হাজার বছর জুড়ে ক্যামেরার বিবর্তন

‘ক্যামেরা’ শব্দটা শুনলে আজ হয়ত আমাদের আর তেমন কিছু মনে হয় না। সভ্যতার বিবর্তনের ধারায় এরকম কত আবিষ্কারই তো আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য এসেছে, ক্যামেরা আর বিশেষ কি! কিন্তু অন্য অনেক আবিস্কারের মতই ক্যামেরার বিবর্তনের ধারাটাও খুবই ঘটনাবহুল। রীতিমত হাজার বছরের বিবর্তনের প্রবাহে আজ আমাদের হাতে এসে গেছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরা, যেটি ব্যবহার করে ছবি তুলতে পারে এমনকি দুই বছরের শিশুও। আসুন, ছবিতে আর বর্ণনায় জেনে নেয়া যাক সে বিবর্তনের ধারা।

কামেরা অবসকিউরা
যে মানুষ সর্বপ্রথম ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেন তাঁর নাম নিসেফোর নাইপেক। সালটা ছিল ১৮১৪। তবে তারও বেশ কয়েক’শ বছর আগে, ১০২১ সালে আরব বিজ্ঞানী ইবনে আল হাইতাম তাঁর ‘বুক অব ওপেকস’ গ্রুপে ‘ক্যামেরা অবসকিউরা’ নামে এক ধরনের ক্যামেরার গঠনপ্রণালী বর্ণনা করেন। ইবেন আল হাইতাম লেন্স অথবা পিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট ছিদ্র ব্যবহার করে ছবি তোলার পদ্ধতি বর্ণনা করেন।

এবার ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে এগিয়ে যাওয়া যাক কয়েক শত বছর, চলে আসি ১৯ শতকে। নিউ ইয়র্কে তৈরি হল করোনা ভিউ ক্যামেরা। এটা মূলত ছিল একটি ফিল্ড ক্যামেরা, সহজে বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত। ক্যামেরাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল মেহগনি কাঠের তৈরি সুন্দর কেসিং এবং আকর্ষণীয় লাল রঙের হাঁপর।

১৯ শতকের শেষের দিকে এসে দু ধরনের ক্যামেরা জনপ্রিয় হয়ে উঠল: ফোল্ডিং এবং ফিক্সড বক্স। ‘কোডাক ব্রাউনিং’ (নিচে বামে) ছিল বক্স স্টাইলের আদর্শ উদাহরণ, আর ‘অ্যান্সকো বাস্টার ব্রাউন’ (ডানে) ছিল ফোল্ডিং ক্যামেরার উদাহরণ।

ধাতব শাটারের যাত্রা শুরু
১৯৩৮ সালে এল ইউনিভেক্স মার্কারি ক্যামেরা। অর্ধাচন্দ্রাকৃতির উপরিভাগসহ অনন্য ধাতব রোটারি শাটার সিস্টেম ছিল এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শাটার ডিজাইনটি ভবিষ্যতের ক্যামেরা কেমন হবে তার একটা ইঙ্গিত দিয়ে রাখে।

‘মেইড ইন দ্য ইউএসএসআর’

১৯৬০-এর দিকে বিশ্ব বাজারে অনেক সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের ক্যামেরা এসে গেল। নিচের ডানদিকের ছবিতে দেখা যাচ্ছে কোডাকের ব্রাউনি স্টারলাক্স, আর বামদিকে আছে সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত ফেড থ্রি রেঞ্জফাইন্ডার। রেঞ্জফাইন্ডার বিক্রি হয়েছিল ২০ লাখের মত।

১৯৯০ সালে সর্বপ্রথম ডিজিটাল ক্যামেরা বাজারজাত করা হয়। এর নাম ছিল ‘ডাইক্যাম মডেল ওয়ান’। এটি ‘লজিটেক ফটোম্যান’ নামেও পরিচিত ছিল। মাত্র ৩২০x২৪০ পিক্সেলসমৃদ্ধ এ ক্যামেরা কেবল সাদাকালো ছবি তুলতে পারত, যদিও দাম ছিল প্রায় ১০০০ ডলার। তবে এটাই ডিজিটাল ফটোগ্রাফির ভবিষ্যতের প্রথম আবাহনকারী।

১৯৯৯ সালে এল নাইকন-এর ‘ডি১’ দ্রুত প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের পছন্দের বস্তুতে পরিণত হয়ে যায়। এটি (২.৭ মেগাপিক্সেল, প্রতি সেকেন্ডে ৪.৫ ফ্রেম) নাইকন-এর এফ-মাউন্ট লেন্স-এর পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে সক্ষম ছিল। এরপর আর কোনো পিছু ফেরা নেই, ডিজিটাল ক্যামেরার ঘুড়ি উড়তেই থাকল, উড়তেই থাকল। সে ওড়া এখন দুর্দান্ত গতিতে চলছে।

-ইন্টা. সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২৬এফ/১৯

Please Share This Post.