৪ দিনব্যাপী সফটওয়্যার মেলার উদ্বোধন

রাজধানীতে শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে সফটওয়্যার মেলা ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭’। ফিউচার ইন মোশন স্লোগান নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

১ ফেব্রুয়ারি বুধবার, অনুষ্ঠানস্থলের সেলিব্রেটি হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এমপি ও তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি। বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বেসিসের পরিচালক ও প্লাটিনাম স্পন্সর মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির এবং বেসিসের পরিচালক ও বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ এর আহবায়ক সৈয়দ আলমাস কবীর।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসিস জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, ফারহানা এ রহমান, বেসিসের পরিচালক উত্তম কুমার পাল, মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, রিয়াদ এস এ হোসেন, বেসিসের সাবেক সভাপতিবৃন্দসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ এর আয়োজক কমিটি, স্পন্সর ও পার্টনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, মিডিয়া ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি খাত বর্তমান সময়ে সকল সমাজের উন্নয়নের চালিকা শক্তি। সফটওয়্যার ও টেকনোলজি প্রত্যেকের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখন সময় এসেছে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সঙ্গে সফটওয়্যার খাতকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া।’

বিশেষ অতিথি আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্বে এখন তথ্যপ্রযুক্তি খাত তিন ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের। তাই সেই বাজার ধরতে এবং দেশের বাজারকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে বেসিস যে কাজ করছে তা অসামান্য। দেশে আইসিটি খাতের আয় বাড়াতে স্থানীয় বাজারকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় চাহিদা পূরণে কাজ করার পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়াতে হবে। এজন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বেসিসকে তার সম্ভাব্য সকল সহায়তা করবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে বেসিসকে সঙ্গে নিয়ে সফটওয়্যার খাতে ২০১৮ সাল নাগাদ ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে এ খাতে ১ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আইসিটি শিল্প গড়ে তোলার কাজ চলছে। আইসিটি খাতে সবচেয়ে বড় প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই খাতে ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। দেশের তরুণরা আগামীতে নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্য থেকে উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্যেই সফটএক্সপোর আয়োজন করা হয়।’

বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘১৯৯৭ সালে বেসিস যাত্রা শুরু করে। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বেসিস এখন তথ্যপ্রযুক্তিতে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে সফটওয়্যার খাতে রপ্তানি আয় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু বেসিস সদস্যভূক্ত প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুসারে এ খাতে আয় ৫৯৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি আয় যোগ করলে রপ্তানি আয় ৭০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এই হিসেবের পার্থক্যের কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সি-ফর্ম। এই ফর্মে ৯ হাজার ৯৯৯ ডলার পর্যন্তও যারা উপার্জন করে তাদেরকে তালিকভুক্ত করা হয় না। এছাড়াও সফটওয়্যার সেবা খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে যা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে যুক্ত হয় না। পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার উপার্জন আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার উপার্জন সমান। এতে মেধার শ্রম রয়েছে। একদিন সর্বোচ্চ রপ্তানি খাত হবে আইসিটি।’

প্রদর্শনীর প্লাটিনাম স্পন্সর মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বেসিসের পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, ‘পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে দেশীয় সফটওয়্যার সম্প্রসারণের সহযোগিতা করে আসছে। মাইক্রোসফট এই প্রদর্শনীতে শিশুদের কোডিং শেখানোর জন্য একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে। এতে ৪০০ শিক্ষার্থীকে কোডিংয়ের প্রাথমিক জ্ঞান দেয়া হবে। এছাড়া দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো থেকে ৫০০ জন নারী উদ্যোক্তা তৈরি করে নিয়ে আসবে মাইক্রোসফট। এ লক্ষ্যে পুরোদমে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।’

বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ এর আহ্বায়ক ও বেসিস পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, ‘দেশের সফটওয়্যারের নিজস্ব চাহিদা পূরণে সক্ষমতা প্রদর্শন ও আস্থা তৈরির জন্যই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।’

যা থাকছে এবারের আয়োজনে

এবারের সফটএক্সপোতে ১৬টি প্যাভিলিয়ন, ৩৬টি মিনি প্যাভিলিয়ন এবং ৫৭টি স্টল থাকছে। প্রদর্শনী এলাকাকে বিজনেস সফটওয়্যার জোন, আইটিইএস এবং বিপিও জোন, মোবাইল ইনোভেশন জোন ও ই-কমার্স জোন এই ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায় প্রসারে থাকছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিজনেস ম্যাচমেকিং সেশন। বাড়তি সুবিধা হিসেবে থাকবে বিজনেস লাউঞ্জ। এছাড়া উল্লেখযোগ্য ইভেন্টের মধ্যে রয়েছে লিডারস মিট, ডেভেলপার কনফারেন্স, টেক উইমেন কনফারেন্সসহ নানা আয়োজন। শিশুদের জন্য থাকছে কোডিং প্রোগ্রাম।

সেমিনার : এবারের সফটএক্সপোতে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে অন্তত ২০টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানস্থলের মিডিয়া বাজার ও উইন্ডি টাউন হলে এসব সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এসব সেমিনারের মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় কোম্পানির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, ডিজিটাল এডুকেশন ও ই-লার্নিং, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারনেট অব থিংকস, অ্যাক্সেস টু ফিন্যান্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, রফতানি বাজার উন্নয়ন, ডেভেলপিং ইনোভেশন ইকোসিস্টেম, ডিজিটাল সার্ভিস ডেলিভারি, আইটি মার্কেট রিসার্চ, কোয়ালিটি সার্টিফিকেশনসহ নানা বিষয়।

টেকনিক্যাল সেশন : এবারের সফটএক্সপোতে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে ১০টির অধিক টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানস্থলের গ্রিন ভিউ হলে এসব সেশন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজিত টেকনিক্যাল সেশনের মধ্যে রয়েছে- এপিআই এক্সচেঞ্জ, ক্রস প্লাটফর্ম গেইম ডেভেলপমেন্ট, এনক্রিপশন অন ক্লাউড ডেটা, মোবাইল ও গেইমিং অ্যাপ্লিকেশনে ইউআই/ইউএক্সের গুরুত্ব, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড সার্ভার ব্যবস্থাপনার সহজ কৌশল, অনলাইন পেমেন্ট সহজীকরণের মাধ্যমে ব্যবসায় উন্নয়ন ও গ্রাহকসেবা বাড়ানো, ব্যবসায় উন্নয়নে ডিজিটাল মার্কেটিং ও অ্যাকাউন্টিং বিপিও : সুপ্ত সম্ভাবনা শীর্ষক বিষয়গুলো।

আন্তর্জাতিক বিটুবি : সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার রফতানি বাড়াতে এবারের বেসিস সফটএক্সপোতে আন্তর্জাতিক বিজনেস টু বিজনেস ম্যাচমেকিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রদর্শনীর প্রথমদিন বিকাল ৩টা থেকে এই বিটুবি ম্যাচমেকিং অনুষ্ঠিত হবে। নেদারল্যান্ড, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ১০টি কোম্পানি বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির সাথে আলাদা বৈঠকে মিলিত হবেন। এর মাধ্যমে তারা একে অন্যের সঙ্গে আগামীতে ব্যবসায় উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে পারবেন। বেসিসের আগের বিটুবির অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে এবারের বিটুবির মাধ্যমে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়ের সুযোগ পাবে।

এন্টারপ্রেওনারশিপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইটি : আয়োজনের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের চাকরির সুযোগ দিতে থাকছে ‘এন্টারপ্রেওনারশীপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইটি’ শীর্ষক আয়োজন। বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহযোগিতায় দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের যথোপযুক্ত জনবল খুঁজে নিতে অংশগ্রহণ করবে। প্রোগ্রামিং, ডিজাইন, মার্কেটিং, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্টিংসহ বিভিন্ন পদের জন্য আগ্রহীরা সিভি জমা দিতে পারবেন। প্রদর্শনীর প্রথম দিন থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে থাকা নির্ধারিত বক্সে সিভি জমা দেওয়া যাবে। সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত ‘এন্টারপ্রেওনারশিপ অ্যান্ড ক্যারিয়ার ইন আইটি’ প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী ও চাকুরিজীবিদের উন্নত ক্যারিয়ার গাইডলাইন দেওয়া হবে। যেখানে অভিজ্ঞ বক্তারা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে করণীয় বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।

ফ্রি ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সেবা : প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে এসেও যাতে অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য খোঁজা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপডেট দেওয়া কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের জরুরি কাজটি সেরে ফেলতে পারেন তার জন্য থাকছে দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সুবিধা।

আগ্রহী যে কেউ অনুষ্ঠানস্থলে কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে আগে থেকেই নিবন্ধন করে বিনা মূল্যে প্রদর্শনীতে প্রবেশ করতে পারবেন। বেসিস সফটএক্সপোর নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.softexpo.com.bd) ভিজিট করে আগ্রহীরা নিবন্ধন করতে পারবেন। সেখানে প্রদর্শনীর বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া প্রদর্শনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ (www.fb.com/BASIS.SoftExpo) থেকে আপডেট পাওয়া যাচ্ছে। একইসাথে বেসিস সফটএক্সপোর অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপও উন্মোচন করা হয়েছে। আগ্রহীরা গুগল প্লে স্টোর থেকে (https://play.google.com/store/apps/details?id=com.bd.softexpo) অ্যাপটি ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে পারবেন। এবারের প্রদর্শনীর সকল আয়োজন, কনফারেন্স, সেমিনার, টেকনিক্যাল সেশন অনলাইনে চারটি চ্যানেলের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করবে অনলাইনভিত্তিক ডিজিবাংলা টেলিভিশন।

বেসিস সফটএক্সপো ২০১৭ আয়োজনে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে রয়েছে মাইক্রোসফট। এছাড়া গোল্ড স্পন্সর হিসেবে সিটি ব্যাংক, সিলভার স্পন্সর হিসেবে এবি ব্যাংক রয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স জোন পার্টনার হিসেবে র‌্যাংকসটেল, ইন্টারনেট পার্টনার হিসেবে আমরা টেকনোলজিস ও ফিনটেক পার্টনার হিসেবে রয়েছে ফ্লোরা সিস্টেমস। সহযোগিতায় রয়েছে আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (আইবিপিসি)।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

 

Please Share This Post.