সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট পেতে আন্তর্জাতিক জোটে বাংলাদেশ

ইন্টারনেট সেবা দ্রুত, কম খরচে এবং সহজ উপায়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ২৪ জুলাই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সেক্টর জোট ‘অ্যালায়েন্স ফর এফরড্যাবল ইন্টারনেট’ (এফরএআই) এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রদানে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আগামী তিন বছর সহায়তা প্রদান করার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করবে এটুআই এবং এফরএআই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বেগম তারানা হালিম, এম.পি। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-এর মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার এবং এফরএআই-এর নির্বাহি পরিচালক মিস সোনিয়া জর্জ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। এটুআই প্রোগ্রামের আইটি ম্যানেজার মো. আরফে এলাহী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

‘এফরএআই’ বিশ্বব্যাপী ৮০ সদস্যের একটি জোট, যা পাবলিক, প্রাইভেট এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (যেমন: সিডা, ইউএসএইড, ইউএনউইমেন, গুগল, জিএসএম এবং ইন্টারনেট সোসাইটি) এর সমন্বয়ে ইন্টারনেট খরচ কমানোর ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরামর্শকের ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১৩ সাল থেকে ‘এফরএআই’ মায়ানমার, নাইজেরিয়া, ঘানা, লাইবেরিয়া, মোজাম্বিক, দ্য ডোমিনিকান রিপাবলিক এবং গুয়াতেমালা’র সঙ্গে নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে।

মায়ানমারের পর বাংলাদেশ এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে এই জোটের সঙ্গে যুক্ত হলো। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ জনগণ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। একটি নতুন সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন ‘এফরএআই’ এবং দেশের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ে জোট গঠনের মাধ্যমে কাজ করবে। এই জোট সকলের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানে প্রধান বাধাগুলো শণাক্ত করবে এবং সেই বাধাগুলো অতিক্রম করার পদ্ধতিগুলো খুঁজে বের করে নীতিমালা প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের নিয়ামকগুলো আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে এবং সর্বস্তরেরজনগন অনলাইনে সক্রিয় থাকতে সক্ষম হবে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী এফরএআই-এর নির্বাহি পরিচালক মিস সোনিয়া জর্জ বলেন, ‘আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের স্বার্থে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করব। আমরা বাংলাদেশীদের সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা প্রদানে উন্নত নীতিমালা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং সকল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। আমরা বিশ্বাস করি সবার জন্য ইন্টারনেট সেবা যথাযথ ও সমান সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং এর মাধ্যমে বহুল প্রত্যাশিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’

এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের সকল জনগণের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা প্রদানে কাজ করতে এমন একটি জোটের সঙ্গে যুক্ত হবার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে ২০২১ সালের মধ্যে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সকল জনগণ উদ্ভাবনী সেবাগুলো আরো দ্রুত পেতে পারবে। আমরা একসঙ্গে কাজ করে আমাদের লক্ষ্যগুলো অর্জনের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়ে তাদের শক্তিশালী করতে পারি।’

উল্লেখ্য, ইউএনডিপি ও ইউএসএইড এর কারিগরি সহযোগীতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম কম সময়ে, কম খরচে এবং কম যাতায়াতের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি-বেসরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সংশ্লিষ্ট দেশ এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন করে ইন্টারনেট সমস্যার সমাধানে কাজ করার জন্য উভয় প্রতিষ্ঠান বদ্ধ পরিকর। এ লক্ষ্যে ২৪ জুলােই করবী হলে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মাল্টি-স্টেকহোল্ডার কোয়ালিশন’ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এটুআই প্রোগ্রাম, এফরএআই, ইউএনডিপি, ইউএসএইড, ইন্টারনেট অপারেটর, দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ এর উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকগণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.