কোন পথে যাচ্ছে স্মার্টফোনের বর্তমান ট্রেন্ড : সাকিব আরাফাত

স্মার্টফোনের বর্তমান অবস্থা ও বিভিন্ন ট্রেন্ড নিয়ে সম্প্রতি সিনিউজ এর সাথে কথা বলেছেন, সাকিব আরাফাত, পরিচালক, টেলিকম বিজনেস, স্মাট টেকনোলজিস। তার সাথে স্মার্টফোন নিয়ে কথোপকথন আমাদের পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো:-

সিনিউজভয়েস: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে সেটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

সাকিব আরাফাত : স্মার্টফোন ব্যাবহারের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে সেটা অবশ্যই বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক উন্নতি নির্দেশ করে। বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪৫% ই স্মার্টফোন ব্যাবহারকারি। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, স্মার্টফোন কোম্পানি গুলোর মধ্যআয়ের মানুষ এবং ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ফোনের দাম নির্ধারণ এই অগ্রগতির অন্যতম কারন। ইতিবাচক ভাবে চিন্তা করলে এই স্মার্টফোন ব্যাবহারের অগ্রগতি দেশের উন্নতিতেও ভুমিকা রাখবে। কম্পিউটারের পরিপূরক হিসাবে স্মার্টফোন ব্যাবহৃত হওয়ায় অনেক কাজ এখন সহজেই হয়ে যাচ্ছে। দৈনন্দিন কাজের একটা বড় অংশে অবদান রাখছে স্মার্টফোন।

সিনিউজভয়েস: স্মার্টফোন প্রযুুক্তিতে আগামী পাঁচ বছরে কোন কোন নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলে আপনার ধারণা?

সাকিব : গত ৫ বছর আগে যে সব প্রযুক্তির কথা আমরা শুধুমাত্র সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় দেখেছি এমন অনেক কিছুই এখন বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনে আছে। আগামী ৫ বছরেও যে স্মার্টফোনের প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য অগ্রগতি হবে তা সহজেই ধারণা করা যায়। বিশেষ কিছু প্রযুক্তির কথা আলাদা ভাবে বলা যায় যেমন কম যায়গা দখল করে কিন্তু অধীক কর্মক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি। তাহলে আরো স্লিক ডিজাইনের ফোন বানানো যাবে যেটা দেখতে আকর্ষণীয় এবন লং লাস্টিং ব্যাটারি সম্পন্ন। ক্যামেরার প্রযুক্তির উন্নয়নও হবে ধারণা করা যায়। এখন শুধু বিশেষ কিছু হাই বাজেটের ফোন দিয়েই 4k ভিডিও করা যায়। ভবিষ্যতে হয়তো মিডরেঞ্জের ফোনেও এই প্রযুক্তি এসে যাবে। এছাড়াও 3D ক্যামেরাও যুক্ত হতে পারে। বর্তমানে ফোনের সিকিউরিটির জন্য ফিংগার প্রিন্ট আনলক, ফেইস আনলক, রেটিনা আনলক ইত্যাদি ব্যাবহার হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তি থেকেও উন্নত কিছু যেমন ব্রেন অয়েবের মাধ্যমে আনলক। বর্তমানে এই প্রযুক্তি ৯৪ % কার্যকর। সামনের দিনগুলাতে AR & VR প্রযুক্তি একটা বড় স্থান দখল করে নিবে।

সিনিউজভয়েস: বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের স্মার্টফোন ব্যবহারকে আরো ফলপ্রসু করার ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

সাকিব : বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যাবহারকে আরো ফলপ্রসূ করতে আমার পরামর্শ গুলো নিচে উল্লেখ করলাম 1) মধ্য আয়ের মানুষের আয়ত্তের ভেতরে ফোনের দাম নির্ধারণ করা। ২) গ্রামের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে বেশি ব্যাটারি ক্ষমতা সম্পন্ন ফোন প্রতিযোগিতা মূলক দামে বাজারে আনা ৩) শিশু কিশোর দের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ফিচার যেমন শিক্ষামূলক বিল্ট-ইন এপ, প্রাপ্তবয়স্কদের সাইটের এক্সেস ছাড়া ফোন বাজারজাত করা যেতে পারে।

Shakib-arafat-bd

সিনিউজভয়েস: তরুণ সমাজে মাত্রাতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের যে প্রবণতা সেটিকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখছেন?

সাকিব :  তরুণ সমাজের মাত্রাতিরিক্ত ফোন ব্যাবহার আমি ইতিবাচক ভাবেই দেখছি। সহজ ভাবে বললে বর্তমান সময়ের সবকিছুই মোটামুটি ইন্টারনেট নির্ভর। আর স্মার্টফোন ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে সহজলভ্য মাধ্যম। স্মার্টফোনের মাধ্যমে যেমন ক্লাস নোটস বানানো যায়। ক্লাস লেকচারের ভিডিও দেখা যায়। ইন্টারনেট থেকে পড়াশোনা সম্পর্কিত অনেক কিছু জানা যায়। তেমনিভাবে ছবি তোলা, ভিডিও করাও যায়৷ অবসরে গেম খেলা,গান শোনা, মুভিও দেখা যায়।বন্ধুদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আড্ডা দেয়া যায়। বলতে গেলে দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুই শুধুমাত্র স্মার্টফোনের মাধ্যমেই করা যায়। মোবাইল ফোন / বিকিরণ বিপদ এবং তাদের অনেকেই স্মার্টফোনগুলিতে অত্যন্ত নির্ভরশীল। গবেষণার জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ স্মার্টফোনের ব্যবহারের কারণে কব্জি এবং হাত ব্যাথা অনুভব করছিল যা আরও শারীরবৃত্তীয় এবং শারীরবৃত্তীয় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার বেশিরভাগই (বিশেষত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র) অ্যাপ্লিকেশনগুলির বিস্তৃত কারণে স্মার্টফোন ব্যবহার করে। অনেক উপায়ে উপকারী হলেও, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কর্মক্ষেত্রে কার্যকারিতা হ্রাস, ব্যক্তিগত মনোযোগ, সামাজিক উদ্বেগ, এবং মানসিক আসক্তি হিসাবে এর অসুবিধা রয়েছে। বর্তমানে, ছাত্রদের মধ্যে স্মার্টফোনের আসক্তি 24.8% -27.8%, এবং এটি ক্রমবর্ধমান প্রতি বছর বাড়ছে। সমালোচনামূলক পরিস্থিতিতে পরিচালনার এবং সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ছাত্রদের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। এই আচরণ চিন্তা ক্ষমতা কমাতে পারে, জ্ঞানীয় ফাংশন প্রভাবিত করতে পারে। স্মার্টফোনের আসক্তির লক্ষণ হিসেবে বলা যায়- ক্রমাগত ফোনটি ছাড়াই ফোনটি চেক করছে, ফোন ছাড়া উদ্বিগ্ন বা অস্থির বোধ করছে, মোবাইল এবং যোগাযোগের আপডেটগুলি পরীক্ষা করার জন্য রাতের মাঝখানে জেগে উঠছে, ইত্যাদি। দীর্ঘস্থায়ী ফোন ব্যবহার এর ফলে পেশাদার কর্মক্ষমতাতে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ব্যাবহারের নেতিবাচক প্রভাব বলতে বলা যায় অতিরিক্ত আসক্তি এবং এর অপব্যবহার। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেখা যায় স্মার্টফোন, ট্যাব ইত্যাদি নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকতে। যা তার মানষিক বিকাশে একটি বাধা। স্মার্টফোন আমাদের জীবনের একটি অংশ, জীবন নয়। অনেক তরুণ স্মার্টফোন ব্যাবহার করে সাইবার ক্রাইম করছে। স্মার্টফোনের সহজ লভ্যতা এর অন্যতম কারণ। কিন্তু বিশ্লেষণ সংস্থা ফ্লুরির দ্বারা প্রকাশিত নতুন তথ্যের উপর ভিত্তি করে, লোকেরা প্রতিদিন অন্তত 5 ঘন্টা স্মার্টফোনের ব্যবহার করে। তারা আরও যোগ করেছেন যে ২017 সালের শেষ নাগাদ মানুষের অ্যাপ্লিকেশনগুলি 69% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে “বাস্তব” সামাজিক মিথস্ক্রিয়া হ্রাস পায়। লোকেরা তাদের স্মার্টফোনের সাথে আরও বেশি সময় কাটানোর ঝোঁক হিসাবে বাইরে আর লোকেদের সাথে যোগাযোগ করে না। উৎপাদনশীলতা সত্ত্বেও, স্মার্টফোন সত্যিই বিভ্রান্তিকর হতে পারে। বার্তাগুলি, আপডেটগুলি, সর্বশেষ অফারগুলি ইত্যাদি থাকলে অ্যাপ্লিকেশনগুলি আপনাকে অবহিত করে। এটি এমন গতিবেগকে বাধা দেয় যা আপনার উত্পাদনশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। আপনি যখন এই বিজ্ঞপ্তিগুলিতে উপস্থিত হবেন, তখন আপনি নিজের সাথে ফোনে সংযুক্ত হবেন। স্মার্টফোনকে শুধুমাত্র ইতিবাচক কাজে ব্যাবহার করা উচিৎ। কিন্তু এর প্রয়োগ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। যেমন ট্রাকিং সিস্টেম সব স্মার্টফোনে চালু করা হলে কেউ সহজে স্মার্টফোন ব্যাবহার করে অবৈধ কাজ করতে পারবে না। এর ভাল খারাপ দুটো দিকএটা সম্পুর্নই আমার ব্যাক্তিগত মতামত।

সিনিউজভয়েস: স্মার্টফোন ব্যবহারের নেতিবাচক কোনো প্রভাব কি আছে? থাকলে সেটি কী? এটিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের জন্য কী করা উচিত?

সাকিব : স্মার্টফোন ব্যাবহারের নেতিবাচক প্রভাব বলতে বলা যায় অতিরিক্ত আসক্তি এবং এর অপব্যবহার। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেখা যায় স্মার্টফোন, ট্যাব ইত্যাদি নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকতে। যা তার মানষিক বিকাশে একটি বাধা। স্মার্টফোন আমাদের জীবনের একটি অংশ, জীবন নয়। অনেক তরুণ স্মার্টফোন ব্যাবহার করে সাইবার ক্রাইম করছে। স্মার্টফোনের সহজ লভ্যতা এর অন্যতম কারণ। স্মার্টফোনকে শুধুমাত্র ইতিবাচক কাজে ব্যাবহার করা উচিৎ। কিন্তু এর প্রয়োগ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। যেমন ট্রাকিং সিস্টেম সব স্মার্টফোনে চালু করা হলে কেউ সহজে স্মার্টফোন ব্যাবহার করে অবৈধ কাজ করতে পারবে না।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ/০৭মে/১৯

Please Share This Post.