ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এটুআই ও মাইক্রোসফটের উদ্যোগ

ঢাকা: ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা তৈরীর লক্ষ্যে আজ সোমবার, ১৮ জানুয়ারি তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসএসএফ ব্রিফিং রুমে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং মাইক্রোসফট বাংলাদেশ-এর সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-এর মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক জনাব কবির বিন আনোয়ার এবং মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির । এছাড়া চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোসফটের সাউথ-ইস্ট এশিয়া নিউ মার্কেটস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মিশেল সিমন্স।

চুক্তির আওতায়, দেশব্যাপি ৫২৭৩টি ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তাদের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে উক্ত ডিজিটাল সেন্টারগুলো সরাসরি সার্ভিস সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা প্রদান করতে পারবে। প্রযুক্তি বিষয়ক এই ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা ডিজিটাল সেন্টারের যাবতীয় কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে নাগরিকগণকে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-এর মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক জনাব কবির বিন আনোয়ার বলেন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মানে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে একজন নারী এবং পুরুষ উদ্যোক্তার অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাণ থাকার কারনে গ্রামাঞ্চলে নারীদের সেবাপ্রদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল সেন্টারের নারীদেরকে নিয়ে মাইক্রোসফটের এ প্রশিক্ষণ তাদেরকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।“

মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আমি অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত। আমরা বিশ্বাস করি নারীরা আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত একটি আগ্রহ। চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ দেশের ডিজিটাল সেন্টারের ৫২০০ জনের বেশি নারীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে। আমরা বাংলাদেশের নারীদের প্রযুক্তিতে যুক্ত করার ব্যাপারে অনেক বেশি আশাবাদী আর তাই সে অনুযায়ী এই খাতে নারীদের চাকরি করার যোগ্যতা অর্জনের পাশপাশি পেশাগত জীবনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।”

ডিজিটাল সেন্টার হলো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে স্থাপিত তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সেবা সমৃদ্ধ একটি আধুনিক কেন্দ্র। এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি ৬০ লক্ষ সেবা প্রদান করা হয়েছে যার মধ্যে বিদেশ গমনেচ্ছু ২০ লক্ষাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক ও পেশাজীবীদের অনলাইন নিবন্ধন এবং সেন্টারে বসে আবেদন করে বাড়িতে বসে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার জমির পরচা লাভ ডিজিটাল সেন্টার থেকে সেবা পাওয়ার অনন্য নজির। এখন গ্রামে বসেই ২ লক্ষ ৭৯ হাজার জীবন বীমা গ্রাহক সহ সরকারি ফরম পূরণ, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্মমৃত্যু নিবন্ধন, ই-মেইল-ইন্টারনেট ব্যবহার, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ ১০২ ধরনের সরকারি-বেসরকারি এবং বাণিজ্যিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৫২৭৩টি গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ৪০০ জন এবং ১৫টি জেলা থেকে ১৫০০ জন নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে মাইক্রোসফট। চলতি বছরের মধ্যে আরো ৫২০০জনের বেশি নারী প্রশিক্ষণ এই প্রশিক্ষণ পাবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এ-গ্রেড প্রাপ্ত নারীরা সরাসরি কল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটু্আই প্রোগ্রাম এর প্রকল্প পরিচালক জনাব কবির বিন আনোয়ার, মাইক্রোসফটের সাউথ-ইস্ট এশিয়া নিউ মার্কেটস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মিশেল সিমন্স, মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Please Share This Post.