২৮ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় বিপিও সামিট

আগামী ২৮ ও ২৯ জুলাই বৃহস্পতি ও শুক্রবার দেশে দ্বিতীয় বারের মত অনুষ্ঠিত হবে ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০১৬’। এ আয়োজনের সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে আজ (২৬ জুলাই) মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক, বাক্যের সভাপতি আহমাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই আয়োজনের উদ্দেশ্য লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও ব্যবসার অগ্রগতি সন্তোষজনক যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৮০ মিলিয়ন ডলার। আমাদের পাশের দেশ ভারত, শ্রীলংকা ও ফিলিপাইন বিপিও সেক্টরে সবচেয়ে ভালো করেছে। বিপিও সেক্টরে সারা বিশ্বের ৬০০ বিলিয়ান ডলারের মধ্যে ভারত ১০০ বিলিয়ন, ফিলিপাইন ১৬ বিলিয়ন এবং শ্রীলংকা ২ বিলিয়ন ডলার আয় করছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে এই খাতে ১ বিলিয়ন ডলার আয় করা।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের যে সকল দেশ বিপিও খাতে ভাল করেছে তারা সবাই নিজেদের অভ্যন্তরীণ খাতের বিপিও শিল্পকে শক্তিশালী করেছে। যেমন ভারতের এবছরের লক্ষ্যমাত্রা ১২০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারই আসবে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে। এর অর্থ হলো বিশ্ব বাণিজ্যে ভাল করার জন্য আমাদের বিপিও খাতকে অভ্যন্তরীন মার্কেটেও শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের দেশের কলসেন্টারগুলোর একটা বড় অংশই অভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাচ্ছে। স্থানীয় অভিজ্ঞতার আলোক বিশ্ববাজারে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরার জন্য এবারের সামিটের উপজীব্য হয়েছে -স্থানীয় অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক ব্যবসা।

দ্বিতীয় বিপিও সামিটের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এই সামিটের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বিপিও খাতে আমাদের দক্ষতার কথা যেমন তুলে ধরতে চাই তেমনি চাই আমাদের অভ্যান্তরীন সরকারি-বেসরকারি সেক্টরে বিপিও খাতের সম্প্রসারণ। বাংলাদেশের বিপিও সেক্টরের সাফল্যের গল্পগুলো সবাইকে জানাতে চাই। দেশের তরুণদের কাছে এই সেক্টরকে অন্যতম একটি কাজের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। তিনি জানান, ২ দিনের এই আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। দ্বিতীয় দিন সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া সমাপনী দিনে দেশের বিপিও খাতের সফল উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব বনমালী ভৌমিক, বাক্যের সভাপতি আহমাদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজনকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার ঢাকার সোনারগাঁও প্যান প্যাসিফিক হোটেলে সকাল ১০টায় দুই দিনের আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়া আরও উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহজাহান মাহমুদ, আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, ডাক টেলিযোগাযোগও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ প্রমুখ।

এবারের আয়োজনে মোট ১২ সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এ সেমিনার ও কর্মশালায় দেশ ও বিদেশ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষঙ্গরা অংশগ্রহন করবেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে থাকবে বিশেষ আয়োজন।

উল্লেখ্য, বিপিও সামিট ২০১৬ তে গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলভার স্পন্সর অগমেডিক্স, আভায়া, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, মাইক্রোসফট, আইটি পার্টনার এডিএন টেলিকিম, নেটওয়ার্ক পার্টনার ফাইবার অ্যাট হোম, পার্টনার হিসাবে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি), এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি), ক্যারিয়ার পার্টনার বিক্রয় ডটকম, অ্যাসোসিয়েট পার্টনার সার্ক চেম্বার অফ কমার্স, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যাার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস). বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস), বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির (বিডাব্লিউআইটি), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি তপন কান্তি সরকার, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি), বাংলাদেশে আইসিটি র্জানালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.