছে। শুধু কেবল একাডেমিকই নয়, যে কোনও প্রতিষ্ঠানই ‘স্মার্ট এডু’র মতো তার প্রচেষ্টা দ্বারা উৎসাহিত এবং পরিচালিত হতে পারে। নীতি নির্ধারকরা এক সময় ‘এলএমএস’ ও ‘বিএলসি’ এর ঘোর বিরোধিতা করলেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেই এখন অনলাইন শিক্ষা ও অনলাইন পরীক্ষাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির দূরত্ব ঘোচাতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুসংহত ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে এখন থেকেই অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা ও অনলাইন পরীক্ষা পদ্ধতি প্রচলনের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।