স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ দ্বিতীয় পর্বে প্রতি আইডিয়া পাবে ১০ লক্ষ টাকা

শুরু হল জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা “স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ” এর দ্বিতীয় অধ্যায়। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার আইসিটি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত হয় এর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এর অধীনে “উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমী প্রতিষ্ঠাকরণ শীর্ষক প্রকল্প বা আইডিয়া প্রকল্প” এবং সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর আওতাধীন দেশের শীর্ষস্থানীয় তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়াং বাংলা’ এর সহযোগিতায় এই উদ্যোগটি আয়োজিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল দেশের অগ্রগতি এবং উন্নয়নে অবদান রাখতে যাদের উদ্ভাবনী পরিকল্পনা আছে এমন তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করা।

স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ” এর দ্বিতীয় অধ্যায় উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক এমপি ।

তিনি বলেন, “বিশ্ব বর্তমানে তারুণ্যের সংকটে রয়েছে। আমরা সেখানে দারুণ এক অবস্থানে রয়েছি। আমাদের দেশের ৭ কোটির বেশি মানুষ বর্তমানে প্রাইমারি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে লেখা পড়া করছে। প্রতি বছর কর্মক্ষেত্রে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ২০ লাখ মানুষ। এখন আমাদের লক্ষ্য, তারুণ্যের শক্তিকে কিভাবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে আমরা ব্যবহার করতে পারব। কিন্তু এত মানুষ যদি শুধু চাকরী করে, তাহলে সরকারি বা বেসরকারি কোন উদ্যোগেই কর্মসংস্থান প্রদান করা সম্ভব হবে না।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিথ ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর সহোযোগী সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ, আইডিয়া প্রকল্পের ডিপিডি কাজী হোসেনেআরা সহ অনেকে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এর নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব।

সারাদেশের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। এ ছাড়াও দেশের ১০০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত বুথের মাধ্যমেও রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার থেকে শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য ২৫ টি ভেন্যু থেকে ৭৫ টি প্রকল্প বাছাই করা হবে। সেখান থেকে বিজয়ী ১০ টি স্টার্টআপের প্রতিটিকে ১০ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেয়া হবে । সেই সঙ্গে শীর্ষ ৩০-এ থাকা অপর ২০ স্টার্টআপও রানারআপ হিসেবে আইডিয়া প্রকল্প থেকে গ্রুমিং ও বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পাবে। প্রশিক্ষণ শেষে স্টার্টআপ গুলো প্রস্তুত হলে তাদের জন্যও অনুদান প্রদান করবে আইডিয়া প্রকল্প। ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ে অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য ভিজিট করতে হবে-  www.s2s.startupbangladesh.gov.bd এছাড়া নিবন্ধনের লিংকটি স্টার্টআপ বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইটেও ( www.startupbangladesh.gov.bd ) পাওয়া যাবে।

এর আগে গত মে ২০১৯- এ “স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ” এর প্রথম অধ্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হয় যেখানে মোট ৩০ টি স্টার্টআপ আইডিয়া প্রকল্পের অফিসিয়াল ‘সিলেকশন কমিটি’র মুখোমুখি হয়। সবশেষে বিজয়ী হিসেবে সেরা ১০ টি স্টার্টআপকে ১০ লক্ষ টাকা করে সরাসরি অনুদান প্রদান করার পাশাপাশি বাকি ২০ টি স্টার্টআপকে গ্রুমিং এর জন্য নির্বাচিত হয়।

এবার বাছাইকৃত ভেন্যুগুলো হলো- চট্টগ্রাম-১ (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), চট্টগ্রাম-২ (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), রাঙ্গামাটি (রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), রাজশাহী (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), দিনাজপুর (হাজী মুহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), রংপুর (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়), সিলেট (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), যশোর (যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), খুলনা (খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), কুষ্টিয়া (ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়), বরিশাল (বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়), পটুয়াখালী (পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), নোয়াখালী (নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), পাবনা ( পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), কক্সবাজার (কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি), নাটোর (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), ঢাকা দক্ষিণ (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ঢাকা নর্থ (ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ), গাজীপুর (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়), ময়মনসিংহ (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), টাঙ্গাইল (মাওলানা ভাষানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), গোপালগঞ্জ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), কুমিল্লা (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়) ও ফেনী (ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়)।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়াও প্রায় ১০০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ও দেশের শীর্ষস্থানীয় তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়াং বাংলা’ এর ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডরগণ এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে।

২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার অন্যতম স্তম্ভ হল একাডেমিক শিক্ষাকে সরকারী এবং বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগগুলোর সাথে যুক্ত করা। জাতীয়ভাবে ইনোভেশন কালচার ও অন্ট্রাপ্রেনরিয়াল সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের ভিত্তি গঠন করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

সিনিউজভয়েস/জিডিটি/১৫সেপ্টেম্বর/১৯

Please Share This Post.