সিইবিআইটি মেলায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানের সাথে হুয়াওয়ের অংশগ্রহন


সিইবিআইটি (CeBIT) ২০১৭- তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) কৌশল ও সমাধান প্রদর্শনে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বে গিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। ‘লিডিং নিউ আইসিটি, দ্য রোড টু ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জার্মানির হ্যানোভারে চলতি মাসের ২০ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক এ মেলা।

বর্তমানে ডিজিটাল যুগে এন্টারপ্রাইজগুলোর ক্ষমতায়নে সিইবিআইটি- তে পরবর্তী প্রজন্মের তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্মোচন করেছে হুয়াওয়ে। এক্ষেত্রে, একটিমাত্র ব্যবস্থার মধ্যেই একসাথে রয়েছে ভয়েস, ভিডিও, ইন্টারকম, মনিটরিং ও আইওটিসহ অন্যান্য সেবা। সেবাগুলো লাইসেন্স করা ও লাইসেন্স বিহীন ব্যান্ড উভয় ক্ষেত্রেই এ শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে আনুমানিক প্রায় ৭ বিলিয়ন সংযোগের সুযোগ তৈরি হবে। সর্বদা সংযুক্ত পরিবর্তনশীল এ বিশ্বে হুয়াওয়ের নতুন এ সল্যুশন এন্টারপ্রাইজগুলোর ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরাণ্বিত করবে, পাশাপাশি, নতুন যুগের সূচনার দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করবে। হ্যানোভারে প্রদর্শনীর কেন্দ্রে ৩৫শ’ বর্গফুটের বুথে হুয়াওয়ে ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং এ ইকোসিস্টেমের জন্য অভিনব আইসিটি ব্যবস্থা ও সল্যুশন প্রদর্শন করে। পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী গ্রাহক ও অংশীদারদের ডিজিটাল ব্যবসাকে অত্যাধুনিক করে তুলতে ডিজিটাল রূপান্তরের সর্বোত্তম অনুশীলন ও পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।

হুয়াওয়ে বিজনেস গ্রুপের কৌশল ও লক্ষ্য সিইবিআইটি ২০১৭ এর প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ডি কোনোমি, নো লিমিটস’ এর সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি নীতি নির্ধারকদের অর্থনীতি, জন ব্যবস্থাপনা,  ডিজিটাল সমাজ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ব্যাপারে নির্দেশনামূলক।

হুয়াওয়ে ‘প্ল্যাটফর্ম প্লাস ইকোসিস্টেম’ কৌশলের বাস্তবায়নকে উৎসাহিত করতে বৈশ্বিক ওপেন ল্যাব কর্মসূচির উন্মোচন করে। এ কর্মসূচি কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার মাধ্যমে বিশেষ শিল্পখাত বিষয়ক উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আসবে, আইসিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে যা ভবিষ্যতের স্মার্ট সমাজ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে। আগামী তিন বছরে হুয়াওয়ের ২শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এমন আরও ১৫টি ওপেনল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২০টি ওপেনল্যাব থাকবে।

সিইবিআইটি ২০১৭- এর প্রদর্শনীর স্থানে হুয়াওয়ের ‘ব্যবসা’, প্রযুক্তি’ ও ‘ইকোসিস্টেম’ – এর জন্য উদ্ভাবনী আইসিটি পণ্য, সল্যুশন, ও সাফল্য গাঁথা প্রদর্শিত হয়। ‘ব্যবসা’ প্রদর্শন স্থানে গ্রাহকের ডিজিটাল রূপান্তরে সুযোগ করে দেয়া হুয়াওয়ের সল্যুশনস ও সাতটি শিল্পখাতে সাফল্য গাঁথার ওপর আলোকপাত করা হয়। এর মধ্যে ছিলো স্মার্ট সিটি, অর্থ ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন, বৈদ্যুতিক শক্তি, ট্রান্সপোর্টেশন, মিডিয়া ও আইএসপি।

‘প্রযুক্তি’ প্রদর্শনী এলাকায় হুয়াওয়ের ‘ক্লাউড-পাইপ-ডিভাইস’ সিনার্জি ভিত্তিক নতুন আইসিটি অবকাঠামো প্রদর্শন করা হয়। এ অবকাঠামোতে একসাথে সাতটি মূল প্রযুক্তি একসাথে করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইওটি (সুরক্ষা প্রদান সহ), উন্মুক্ত ক্লাউড, তথ্যকেন্দ্র অবকাঠামো, সকল ক্লাউড ভিত্তিক নেটওয়ার্ক (সুরক্ষা প্রদান সহ), ক্লাউড যোগাযোগ, এন্টারপ্রাইজ ওয়্যারলেস এবং অন্যান্য সেবাসমূহ। একসাথে টেকসই ইকোসিস্টেম নির্মাণে হুয়াওয়ের অংশীদার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এসএপি, অ্যাকসেনচার, ইনফোসিস, টি-সিস্টেম, কুকা, হেক্সাগন, থ্যালস, অ্যালস্টম ও সিমেন্স

ফরচুন ৫০০ প্রতিষ্ঠানের এক তৃতীয়াংশের বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশীদার হিসেবে হুয়াওয়েকে বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান বিশ্বের শীর্ষ ১শ’ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অবস্থান করছে। সিইবিআইটি ২০১৭- তে হুয়াওয়ে ও শীর্ষস্থানীয় অংশীদার প্রতিষ্ঠান যৌথ প্রচেষ্টার সল্যুশনের ঘোষণা দিবে এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরবে।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: http://e.huawei.com/topic/cebit2017-en/index.html 

উল্লেখ্য, আগামী ২০১৮ সালের ১১ থেকে ১৫ই জুনে আবারও অনুষ্ঠিত হবে এই মেলা। http://www.cebit.de/en/

-সিনিউজভয়েস ডেক্স