বিলিয়ন ডলারের প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হলো বিপিও সামিট ২০১৬

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর যৌথ উদ্যোগে দেশে দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজিত ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০১৬’ শেষ হলো।

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় দুই দিনের এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সিএক্সও নাইট এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ সময় তিনি ২০২১ সালের মধ্যে বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) খাত থেকে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের আশা প্রকাশ করেন। বর্তমানে এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ ১৮০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালে যা ছিল ১৩০ মিলিয়ন ডলার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের তরুণদের স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্নহীন বা গন্তব্যহীন জাতি কোনো দিন ভালো করতে পারে না। বর্তমান সরকার আইসিটি খাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। সরকার আইসিটি খাতে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলছে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি অল্প দিনের মধ্যে আমরা বাংলাদেশ থেকে মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগলের মতো তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বিপিও খাত থেকে আমরা ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের আশা করছি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা এই খাতে ১ লাখ তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সম্মেলনে বিদেশিরা এসে আমাদের বলেছেন বাংলাদেশের সবকিছু ঠিক আছে। এ দেশের তরুণরা রেডি। এটাই আমাদের জন্য বড় স্বীকৃতি। আমরা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দেই তখন আমরা কোনো রূপরেখা ঠিক করে দিইনি। আমরা জানতাম তরুণরাই এসব ঠিক করে নেবে। আমাদের ভাবনা সত্যি হয়েছে, তরুণরাই তাদের গন্তব্য ঠিক করে নিয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তরুণদের প্রযুক্তিক্ষেত্রে আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে। তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যত। তরুণরা এগিয়ে না এলে দেশ এগিয়ে যাবে না। পলক বলেন, আইসিটি বিভাগের বাজেট শতকরা ৫০ ভাগ বেড়েছে। আমাদের দেশের বাজারও বড় হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের যে সকল দেশ বিপিও খাতে ভালো করেছে তারা সবাই নিজেদের অভ্যন্তরীণ খাতের বিপিও শিল্পকে শক্তিশালী করেছে। যেমন ভারতের এবছরের লক্ষ্যমাত্রা ১২০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারই আসবে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে। তাই, আমাদের বিপিও খাতকে অভ্যন্তরীণ মার্কেটেও শক্তিশালী করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা নিয়মিতভাবে বিপিও সামিট আয়োজন করছি। তিনি বলেন, এই সামিটের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বিপিও খাতে আমাদের দক্ষতার কথা যেমন তুলে ধরতে চাই তেমনি চাই আমাদের স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি সেক্টরে বিপিও খাতের সম্প্রসারণ। বাংলাদেশের বিপিও সেক্টরের সাফল্যের গল্পগুলো আমরা সবাইকে জানাতে চাই। দেশের তরুণদের কাছে এই সেক্টরকে অন্যতম একটি কাজের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, আইসিটি অধিদফতরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক ও বাক্যের সভাপতি আহমাদুল হক

সমাপনী অনুষ্ঠানের শেষে ছিল সিএক্সও নাইট। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিপিও খাতে বিশেষ অবদান রাখায় একটি বিদেশি ও ৭টি দেশি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

BPO Summit Closing & CXO Night2

উল্লেখ্য, এবারের সম্মেলনে প্রায় ২৫ হাজার দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেছে। বিদেশী ২৩ জন বক্তাসহ সম্মেলনের মোট বক্তা ছিলো ৭৭ জন। সামিট উপলক্ষ্যে বিপিও খাতে চাকরী প্রত্যাশীদের প্রায় ২১ হাজার বায়োডাটা জমা পড়েছে।

বিপিও সামিট ২০১৬ তে গোল্ড স্পন্সর ছিল সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। সিলভার স্পন্সর ছিল অগমেডিক্স, আভায়া, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, মাইক্রোসফট। আইটি পার্টনার এডিএন টেলিকিম, নেটওয়ার্ক পার্টনার ফাইবার অ্যাট হোম। পার্টনার হিসাবে ছিলো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি), এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)। ক্যারিয়ার পার্টনার বিক্রয় ডটকম। অ্যাসোসিয়েট পার্টনার সার্ক চেম্বার অফ কমার্স, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যাার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস). বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস), বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির (বিডাব্লিউআইটি), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি), বাংলাদেশে আইসিটি র্জানালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.