৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্পকে আইসিটি বিভাগের অনুদান

৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্পকে মোট ৯০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দিয়ে যাত্রা শুরু করল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘ওয়ানথাউজেন্ড ইনোভেশন বাই ২০২১’ প্রকল্প।

এই প্রকল্পের আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ২০২১ সালের মধ্যে হাজারটি উদ্ভাবনী প্রকল্পকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে অন্যতম ভূমিকা রাখতে চায়।

৯ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে, আইসিটি টাওয়ারের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে ‘ওয়ান থাউজেন্ড ইনোভেশন বাই ২০২১’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকে অনুদানের চেক প্রদান করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

অনুদান পাওয়া ৯টি প্রকল্পের মধ্যে ১০ লাখ টাকা করে অনুদান পেয়েছে  উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ক্লাউড নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা বা ভার্চুয়াল হেলথ সার্ভিস, প্রকৃত সময়ের মধ্যে চালককে সচেতন করে দেওয়া, হিরোজ অব ৭১ : রিটেলিয়েশন, হাতুরিয়া, ভয়েজ এবং বিল্যান্সার। ২০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছে মায়া আপা। ৫ লাখ টাকা করে অনুদান পেয়েছে মোবাইলে ট্রাফিক আপডেট ‘গো’ ও বিডি মার্শিয়ান-১।

অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও বুয়েটের সাবেক কৃতী শিক্ষার্থী ড. তাহের এ সাইদ মানুষের রক্তনালিতে সাঁতার কাটতে পারে এবং ওষুধের প্রয়োগ ছাড়াই ক্যানসারকে জয় করতে পারে এমন এক বায়ো-বট বা জীবন্ত রোবট উদ্ভাবন করেছেন। জিনবিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করেছেন, কুয়েটের ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ সনিমুল ইসলাম ও সৈয়দ ইরফান আলী মির্জা সবধরনের মোবাইলে কাজ করে এ ধরনের স্মার্টওয়াচ উদ্ভাবন করেছেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী তরুণ দেবনাথ শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলফোন নিয়ন্ত্রিত হুইল চেয়ার উদ্ভাবন করেছেন। ওনারা সবাই আমাদের দেশের সন্তান। তাদের সেইসব উদ্ভাবন আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত হচ্ছে। কেউবা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেয়েই ‍বিশ্বজয়ী উদ্ভাবন করছেন, আবার কেউবা অপ্রতুল সহায়তার মধ্যেও নানা ধরনের উদ্ভাবন করে চলেছেন। বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকাকে আরো সমুজ্জ্বল করে চলেছেন। তাই, পুরো জাতি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে তারা আদর্শ, রোলমডেল। তাই আমাদের মেধাবী সন্তানদের উদ্ভাবনী কর্মকান্ডে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, যার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল বাংলাদেশ পূর্ণতা পাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের নেতৃত্বে আইসিটি ডিভিশন কাজ করছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই বেশ কয়েকটি দেশীয় উদ্ভাবন সারা বিশ্বে সাড়া জাগাবে, তাদের মেধার সক্ষমতা প্রমাণ করবে। সেজন্য আমরা একটি ইনোভেশন ইকো-সিস্টেম এবং স্টার্টআপকালচার তৈরি করছি। এ সকল কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য আমরা ‘ওয়ানথাউজেন্ড ইনোভেশন বাই ২০২১’ কর্মযজ্ঞ শুরু করেছি। এই সকল কর্মকান্ড থেকেই আমাদের দেশীয় উদ্ভাবন একদিন বিশ্বমানের নতুন উদ্ভাবনী পণ্য বা সেবার মাধ্যমে সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে।আমাদের দেশীয় উদ্ভাবন একদিন বিশ্বজয় করবে।’

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি’র এমডি হোসনে আরা বেগম এনডিসি, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হারুনুর রশিদ, সুশান্ত কুমার সাহা, পার্থ প্রতিম দেব, কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটি’র কন্ট্রোলার আবুল মনসুর মোহাম্মদ সারফ উদ্দিনসহ আরো অনেকে।

 

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.