সবাইকে সাথে নিয়েই মুজিব জন্মশতবর্ষ পালন করবো : পলক

মুজিব জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আজ আইসিটি বিভাগ এর আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সাংবাদিকদের স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন নিয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ২০২০ হচ্ছে মুজিববর্ষ। আগামী ১৭ই মার্চ জাতির পিতার শততম জন্মদিন উদ্‌যাপনের মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ ও সেগুলোর বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগও গ্রহণ করেছে বেশ কিছু উদ্যোগ ও কার্যক্রম।তথ্য প্রযুক্তি খাতের সকল সংস্থা ও সংগঠনগুলোর সাথে বিভিন্ন কমিটির করে গৃহীত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিয়ে  জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে আমাদের বিভাগ।

আমাদের গৃহীত কার্যক্রমের বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করতেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্যোগ ও কার্যক্রমসমূহ হচ্ছে:

১. বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট ২০২০

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আইসিটি বিভাগের একটি বিশেষ কার্যক্রম ঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট ২০২০। দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের অনুপ্রাণিত করতে এবং তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট ২০২০ প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে দেশ সেরা উদ্ভাবকদের সেরা উদ্ভাবন বেছে নেবার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও উদ্ভাবন বিষয়ে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

২. জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের হলোগ্রাফিক প্রোজেকশন

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চ, ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ভাষণ এর রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। শুধু আমাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসেই এই ভাষণটি জরুরি নয় পৃথিবীর ইতিহাসেও এই ভাষণটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট ভাষণের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। ফলে ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ এর এই ভাষণটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য এর অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সকল গুরুত্ব বিবেচনা করে মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের হলোগ্রাফিক প্রোজেকশন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

৩. অনলাইনে মুজিববর্ষ (সিআরআই, এটুআই ও ডিওআইসিটি)

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা, অ্যানিমেশন ভিডিও, অডিওবুক, বঙ্গবন্ধুর এই দিনে, অনলাইন নিউজে ফিচার, বঙ্গবন্ধু ব্লগ, অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা, আমার বঙ্গবন্ধু, কম্পিউটার গ্রাফিক্স ভিডিও, সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ভিডিও, ডিজিটাল কার্ড প্রভৃতি কনটেন্ট নির্মাণ ও প্রচারে বছরব্যাপী কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই সকল কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে জাতির পিতার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে। এক্ষেত্রে সিআরআই এর ইয়ং বাংলা ও এটুআই প্রকল্পের বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ টিম ও নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্ম সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

ডিজিটাল মাধ্যমসমূহে নিয়মিতভাবে এই সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে জাতির পিতার মহানুভবতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দেশের কল্যাণে সার্বক্ষণিক চিন্তা-ভাবনা এবং দেশের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর ত্যাগের বিষয়ে সকলে অবগত হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম জাতির পিতার সকল মানবিকগুণকে অনুসরণ করে গড়ে উঠবে আদর্শ মানুষ হিসেবে।

৪. মোবাইল গেইম ও এ্যাপ্লিকেশনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গৃহীত উদ্যোগ

নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর কীর্তিময় জীবনের কথা জানাতে হলে তাদের উপযোগী মাধ্যমে এবং তাদের মতো করে কন্টেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন। বর্তমানে অ্যানিমেশন ও মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন সম্পৃক্ত নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন সময়ের কনটেন্ট তরুণদেরকে বেশি মনযোগী করে তোলে। আর এ কারণে মোবাইল গেইম ও এ্যাপ্লিকেশনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে নেয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ। এগুলো হলো:

. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার লেখা “মুজিব আমার পিতা” গ্রন্থের আলোকে একটি অ্যানিমেশন বেসড মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন তৈরি; . বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ভিত্তিক একটি অ্যানিমেটেড মুভি নির্মাণ; . বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের ভিজ্যুয়াল রিয়্যালিটি (ভিআর) নির্মাণ ও তাঁর স্মৃতি বিজড়িত স্থানসমূহে তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে; . মুজিববর্ষের ওপর মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন নির্মাণ; . ‘আমার মুজিব গেমি কুইজ’ নির্মাণ।

৫. আইসিটি ডিভিশনের ১০০+ কৌশলগত পরিকল্পনা

মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে আইসিটি বিভাগ ১০০+কৌশলগত পরিকল্পনাবা ‘হান্ড্রেডপ্লাস স্ট্র্যাটেজি’ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় আইসিটি বিভাগের বাৎসরিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (এডিপি) বাস্তবায়ন ১০০% করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সারা বছরে অতিরিক্ত ১০০ ঘণ্টা অফিস করবেন, নতুন ১০০টি নাগরিক সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

৬. ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) এর দশ বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে মহাসম্মেলন অনুষ্ঠান

আগামী ১১ নভেম্বর, ২০২০খ্রিস্টাব্দে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা ইউডিসির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ১১ হাজার উদ্যোক্তার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে উদ্যোক্তাদের মহাসম্মেলন। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ এই মহাসম্মেলনের উদ্বোধন করতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

৭. ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০২০

আগামী ৯-১২ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ৫ম বারের মতো অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সর্ববৃহৎ সম্মেলন ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০২০’। আন্তর্জাতিক মানের এই সম্মেলনের শেষ দিন ১২ ডিসেম্বর উদযাপিত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস। এ বছরের সম্মেলনটি জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকীর সময় কালে হওয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশের ৪টি স্তম্ভের সার্বিক অর্জন প্রদর্শিত হবে এবং প্রদত্ত সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া বাস্তব রূপে তাৎক্ষণিক ভাবে দেখানো হবে ফলে সেবা প্রদানের বিষয়টি জনগণ বাস্তবরূপে প্রত্যক্ষ করবে। সেই সাথে সেমিনার, ইনোভেশন, কুইজসহ সকল কার্যক্রমে স্পেশালি-অ্যাবলড ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

৮. জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রদত্ত নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রদত্ত নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নসহ আইসিটি বিভাগের এই উদ্যোগ ও কার্যক্রমসমূহ সম্পন্ন করা হবে।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করণের ক্ষেত্রে আপনারা খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছেন। আপনাদের সার্বিক সহযোগিতায় আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি বাস্তবতা।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোঃ মামুন-আল-রশীদ
উপস্থিত ছিলেন।

 

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/৫মা./২০

 

 

 

 

Please Share This Post.