৯ মাসে গ্রামীণফোনের আয় ৭৭৯০ কোটি টাকা

২০১৫ সালের প্রথম নয় মাসে গ্রামীণফোনের রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৭৯০ কোটি টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ১.৬ শতাংশ বেশি। তবে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় আয় তৃতীয় প্রান্তিকে কিছুটা কমেছে। সেবা থেকে আয়কৃত রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ১.৪ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ডিভাইস ও অন্যান্য খাতে রাজস্ব আয় বেড়েছে ৫ শতাংশ।

আজ রাজধানীর একটি হোটেলে গ্রামীণফোনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২০১৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও রাজীব শেঠি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিএফও দিলীপ পাল, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. হাসানসহ অন্যান্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে রাজীব শেঠি জানান, ২০১৫ সালের প্রথম নয় মাসে গ্রামীণফোন যুক্ত হয়েছে ৪০ লাখ নতুন গ্রাহক। ফলে প্রান্তিক শেষে মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫৫ লাখ। গত বছরের তুলনায় গ্রাহক সংখ্যার প্রবৃদ্ধি ১০.৪ শতাংশ।

তবে গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমেছে। আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির এই আয় কমেছে।

তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই ’১৫ থেকে সেপ্টেম্বর ’১৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ টাকা ৯৬ পয়সা।

শেয়ার প্রতি মুনাফা কমার কারণ হিসেবে রাজীব শেঠি সংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রামীণফোন ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এছাড়া, ফরেন এক্সচেঞ্জ গেইন-লসের কারণেও এমনটা হয়েছে।’

আয়কর প্রদানের পর ২০১৪ এর প্রথম নয় মাসে  ২০.৭ শতাংশ মার্জিন সহ ১৫৯০ কোটি টাকা মুনাফার তুলনায় ২০১৫ এর প্রথম নয় মাসে নিট মুনাফা হয়েছে  ১৮.৮ শতাংশ মার্জিন সহ ১৪৬০ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণে এই প্রান্তিকে EBITDA (অন্যান্য আইটেমের আগে) বেড়েছে ৫২.৯ শতাংশ মার্জিন সহ ৪১৪০ কোটি টাকা। এই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১০.৮৩ টাকা।

রাজীব শেঠি বলেন, ‘২০১৫ সালের প্রথম কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতি আমরা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছি। আমার দেখছি যে ধীরে ধীরে মোবাইল ফোন ব্যবহার বাড়ছে এবং ডাটা ব্যবহারেও উৎসাহব্যঞ্জক উন্নতি হচ্ছে। সহজ গ্রাহক কেন্দ্রিক উদ্যোগে আমাদের বিশেষ মনোযোগ এই গতিশীলতা আনতে সহায়তা করেছে।’

গ্রামীণফোনের সিএফও দিলীপ পাল বলেন, ‘প্রতিকূল ব্যবসায়িক ফলাফলের মধ্যেও আমরা লাভজনক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য পূরণে সঠিক পথে রয়েছি। বছরের তুলনায় আয় কিছুটা কমলেও প্রবৃদ্ধি ঠিক রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রামীণফোন বছরের প্রথম নয় মাসে উচ্চ ভয়েস ও ডাটা চাহিদা পূরণ এবং উন্নততর পণ্য ও সেবা চালু করার জন্য আইটি অবকাঠামো উন্নয়ন সহ ৩জি সম্প্রসারণ, ২জি কাভারেজ সংহত করতে ১৪৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

এছাড়াও দেশের বৃহত্তম করদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন কর, ভ্যাট,শুল্ক এবং লাইসেন্স ফি হিসেবে সরকারী কোষাগারে ৩৮৮০ কোটি টাকা প্রদান করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আয়ের ৪৯.৮ শতাংশ।

কলড্রপ সমস্যার সমাধানে গ্রামীণফোন কি ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাজীব শেঠি বলেন, বিটিআরসির বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী অপারেটরদের কলড্রপ ৩ শতাংশের নিচে রাখতে হবে। সেখানে গ্রামীণফোনের কলড্রপের হার ১ শতাংশেরও নিচে রয়েছে। যা কিনা আরও কমানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে গ্রামীণফোনে থ্রিজির চেয়ে টুজি নেটওয়ার্ক বেশি সম্প্রসারিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রামীণফোন থ্রিজি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী গ্রাহকদের সংখ্যা ১২ মিলিয়ন।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.