৫জি নিউ এরা ট্রান্সফরমিং আওয়ার লাইভস, সোসাইটি এন্ড ইন্ড্রাটিস

১৫তম বেসিস সফটএক্সপো’র শেষ দিনে আজ ৫জি নিউ এরা ট্রান্সফরমিং আওয়ার লাইভস, সোসাইটি এন্ড ইন্ড্রাটিস শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধান অতিথি ছিলেন বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম কমিশনার আমিনুল ইসলাম। মূল বক্তব্য প্রদান করেন জিএসএমের এশিয়া প্যাসিফিকের পরিচালক রাহুল সাহা, এরিকসনের বাংলাদেশ প্রধান আব্দুস সালাম এবং হুয়াওয়ে নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সিইও জ্যাং জ্যানজুন। আলোচক হিসেবে ছিলেন গ্রামীন ফোনের সিটিও রাধে কোভাচেভিচ এবং রবির সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ । সঞ্চালনায় ছিলেন অ্যামটবের এর সাবেক সচিব টিআইএম নুরুল কবীর।

বক্তব্যে বক্তারা বলেন- সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজন এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন। আর ডিজিটাল উন্নয়নের অন্যতম অবকাঠামো হলো ইন্টারনেট সংযোগ । সমগ্র দেশকে এই সেবার আওতায় না আনা গেলে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্পের সঠিক সুফল হতে বঞ্চিত হবে জাতি। এক্ষেত্রে এই অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা ৫জি নেটওর্য়াক। ১০ জিবিপিএস গতি সম্পন্ন ৫জি ৪জি এবং ৪.৫ জিবি ইন্টারনেট সেবা হতে ১০ থেকে ১০০ ভাগ উন্নত সেবা প্রদানে সক্ষম। লিটেনসি ১ মিলিসেকেন্ড। এর নের্টওয়ার্ক সক্ষমতা বানিজ্যিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে এ সম্ভাবনায় সারা বিশ্বেই ৫জি আজ প্রযুক্তি উন্নয়নের ভবিষৎ হিসাবে আলোচ্য । বিশ্বের কিছু কিছু দেশে ইতিমধ্যে এ সেবার সুফল ভোগ করা শুরু হয়ে গেছে আবার কিছু কিছু দেশে চলছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। বাংলাদেশে ও শুরু হয়েছে ৫জির সম্ভাবনা সহ সেবা প্রদান বিনিয়োগ এবং মার্কেট রেডিনেস নিয়ে আলোচনা এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ফাইভজি রোল আউটে আমাদের অবস্থান, সরকারের উদ্যোগ, দেশের অবকাঠামোগত দিক থেকে এই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য আমরা প্রস্তুত কিনা এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ৫জি ব্যাবহারে অন্যান্য দেশের উদাহরন দিয়ে বক্তারা জানান -ফাইভ জি কে জনপ্রিয় করতে ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ড একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্বান্ত অনুযায়ী দেশটির সরকারি সংস্থা, অপারেটর ও ভেন্ডর সহ সংশি¬ষ্ট সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী ৩ বছরের মধ্যে তারা টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মোবাইল বাজারের কথা উল্লেখ করে তারা জানান দেশের আমদানীকৃত মোবাইলের ৫০ ভাগেরও বেশি অংশ ফিচার ফোন আমদানি করছে। যা নেটওয়ার্ক থ্রিজি, ফোরজি, ফাইভজি সেবার সুবিধাভোগের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা হতে পারে।

বক্তারা বলেন, সর্বত্র বাধাহীন সংযোগ, নেটওয়ার্ক ইকোনমিক্স এন্ড ইনোভেশন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রান্সফরমেশন, ম্যাসিভ আইওটি এন্ড ক্রিটিকাল কমিউনিকেশন এবং ব্রডব্যান্ড এনহান্সড করাই ফাইভজি সেবার মূল সুবিধা । আরো বলা হয়, বর্তমান সময়ের মোবাইল গ্রাহক এবং স্মার্টফোন ব্যাবহারকারীরা চায় ডাটা সেবা এবং এই সেবা প্রদান সহজীকরনে ৫জি সেবার প্রয়োজনীয়তাই এখন আলোচ্য। তারা আওে বলেন- এক্ষেত্রে দেশের জাতীয় আয়ে মোবাইল ইন্টারনেট সহ মোবাইল সেবার অবদানের কথা উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন- বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ কোটি ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী এবং এর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান সেই সাথে বাড়ছে স্মার্টফোন ব্যাবহার কারীর সংখ্যাও ।

বাজার বাড়ছে তাই আমরা মনে করি ৫জি সেবা চালু হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সহ সমগ্র দেশকে একটি উ”চমানের ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করা যাবে যা দেশের অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ব করবে । ৫জি সেবা প্রদানে চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন – এর অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগের পরিমানটি বেশ বড় তাই এই বিনিয়োগের সফলতা নিশ্চিত করনে প্রয়োজন একটি সঠিক কর্মপরিকল্পনা, পলিসিগত উন্নয়ন সহ সরকার কতৃপক্ষের আন্তরিকতা। টেলিকম খাতের সমম্যা উল্লেখ করে বক্তারা আওে জানান -টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠার সমুহের ব্যবসায়িক মডেলে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ন তাই সরকার সহ সংশ্লিষ্ঠ সকল খাতের সমন্নয় ব্যাতীত ৫জি প্রচলন ও প্রসার কঠিন।

এছাড়াও ৫জি সেবা চালু হলে তথ্যপ্রযুক্তিখাতের উন্নয়ন সহ বর্তমান অবকাঠামোগত সমস্যা বিশেষ করে ৩জি এবং ৪ জি সেবা প্রদানের সমস্যা সমুহ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা সেই সাথে এই সমস্যা মোকাবেলা সহ ৫জির সম্ভাবনাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়গুলোতে ও আলোক পাত করেন বক্তারা।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২১এম/১৯