সকল প্রতিবন্ধীদের আইসিটিতে সুযোগ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য-পলক

বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো গত ৪ জুন শনিবার রাজধানী ঢাকার ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক গ্রীণ রোড ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী যুব প্রতিবন্ধীদের নিয়ে জাতীয় আইসিটি প্রতিযোগিতা ২০১৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনের সমাপণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহ্মেদ পলক বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে আইসিটি বিভাগ থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে অনেক রকমের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। আইসিটি বিভাগের উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রতিবন্ধীদের জন্য আইটি সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করেছে। বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বিষয়ক আইন পাশ করেছে যা সমাজে প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
তিনি বলেন, আজকের এ প্রতিযোগিতা আমাদের আইটি জগতের অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক বলে আমি মনে করি। যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন তাঁদের আগাম অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিজয়ীদের মধ্য হতে একটি দল নির্বাচন করা হবে যাঁরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহন করবে বলে জানান তিনি।
ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্ব সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হারুনুর রশীদ, সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম, সূচনা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপার্সন ড. প্রাণ গোপাল দত্ত এবং বিসিসির নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম
এর আগে সকালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার। এ সময় তিনি বলেন, বিগত ৭ বছর সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহন করেছে এবং সাফল্য পেয়েছে অনেক। দেশে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক লোকবল প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধীদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আইসিটি বিভাগ যুব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ২০১৬ আয়োজন করেছে। তিনি আরও বলেন, আইসিটি বিভাগ প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের বিনামূল্যে আইসিটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও সরকার সহায়তা প্রদান করছে। ভবিষ্যতেও এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে বলে জানান আইসিটি সচিব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের বোর্ড অফ ট্রাস্টিসের চেয়ারপার্সন কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে¡ আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম আর কবির এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারী জেনারেল ড: মাজহারুল মান্নান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগ দেশে প্রথমবারের মতো যুব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। এ প্রতিযোগিতা দেশের যুব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে আইসিটি চর্চার সম্প্রসারণ ঘটাবে এবং বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশের উপযুক্ত মানব সম্পদ হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রস্তুতে ব্যাপক সহায়ক হবে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) দেশীয় এনজিও সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি (সিএসআইডি) ও ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক এর সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারা দেশে থেকে আগত মোট ৫২জন প্রতিযোগী চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে। ক্যাটাগরিগুলো হলো ক. দৃষ্টি প্রতিবন্ধী খ. শারীরিক প্রতিবন্ধী গ. বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং ঘ. নিউরো ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক বা অটিজম)। সবগুলো ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিরা মাইক্রোসফ্ট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ও ইন্টারনেট-এই চারটি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন। প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে সেরা প্রথম তিনজনকে পুরষ্কার হিসেবে দেওয়া হয় যথাক্রমে ৩০, ২০ ও ১০ হাজার টাকা এবং ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট। বিজয়ী প্রতিযোগিদের মধ্য হতে দক্ষতার ভিত্তিতে আগামী ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হবে।
এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের মধ্য হতে দক্ষতার ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীদের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল পরিচালিত উচ্চতর কোর্সে বিনা ফিতে অংশগ্রহনের সুযোগ দেয়া হবে। সকল অংশগ্রহনকারীকে আইসিটি বিভাগ ও বিসিসি আয়োজিত চাকরি মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ

Please Share This Post.