ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের নানা ধরন

ডিজিটাল মার্কেটিং-এর প্রচলন ও জনপ্রিয়তা উভয়ই হু-হু করে বাড়ছে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কথাই ধরুন। মাত্র কয়েক বছর আগেও এটি ছিল মার্কেটিং-এর নতুন কৌশলগুলোর একটি, কিন্তু বর্তমানে এটি এমন একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে যেটি সম্বন্ধে মার্কেটিং প্রফেশনালদের অবশ্যই জানতে হবে। মার্কেটিং আর বিজ্ঞাপন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ, কাজেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়ার কলাকৌশল আমাদের অবশ্যই জানতে হবে। তবে এটি যেন বার্তার প্রাপকের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কাজেই আমাদের এমন পদ্ধতিতে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হবে যাতে গ্রাহক বা অডিয়েন্স বিরক্ত না হন। কারণ ভোক্তারা এমন মনে করতে পছন্দ করেন যে, তাঁরা নিজেদের সিদ্ধান্তে, নিজেদে পছন্দে একটি জিনিস বা সেবা ক্রয় করছেন। কাউকে খুশি করার জন্য তিনি এটি করছেন, বা তাঁর ওপর এটি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে Ñ এমন ধারণা যদি তাঁর মধ্যে এসে যায় তাহলে সেটি টেকসই হবে না। নিচে এমন কয়েকটি ডিজিটার মাধ্যমের কথা আলোচনা করা হল যেগুলোর মাধ্যমে সুবিবেচনার সাথে মার্কেটিং কাজ পরিচালনা করা হলে পণ্যবা সেবার প্রসার ঘটানোর জন্য সেটি কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।

১। নিউজলেটারকে ব্যবহার করুন সুবিবেচনার সাথে

বাজারে বর্তমানে কনটেন্ট রাইটারের অভাব নেই। নিউজলেটার বস্তুটিও যে মার্কেটিংয়ের জন্য উপযোগী সেটিও মানুষ এখন মোটামুটি বুঝতে শিখেছেন। কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কীভাবে ডিজিটাল নিউজলেটার লিখতে হবে সেটি জানা। ডিজিটার নিউজলেটারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, একটি কোম্পানির সাথে ভোক্তা বা সম্ভাব্য গ্রাহকের একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা। এছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের চলমান কোনো প্রকল্প সম্বন্ধে বিনিয়োগকারীদের অবহিত রাখাও ডিজিটাল নিউজলেটারের অন্যতম একটি কাজ। এক্ষেত্রে কনটেন্ট এবং মনোগ্রাহী ছবি Ñ উভয়কে কিভাবে একই সূত্রে মেলাতে হবে সেটিও জানতে হবে। নিজেদের কর্মকাÐকে সুরুচিকর ভাবে নিউজলেটারে উপস্থাপন করতে হবে, আর তার সাথেপাঠক বাড়ানোর জন্য যদি কুপনের ব্যবস্থা করা যায় তাহলেও খারাপ হয় না।

২। মানুষকে প্রতিদিন বিরক্ত করা যাবে না

একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ওয়েব সাইট সবচেয়ে বিরক্তিকর যে কাজটি করতে পারে তা হচ্ছে প্রতিদিন মানুষকে ইমেইলের মাধ্যমে বিরক্ত করা। এমন কিছু ওয়েব সাইট আছে যেগুলো প্রতিদিন একাধিকবার এই কাজটি করে। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভাল না। ফলে একটিপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুকূল মনোভাব আছে এমন মানুষকেও বিরক্ত করে তুলতে পারে এইবাড়াবাড়ি কাজটি। এর ফরে যা হবে, বার্তার প্রাপকরা গুরুত্বপূর্ণ আর অ-গুরুত্বপূর্ণ বার্তাউভয়কেই একই পাল্লায় মাপবেন। এজন্য যেটি করা যেতে পারে সেটি হল, প্রতি সপ্তাহে একবারসপ্তাহের প্রধান ঘটনাবলীর একটি বিবরণ পাঠানো। এজন্য কনটেন্ট বাছাই করতে হবেসতর্কতার সাথে এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে যেমন গুরুত্ব দেয়া যাবে না তেমনি গুরুত্বপূর্ণবিষয়গুলো যাতে যথাযথ স্পেস পায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

৩। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঠিক ব্যবহার

যেসব মোশ্যার মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কেবল নানা ধরনের পণ্যের লিংক পাঠানোর কাজে ডুবেথাকে তারা বেশি মনোযোগ পায় না। এর ফলে ঐ কোম্পানি বা ওয়েবসাইটটি মানুষেল আগ্রহবাড়ানোর পরিবর্তে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কেউ কেউ এটিকে যান্ত্রিক কারসাজি বাবট’ বলেও ভাবতে পারেন। কাজেই উচিত হবে, গ্রাহক ও ফলোয়ারদের সাথে আকর্ষণীয় ও কার্যকর সম্পর্ক স্থাপনের কাজে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা। অনেকেই পণ্য বা সেবা সম্বন্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে বেছে নেন। এটি সবাই দেখতে পায়,কাজেই এসব অভিযোগের জবাব দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। একটি ছোটখাট টুইট এমন একজন কাস্টমারকেও ধরে রাখতে পারে যিনি ঐ কোম্পানির পণ্য বা সেবা আর গ্রহণ করবেন না বলে পণ করেছিলেন।

৪। ব্লগকে বিজ্ঞাপনী হাতিয়ার বানাবেন না

ঠিক সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টের মতই, ব্লগকেও কেবল নতুন পণ্য বা সেবার জন্য বিজ্ঞাপনী হাতিয়ার বাাননো ঠিক নয়। ব্লগকে হতে হবে তথ্যমূলক, এবং ভোক্তাদের নানা প্রশ্নের জবাব যাতে বøগের মাধ্যমে দেয়া যায় সে ব্যবস্থা থাকতে হবে। ব্লগে অসাধারণ কিছু কনটেন্ট-এর মাধ্যমে একটি কোম্পানিকে ইন্ডাস্ট্রির চিন্তানেতা বা -এ রূপান্তরিত করা গেলে সেটি বিপণন কাজেও গতি আনতে সহায়তা করবে। পাঠক বিরক্ত হয়ে যাবে যদি আপনি একই কনটেন্ট বারবার ব্যবহার করতে থাকেন এবং তিনি তার মধ্যে নতুন কিছু খুঁজে না পান। অনেকেই নিয়মবদ্ধ বা রুটিন কাজ পছন্দ করেন। কাজেই একটি সাপ্তাহিক কলাম পাঠককে নিয়মিতভাবে আপনার বøগে আকর্ষণ করতে সাহায্য করবে।

৫। নানা ধরনের কনটেন্ট নিয়ে কাজ করুন

স্মার্টফোনের প্রবল জনপ্রিয়তার কারণে সাধারণ মানুষের সামনে এখন কনটেনেস্টর ছড়াছড়ি।যেভাবে খুশি সেভাবে তারা নানা রকম কনটেন্টকে পেতে চান এবং পাচ্ছেনও। এমন অনেকেউ আছেন, যাঁরা পড়তে চান না, পডকাস্টের মাধ্যমে তথ্য পেতে চান। আবার অনেকে আছেন যাঁরা ছবির মাধ্যমে তথ্য পেতে চান, পড়তে চান না এমনকি এক লাইনও। কাজেই আপনাকে নানারকম কনটেন্টের ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে, নানারকম ট্র্যাকে চিন্তা করতে হবে। বর্তমানে ভিডিও কনটেন্টেরও কদর বাড়ছে। কাজেই আপনি যদি ছোট কিন্তু ফোকাসড ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন তাহলে সেটি আপনার বাড়তি দক্ষতা হিসেবে গণ্য হবে। ডাটা ভিজুয়ালাইজেশনের কদর দিনদিন বাড়ছে। চেষ্টা করুন নানা ধরনের ইনফোগ্রাফিক তৈরি করতে।এটিও আপনার ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অন্যতম শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।