সারাদেশে ১০ হাজার ছাত্রীদের জন্য সাইবার অপরাধ বিষয়ক কর্মশালা শুরু


তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, পানির অপর নাম জীবন হলেও সব পানি আমরা খাই না। বিশুদ্ধ পানি খাই। এজন্য দরকার ফিল্টারিং। তেমনি ইন্টারনেটও ফিল্টার করে ব্যবহার করতে হবে। না হয় জীবন হুমকীর মুখে পড়বে।

১৮ এপ্রিল ২০১৭ বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট মিলনায়তনে ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এই কর্মসূচীর আওতায় দেশব্যাপি ৮ বিভাগের ৪০টি স্কুল ও কলেজের প্রায় ১০ হাজার ছাত্রীকে সচেতন করা হবে। সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন কন্ট্রোলার অফ সার্টিফায়িং অথোরিটিজ (সিসিএ) এই কর্মশালার আয়োজন করেছে।

সিসিএ-এর নিয়ন্ত্রক আবুল মানসুর মোহাম্মদ সারফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং ফোর ডি কমিউনিকেশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিসিএ-এর উপ-নিয়ন্ত্রক আবদুল্লাহ মাহমুদ ফারুক।
তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথ আলোচনায় দেখা গেছে, দেশে সাইবার অপরাধের শিকার মানুষের বড় অংশটি অল্পবয়সী নারী বা কিশোরী মেয়েরা। এসব অল্প বয়সী মেয়ের আক্রন্ত হবার ঝুঁকিও থাকে বেশি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অল্প বয়সী মেয়েরা যখন কেউ সাইবার অপরাধের শিকার হয়, অনেক সময় তারা বুঝতে পারেনা কি করবে, কাকে জানাবে। অনেকে এমনকি আদৌ কাউকে জানায়ও না। নীরবে হয়রানির শিকার হতে থাকে। এসব হয়রানি ঠেকাতে এবং সাইবার অপরাধের শিকার হলে করনীয় সম্পর্কে সচেতন করতেই স্কুল ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কর্মশালা থেকে পাওয়া তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আগামীতে সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় আরো বেশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ছাত্রীদের সচেতন কারার এই আয়োজনটিকে তাই একটি সূচনা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী কর্মশালার জন্য নির্বাচন করা সারাদেশের ৪০টি স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব নির্মাণের ঘোষণা দেন। এছাড়াও এই কর্মসূচীটি আগামীতে ১০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান।

উদ্বোধন পর্ব শেষে শুরু হয় কর্মশালা। এতে অংশ নেয় রাজধানীর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ, আজিমপুর গভ. গার্লস কলেজ ও ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রায় ৬ শতাধিক ছাত্রী। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল ক্লাসরুমের মাধ্যমে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েল শিক্ষার্থীরাও সংযুক্ত ছিলেন।

কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজীর অধ্যাপক কাজী শরিফুল ইসলাম। কর্মশালায় মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারিরা সাইবার অপরাধ ও সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যখ্যা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপদে বিচরণের কৌশল সমূহ, অপরাধ সংঘটিত হলে তা থেকে পরিত্রানের উপায়, সহায়তা পাওয়ার জন্য সংশিষ্ট দপ্তর সমুহের নাম্বার, অভিযোগ দাখিল করার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা লাভ করেন। কর্মশালা আয়োজনে সহযোগি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি (ডিইউআইটিএস)।

সিনিউজভয়েস ডেক্স