সদস্যদের সেবায় প্রয়োজন বেসিস মেম্বার সার্ভিসেস সেল

বেসিস নির্বাচন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেই কলেবরই বুঝিয়ে দেয় যে বেসিস এখন কতটা শক্তিশালী, বেসিস এখন তার সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোরই নয় বরং প্রতিনিধিত্ব করছে দেশের পুরো তথ্য প্রযুক্তি খাতের। তাই বাংলাদেশের তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন করতে হলে বেসিস মেম্বারদের সার্বিক ভাবে উন্নয়ন করতে হবে।

আসন্ন বেসিস নির্বাচনের সুবাদে বেশ কিছু নতুন ও পুরাতন সদস্যদের সাথে আমার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের ইণ্ডাস্ট্রির কিছু সমস্যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিতে আমার ২৭ বছরের অভিজ্ঞতা এবং বেসিস-এর সাথে পূর্ববর্তী সময়ে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার আলোকে আমি মনে করি, সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে এই সমস্যাগুলির সমাধান করা অবশ্যই সম্ভব। এ ব্যাপারে আমার প্রস্তাবনাগুলি হলো—

(১) সীড ফাণ্ড, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ব্যাংক-লোন ইত্যাদির জন্য যে পাহাড়-প্রমাণ কাগজপত্র তৈরী করতে হয় এবং প্রশাসনিক কাজে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়, তা’তে বেশীভাগ ছোট কোম্পানীই হিমসিম খেয়ে যায়! আমার পূর্ব-প্রস্তাবিত বেসিস মেম্বার সার্ভিসেস সেল এসবের দায়িত্ব নিতে পারে। বেসিস নিযুক্ত কনসাল্টেন্ট দিয়ে যাবতীয় কাগজপত্র তৈরীর কাজ করানো যেতে পারে। পরবর্তীতে প্রশাসনিক কাজের ব্যাপারেও বেসিস-এর এই সদস্য-সেবা সেল সাহায্য করতে পারে। এ ধরণের সেবা যদি সদস্যরা না পান, তা’হলে আর বছর বছর চাঁদা দিয়ে সদস্য থাকার দরকার কী!
(২) ধরুন, বেসিস ঠিক করলো যে নিজেই অ্যাকাউন্টিং, ইআরপি ইত্যাদি সফ্‌টওয়ার বা মোবাইল অ্যাপ বানিয়ে বিক্রী করা শুরু করবে। তখন বেসিস-এর সদস্যরা কী করবেন! এই স্বার্থের দ্বন্দ্ব যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি অনৈতিক। বেসিস যেহেতু সদস্যদেরই একটা অ্যাসোসিয়েশন, সেহেতু এমন কোন কার্যকলাপে বেসিস-এর জড়িত হওয়া উচিৎ না, যা কিনা সদস্যদের ব্যবসায়ের সাথে বিরোধ বা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে।
(৩) সদস্য-কোম্পানীগুলির দক্ষতা সম্বন্ধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এবং তাদের পণ্য ও সেবাসমূহকে জনপ্রিয় করার জন্য নিয়মিত নানা রকমের ফলপ্রসু আয়োজন করা প্রয়োজন। ছাত্রছাত্রী ও ফ্রিল্যান্সারদের অবশ্যই আমাদের এই ইণ্ডাস্ট্রিতে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে এবং তা’দের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতে হবে; কিন্তু সেটা করতে গিয়ে সদস্যদের প্রতি মনোযোগ হারালে চলবে না।
(৪) সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন টেণ্ডারগুলিতে প্রায়ই দেখা যায় যে, এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া থাকে যাতে দেশীয় কোম্পানীগুলি অংশগ্রহণই করতে না পারে! বেসিস-কে এ নিয়ে সরকারের কাছে জোড়ালো ভাবে দাবি জানাতে হবে যাতে করে পুরোটা না হলেও, প্রত্যেক টেণ্ডার বা প্রজেক্টের একটা উল্লেখযোগ্য অংশে দেশীয় সফ্‌টওয়ার বা সেবার ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকে। যে ক্ষেত্রে দেশীয় সফ্‌টওয়ার বা সেবা পাওয়া সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে বিদেশী সফ্‌টওয়ার বা সেবা ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তাতে দেশীয় মূল্য-সংযোজন করতে হবে।
(৫) অনেক সদস্য-কোম্পানীর (বিশেষ করে যারা গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকায় অবস্থিত) সমস্যা হচ্ছে, ইদানিং তারা রাজউক ও বাড়ীওয়ালার কাছ থেকে উঠে যাওয়ার (বা ভাড়া বাড়ানোর) তাগাদা পাচ্ছে। বেসিস-এর উদ্যোগে সরকারী বা বেসরকারী সাহায্যে যদি এলাকা-ভিত্তিক কয়েকটা মিনি আইটি-পার্ক তৈরী করা যায়, তা’হলে এই সমস্যা চিরতরে দূর হবে বলে আমি মনে করি।

লেখক মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেড এর প্রধান নির্বাহী
এবং কো-চেয়ারম্যান, টেলিকম, আইটি ও কেবল টিভি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি, এফবিসিসিআই
কো-চেয়ারম্যান, ই-কমার্স বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি, এফবিসিসিআই
আহ্বায়ক, টেলিকম, আইসিটি ও মেধা-সম্পদ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স

লেখক সৈয়দ আলমাস কবির

Please Share This Post.