স্পাইঅয়্যার: প্রতিরোধের এখনই সময়

আমাদের মধ্যে অনেকেই এখন স্পাইঅয়্যার সম্বন্ধে জানে এবং জানে এর নানা রকম বিপদাপদ সম্বন্ধেও। কিন্তু তারপরও সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা এখনও স্পাইঅয়্যারের বিপদ সমন্ধে প্রকৃতপক্ষে সচেতন কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ থেকেই যায়। আমরা জানি, স্পাইঅয়্যার হচ্ছে এমন সফটঅয়্যার যেটি আপনার কম্পিউটারে ঘাপটি মেরে বসে থাকে এবং আপনার অনলাইন আচরণ, কম্পিউটার ব্যবহারের ধরনসহ নানা রকম ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় একটি পক্ষের কাছে পাঠাতে থাকে নিয়মিত ভিত্তিতে। স্পাইঅয়্যার বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যেমন ইন্টারনেট ব্যবহারের অভ্যাস, যেসব সাইট প্রায়ই ভিজিট করা হয় ইত্যাদি। এটি কম্পিউটারের উপর নিয়ন্ত্রনও নিয়ে নিতে পারে – অযথা বাড়তি সফটওয়্যার ইনস্টল করে, ওয়েব ব্রাউজারের কার্যক্রম রিডাইরেক্ট করে দেয়, বেশী ভাইরাসযুক্ত সাইটে নিয়ে যায় যা পিসির জন্য ক্ষতিকর। স্পাইঅয়্যার কম্পিউটারের সেটিংস ও রেজল্যুশন পাল্টে ধীর গতির কানেকশন দিয়ে রাখে, ভিন্ন হোমপেজ সেট করে দেয় বা ইন্টারনেট বা অন্য প্রোগ্রামগুলো হারিয়ে ফেলে বা মুছে দেয়। তবে মনে রাখতে হবে, এটি কোনো ভাইরাস নয়। এজন্য অ্যান্টি ভাইরাস সফটঅয়্যার দিয়ে এটি ধ্বংস করা যায় ন্যা।

কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনার কম্পিউটারে স্পাইঅয়্যার বসে আছে? অনেক স্পাইঅয়্যার প্রোগ্রাম আছে যেগুলো উইন্ডোজ স্টার্ট আপ-এর অঙ্গভুক্ত প্রোগ্রামের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে নেয় এবং আপনার কম্পিউটার স্টার্ট নেয়ার সময় নিজেকে স্টার্ট করে, এক সঙ্গে এত প্রোগ্রাম স্টার্ট আপ-এর সময় লঞ্চ করার অর্থই হল কম্পিউটারের স্টার্ট আপ স্লথগতির হয়ে যাওয়া, যা আপনার জন্য বিরক্তিকর কিছু সময় নিয়ে আসবে। এসব ক্ষেত্রে বুঝতে হবে, কম্পিউটারে স্পাইঅয়্যার আছে। আরো মুশকিল, স্পাইঅয়্যার স্টার্টআপগুলো সাধারণত নিজেদেরকে Registry-র অংশ করে নেয়, মানে ঐ প্রোগ্রামটি সবসসময়ই ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করতে থাকে, প্রসেসিং টাইম এবং সিস্টেম র‌্যাম অনর্থক নষ্ট করতে থাকে তারা, অকর্মা ধনীর দুলালের মত!
মনে রাখতে হবে, স্পাইঅয়্যার ভাইরাসের মত সরাসরি ক্ষতি করে না, এটি আপনার কম্পিউটারে ইনফেকশন ঘটায় না, তবে এটি পরগাছার মত বসে থেকে আপনার মূল্যবান কম্পিউটিং রিসোর্স নষ্ট করে এবং ভাইরাস কর্তৃক ইনফেকশনের পথ করে দিতে পারে। কাজেই এটি পরিত্যাজ্য। স্পাইঅয়্যার দূর করার জন্য সবচেয়ে ভাল অ্যান্টি-স্পাইঅয়্যার সফটঅয়্যার হচ্ছে অ্যাডঅ্যাওয়ার (AdAware)। এটি এবং আরো কিছু সফটঅয়্যার স্পাইঅয়্যার স্ক্যান ও প্রতিরোধ করায় ভাল কাজ করে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, বর্তমানে বিবেকহীন স্পাইঅয়্যার নির্মাতারা কিছু কিছু এন্টি স্পাইঅয়্যার প্রোগ্রামের মধ্যেও ঢুকিয়ে দিয়েছে স্পাইঅয়্যার। এ ধরনের ছদ্মবেশী স্পাইঅয়্যার ছড়ানো প্রোগ্রামের একটি তালিকা আপনি পাবেন www.spywarewarrior.com সাইটটটি ভিজিট করলে। এ ধরনের কিছু খারাপ প্রোগ্রাম স্পাইঅয়্যার সরাতে গিয়ে বিদ্যমান ইনফেকশন দূর করবে বটে, কিš‘ সে জায়গায় রেখে দেবে তার নিজস্ব কিছু স্পাইঅয়্যার। আবার কিছু তথাকথিত এন্টি স্পাইঅয়্যার প্রোগ্রাম আছে যেগুলো তাদের নিজস্ব কিছু স্পাইঅয়্যার রেখে বাকী স্পাইঅয়্যারগুলোকে মুছে ফেলবে, মানে সমস্যা পুরোপুরি দূরীভূত হবে না।

মনে রাখতে হবে, অন্য কোনো বৈধ সফটঅয়্যারের কাঁধে চড়ে সুবোধ বালকের মত আপনার কম্পিউটারে আস্তানা গেড়ে বসতে পারে এই স্পাইঅয়্যার জিনিসটা। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কম্পিউটারে ঢুকে পড়ে স্পাইঅয়্যার। বর্তমানে একের পর এক সিকিউরিটি আপডেট রিলিজ করে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারকে আগের চাইতে নিরাপদ করে তোলা হয়েছে বটে, তবে যেহেতু সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি লোক এটি ব্যবহার করে থাকে সেহেতু খারাপ সফটঅয়্যার এবং স্পাইঅয়্যার নির্মাতারা বরাবরের মত এখনও ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারকেই তাদের মূল টার্গেট করে রেখেছে। এছাড়াও আপনার কম্পিউটার ও ব্রাউজারের সিকিউরিটি ব্যবহার দুর্বল হলে কিছু বিশেষ ওয়েব সাইট ভিজিট করলে স্পাইঅয়্যার আপনর কম্পিউটারে ঢুকতে পারে। আবার কখনো কখনো ভাইরাস বা ট্রোজান হর্সের সঙ্গেও সঙ্গেও তাদের মাসতুতো ভাইয়ের মত চেহারা করে ঢুকে পড়তে পারে স্পাইঅয়্যার। আবার ইন্টারনেট কুকি-কেও অনেকে স্পাইঅয়্যার-এর অংশভুক্ত করে থাকেন। এগুলো হচ্ছে ছোট ছোট টেক্সট ফাইল যেগুলো আপনরা ব্রাউজার ক্যাশে থাকে এবং আপনি নির্দিষ্ট কোনো ওয়েব সাইট ভিজিট করলে সে সম্বন্ধে ইনফরমেশন সংগ্রহ করে। এগুলো এ জন্যই দেয়া হয় যে, জনপ্রিয় শপিং সাইটগুলো আপনি যদি দ্বিতীয়বারের মত ভিজিট করেন তাহলে তারা আপনাকে মনে রাখতে পারে, প্রতিবার ভিজিট করলে যাতে আপনাকে লগ ইন করার ঝামেলায় যেতে না হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য।

আপনার কম্পিউটার স্পাইঅয়্যার দ্বারা আক্রান্ত কিনা সেটি পরীক্ষা করার একটি ভাল উপায় হচ্ছে একটি ফায়ারওয়াল ইনস্টল করা যেটি আপনার কম্পিউটার সিস্টেমে ইনকামিং এবং আউটগোয়িং উভয় ধরনের ডাটাকেই মনিটর করবে। বিনামূল্যে প্রাপ্তব্য সিগেট পারসোনাল ফায়ারওয়াল (Sygate personal firewall) উপাত্তের মুভমেন্টের গ্রাফ প্রদান করে যা আপনার জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হতে পারে। ডাটা-র ইন এবং আউটফ্লো মনিটর করার সময় একটি দরকারী তথ্য মনে রাখবেন: আপনার কম্পিউটারের কিন্তু ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য ডাটা সেন্ড এবং রিসিভ করতে হয়, তবে যত সেন্ড করছে রিসিভের পরিমাণ তার চাইতে কম হওয়া উচিৎ, এবং এটাই স্বাভাবিক প্রকৃতি। সাইগেট ব্যবহার করে কিভাবে আপনি ডাটা মুভমেন্ট মনিটর করবেন তা এর ওয়াকথ্রো ম্যানুয়ালে ভালভাবে বলা আছে। ওয়াকথ্রো-টি মন দিয়ে খেয়াল করবেন। স্পাইঅয়্যারকে নিকেশ করার জন্য আরো কিছু ভাল সফটওয়্যার হচ্ছে:
– এড-এওয়্যার (এসই পারসোনাল এডিশন)
– স্পাইবোট সার্চ এন্ড ডেস্ট্রয়
-মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ডিফেন্ডার
এদের মধ্যে অ্যাড-এওয়্যার সবচেয়ে সহজে ব্যাবহার করা যায়। সফটওয়্যারগুলি ডাউনলোড করা হয়ে গেলে ইনস্টল করার পর পরই পিসি ফুল স্ক্যান করতে হবে। নিরাপত্তার জন্য একাধিক সফটওয়্যার বাবহার করা উচিত কারণ কোন এন্টি-স্পাইওয়্যারই ১০০ ভাগ হুমকিকে চিহ্নিত করতে পারে না। তাই একটি সফটওয়্যার কোনও স্পাইওয়্যার মারতে না পারলেও যাতে অন্যটা সেগুলি ধ্বংস করতে পারে সেজন্য একাধিক এন্টি-স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা ভাল।

-সিনিউজভয়েস ডেক্স