হজ্ব সেলফিমুক্ত থাকুক

হজ্ব ইসলাম ধর্মলম্বীদের জন্য একটি আবশ্যকীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ সম্পাদন করা ফরজ বা আবশ্যিক।

হজ্ব একটি আধ্যাত্মিক সফর। মহান আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেয় তাদেরই কেবল নসিব হয় হজ্বের মতো মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতের।

হাদিসে আছে, হজ্জে মাবরুর বা আল্লাহর কাছে গৃহিত হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয় (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

আল্লাহর পথের মেহমান ও যাত্রীদের হৃদয়ের এলবামে একে একে ভেসে উঠে পবিত্র নগরী বায়তুল্লাহ, মিনা, মুজদালিফা, সাফা-মারওয়া, মাকামে ইব্রাহিম আর আরাফা ময়দানের নয়ন জুড়ানো দৃশ্যাবলি। কাবার চত্বরে আসতেই নিজেকে আবিষ্কার করেন পরম সৌভাগ্যবান হিসেবে।

যাদের হৃদয়ে আছে আল্লাহর ভয় তারা কখনো আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের কথা ভুলে যায় না। ভুলে যায় না স্রষ্টার দেয়া পথ-নির্দেশনার কথা।

তাই কাবার চত্বরে হাজির হতেই তাদের হৃদয়ে লালন করা কাবার ছবি আরও বেশি জীবন্ত হয়ে উঠে। জীবন্ত হয়ে উঠে হৃদয়ে লালিত স্বপ্ন, বেড়ে যায় ঈমানের জ্যোতি আর আমলের গতি।

বায়তুল্লাহর প্রতিটি পদে পদে, প্রতিটি পদক্ষেপে তারা খুঁজে ফেরেন মহান রবের সন্তুষ্টি। সেই সন্তুষ্টি পেতে চাইলে হজসহ যাবতীয় ইবাদত হতে হবে লৌকিকতামুক্ত, শুধু আল্লাহর জন্য।

পবিত্র কোরআনের ভাষায়, তাদেরকে এ ছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। আর এটাই সঠিক ধর্ম’ (সূরা বায়্যিনাহ: ০৫)।

তবুও জেনে কিংবা না জেনে হজের সফরে গিয়েও আমরা মক্কার স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন জায়গার ছবি কিংবা সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

পবিত্র মক্কাতে অবস্থানকালীন সময়েই টুইটার, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হজের সেই ছবি আপলোড দিয়ে কুড়াতে চাই লাইক আর কমেন্টের প্রশংসা। যাতে রবের সন্তুষ্টির চেয়ে মানুষকে দেখানোর ইচ্ছাই প্রবল হয়ে উঠে। অথচ আমাদের যাবতীয় ইবাদত শুধু রবের সন্তুষ্টির জন্যই হওয়ার কথা।

রিয়া বা লৌকিকতাপূর্ণ এ সব কাজ আমাদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়, আন্তরিকতাকে নষ্ট করে। তাই হাদিসে এমন কাজকে শিরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

রাসূল (সা.) বলেছেন, আমি তোমাদের মধ্য থেকে যা আশঙ্কা করি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শিরকে আসগর বা ছোট শিরক। রাসূল (সা.)-এর সাথীরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল শিরকে আসগর কী?

তিনি উত্তর দিলেন, রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত। আল্লাহতায়ালা কেয়ামতের দিনে মানুষের আমলের প্রতিদান দিবেন। তখন তিনি লৌকিকতা প্রদর্শনকারীদের বলবেন, তোমরা তাদের নিকট যাও যাদের দেখানোর জন্য দুনিয়াতে তোমরা আমল করেছিলে। দেখ, তাদের কাছে কোনো প্রতিদান পাও কিনা! (মুসনাদে আহমদ: ২৩৬৩০. সহিহ তারগিব: ২৯)।

তাই হজ্জ যাত্রীদের উচিত, মোবাইল ফোনে নয়, হজের স্মৃতিময় ছবি ধারণ করতে হবে হৃদয়ের মণিকোঠায়। আর সেই সব ছবি লালন করে নবীর আদর্শে আদর্শিত হতে হবে।

-সিনিউজভয়েস/ডেক্স।যুগান্তর /৬আগস্ট/১৯

Please Share This Post.