স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরাও

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল শনিবার ছিল স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলার শেষদিন। বিকেলেও ছিল জমজমাট ভিড় ও বেচাকেনার উৎসবের মধ্যে মেলা শেষ হয়।

তরুনপ্রজন্ম এখন স্মার্টফোন ছাড়া এক মুহূর্ত চলতে পারেনা। তার প্রমাণ এই মেলার আসা দর্শনার্থীদের দেখেই উপলব্দি করা যায়। তবে ছাড়ের পরিমান আর একটু বেশি হলে  বিক্রয়ের পরিমানও বাড়ত বলে  মনে করছেন প্রযুক্তি প্রেমীরা। মেলায় এসে একজন দর্শক জানান, আর একটু বেশি ছাড় পেলে আমি আরও একটা  স্মার্টফোন ও ট্যাব কিনতাম আমার ছোট ভাইয়ের জন্য।

ক্রেতাদের অভাবনীয় সাড়া দেখে মেলাতে অংশগ্রহণকারী ব্র্যান্ডগুলো শেষদিনের শেষ সময়ে আরো বেশি ছাড় ও অফার দিয়েছে বলে জানা গেছে। তিন দিনের এই  মেলার আশানুরূপ বেচাকেনায় খুব খুশি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে এর একজন কর্মকর্তা সিনিউজকে বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আমরা অনেক বেশি সাড়া পেয়েছি। আয়োজকদের সহযোগিতা ও দর্শকদের প্রচন্ড ভিড় আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমাদের যে টার্গেট ছিলো সেটা অর্জন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

উই মোবাইল এর ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অফ মার্কেটিং মুতাসির হোসেন সিনিউজকে বলেন, আমরা গত ৫ বছর ধরে স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলায়  অংশগ্রহণ করছি। এবার বিক্রির পরিমান বেশি হলেও আমাদের স্টলে দর্শকদের সমাগম কিছুটা কম ছিল। তবে মেলাতে আমাদের লক্ষমাত্রা পূরণ হয়েছে।

নোকিয়া মোবাইলের মাকেটিং ও রিটেইল ম্যানেজার কামরুল খান বলেন, আমার প্রথমদিকে কিছু ফোনের সাথে গিফ্ট দিয়েছিলাম। পরবতীতে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া দেখে আমাদের সব মডেলের ফোনের সাথে গিফ্ট দিয়েছি। সবমিলিয়ে প্রচারনা ও বিক্রি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।

ট্রানশান বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও রেজওয়ানুল হক বলেন, গত মেলা গুলো থেকে এবারের মেলাতে আমরা অনেক বেশি  সাড়া পেয়েছি  এবং আমাদেশ যে লক্ষমাত্রা ছিল তা শতভাগ পুরণ হয়েছে । যা ভবিষ্যৎ এ এধরনের মেলাতে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করবে। এছাড়াও টেকনোর এই কর্মকর্তা জানান, স্মার্টফোনের মার্কেট শেয়ার বাড়াতে আমরা সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

মটোরোলা মোবাইলের পরিচালক সাকিব আরাফাত রনি জানান, আমরা শুধু ৪টা মডেলের ফোন নিয়ে প্রথমবারের মতো মেলায় অংশগ্রহন করেছি মূলত আমাদের ব্রান্ডটাকে প্রচারনার জন্য। আমরা অত্যান্ত সফলতার সাথে সেটা অজন করতে পেরেছি। আমরা খুবই ভালো সাড়া পেয়েছি। এককথায় আমরা আমাদের টার্গেট পূরণ করে সক্ষম হয়েছি। আরো বেশী মডেলের হলো হয়তো আরো বিক্রি বাড়ানো সম্ভব হতো অনন্য মোবাইল ফোনের মতো।

মেলা ঘুরে আমি যেটা দেখেছি, ব্যাপক দর্শনার্থী ও আন্তজাতীক মানের একটা স্মাটফোন মেলা বলা যেতে পারে। তবে অনেক ক্রেতা চাহিদা থাকলেও মেলায় ট্যাবের সংখ্যা খুবই অতপ্রতুল ছিলো। আয়োজকরা জানান, পরবতীতে তারা এ বিষয়ে অংশগ্রহনকারীদের আরো উৎসাহিত করবেন।

এবারের ১০ থেকে ১২ই জানুয়ারী ২০১৯ এর মেলায় অংশগ্রহন করে- হুয়াওয়ে, স্যামসাং, টেকনো, ভিভো, উই, গোল্ডেনফিল্ড, মটোরোলা, নকিয়া, আইফোন, ইউসিসি, আইটেল, ইনফিনিক্স, ইউমিডিজি, ডিটেল, এডিএ, ম্যাক্সিমাস এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান প্রিয়শপ ডটকমসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠান তাদের অংশগ্রহণে উৎফূল্লভাবেই শেষ হল স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলা।

আয়োজকদের পক্ষথেকে একজন কর্মকর্তা সিনিউজ প্রতিবেদকে জানান, মেলাতে এত বেশি ভিড় হয়েছে যে দর্শকদের টিকেট দেওয়া নিয়ে কিছু কিছু সময় আমাদের বেগ পেতে হয়েছে। আর দর্শনার্থীদেরও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে। দর্শকরা প্রযুক্তির আধুনিক সব স্মার্ট ডিভাইস যাচাই বাছাই করে দেখতে ও কিনতে পেরেছে। আমরা আয়োজক হিসেবে প্রতিবারের ন্যায় অংশগ্রহনকারী ও দর্শনার্থীদের শতভাগ লজেস্টিক সহযোজিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, এবং অত্যান্ত সফল ও সুন্দরভাবে সকলের সহযোগিতায় শেষ করতে পেরেছি।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

 

 

Please Share This Post.