সিটিও ফোরামের আইটসিটি নিরাপত্তা নিয়ে সেমিনার আগামী ৩ নভেম্বর

সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ আগামী ০৩ নভেম্বর ২০১৬ ইং সিএ টেকনোলজীর সহায়তায় ”এসিউর এন্ড সিকিউর ইউর সার্ভিসেস ইন দ্যা এপ্লিকেশন ইকোনমি” শীর্ষক ঢাকায় একটি সেমিনারের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সেমিনারের মুল প্রতিপাদ্য বিষয় সাংবাদিকদের অবহিত করার জন্য গত ০১ নভেম্বর সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার বলেন সিটিও ফোরাম তার জন্মলগ্ন থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। গত দুই বছর সিটিও ফোরাম শুধু তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে অনেকগুলো সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে যেখানে দেশী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের তথ্য ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সব সেমিনারে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিখাতের নিরাপত্তার দুর্বলতাগুলো ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান তথা ব্যাংকিং সেক্টরে নিরাপত্তার ঝুকিটা সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ঘটনার পরও অনেক ব্যাংক এখনও নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় যতটুকু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা তারা নিচ্ছে না। আমরা সিটিও ফোরাম থেকে এই বিষয়ে গত দুই বছর ধরে সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। কিন্তু আমরা এখনও আশানরূপ ফল দেখছিনা।
তপন কান্তি ব্যাংকিং সেক্টরে সাইবার অপরাধের কিছু তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, ৬ জানুয়ারী ২০১৩ সালে ইসলামি ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক করে ’হিউম্যান মাইন্ড ক্রেকার’। গত ২ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে ’মুসলিম হ্যাকার’ নামে একটি দল সোনালী ব্যাংকের নেটওয়ার্ক সিটিউরিটি ভেঙ্গে কয়েক ঘন্টার জন্য ওয়েবসাইটের পুরো কন্ট্রোল নিয়ে নেয়। ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সালে এটিএম এর জালিয়াতি সবার সামনে আসে এবং এর পর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের বড় ধরনের প্রতারনার ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, পি.ডব্লিউ.সি এর ২০১৬ সালের জরিপে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অপরাধের মধ্যে সাইবার অপরাধ দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। ক্যাসপারিস্কি ল্যাবের ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের গবেষনায় দেখা যায় কম্পিউটারের সাথে বিভিন্ন এক্সটারনাল ডিভাইস ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশী নিরাপত্তা ঝুকিঁর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে প্রতিটি দেশে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলো যখন আসে তখন নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে চলে আসে। এই বিষয়ে আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে। এই সব বিষয় মোকাবেলার জন্য যেমন দক্ষ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দরকার পাশাপাশি দরকার প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আমাদের দেশে বর্তমানে ই-কমার্সের প্রসার হচ্ছে। তাই ইলেক্ট্রনিক লেনদেনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পিসিআই-ডিএসএস ও ইএমভির মত প্রযুক্তি ব্যাবহার বাধ্যতামুলক করতে হবে। এপ্লিকেশন ইকোনমিতে কিভাবে আমদের সার্ভিসগুলো আরও নিরাপদ করতে পারি সে বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই সেমিনারে অংশগ্রহন করবেন বলে আমরা আশা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ৩ নভেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন আইসিটি বিভাগের  সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সিএ টেকনোলজীস এর সিনিয়র কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিমেষ সাহায়। সেমিনারের দ্বিতীয় ভাগে সিটিও ফোরামের সভাপতি  তপন কান্তি সরকারের সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে ।
গত কালকের সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ড. ইজাজুল হক, কোষাধক্ষ্য জনাব মোঃ মইনুল ইসলাম ও কার্যকরী কমিটির সদস্য সুলতান বাদশা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

Please Share This Post.