শেষ হল ভাঙ্গুড়া শিক্ষা ও প্রযুক্তি উৎসব

গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই ভাঙ্গুড়ার জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন ভাঙ্গুড়ার ১৯ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রত্যেকর চোখে মুখে এক চাপা উত্তেজনা। এ অঞ্চলে এমন উৎসব এটাই প্রথম। বুধবার সকালে ১৯ টি স্কুলের চার শতাধিক শিক্ষার্থীদেরকে সাথে নিয়ে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে উৎসবের শুভসূচনা করা হয়। এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রকৌশলী ড.মাসুদ মোহাম্মদ জাহিদ হাসান এবং প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক হোসেন।উৎসবে উপস্থিত হয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম মোসলেম উদ্দিন বলেন “আরও বেশি করে এমন আয়োজনের মাধ্যমে ভাঙ্গুড়ার শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হবে ।’’ এর পরেই হাততালির মধ্যে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

১৯ টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে শুরু হয় গণিত অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এর পাশাপাশি উৎসবে উপস্থিত সবার জন্য জরিনা রাহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ রোবটিক্সের প্রদর্শনী। তারা উপস্থিত সবাইকে তাদের লাইন ফলোয়ার রোবট চালিয়ে দেখান এবং দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ স্কুলের এই শিক্ষার্থীরাই গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২য় বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বে অংশ নিয়ে তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। এর বাইরে উৎসবের নিবন্ধিত স্কুলগুলোর গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষকদের নিয়ে শুরু হয় বিশেষ শিক্ষক কর্মশালা। স্কুল মাঠের এক প্রান্তে জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান নিয়ে তৈরী করা পোস্টার প্রদর্শন করে। এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়।

বিকালে বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হয় উৎসবে বিজয়ীদের ফলাফল ঘোষণা। উৎসবে অংশ নেয়া স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় আদাবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মোঃ লিমন ইসলাম,মোঃ হোজাইফা ইসলাম এবং মোঃ মামুন আলী এর দল। উল্লেখ থাকে যে, প্রায় দুই ঘণ্টার পথ নৌকায় করে চলন বিল পাড়ি দিয়ে তারা এই উৎসবে অংশ নেয়। বিজয়ী দলের দলনেতা মোঃ লিমন ইসলাম বলেন, ‘ গত মাসে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক আয়োজিত প্রোগ্রামিং ক্যাম্পে অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত প্রাকটিসই তাদের এই সাফল্যের মুল কারন।’ এ প্রোতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হয় পুকুরপাড় আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের নুশরাত জাহান,হালিমা খাতুন এবং সীমা খাতুনের দল। দ্বিতীয় রানার-আপ হয় ভাঙ্গুড়া জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জাইমা জারিন,নউসাবা আসফিন সাবা এবং জান্নাতুন ফেরদৌস তুরের দল। গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয় মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুলের মোঃ হোযাইফা ইসলাম,সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজের অর্পনা ঘোষ এবং হাসিনা মোমিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সানজিদা খাতুন সিমি। জুনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয় সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজের আল আরফান, চর ভাঙ্গুড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোঃ জুয়েল রানা ও মোঃ মেহেরাব হোসেন মিঠু। বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতায় সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয় মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুলের উৎস ঘোষ, অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তর আহমেদ এবং করল কান্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের নুশরাত জাহান । জুনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয় ময়দান দিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের সুমাইয়া, সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজের মোঃ বাহউজ্জামান ও মোঃ আব্দুস সামি। বিতর্ক প্রোতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ান হয় সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজের নাদিয়া মেহজাবিন, তাসনিম এবং মোছাঃ মাসুমা জান্নাতের দল। সেরা বক্তা নির্বাচিত হয় অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস ঊষা।

বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট এবং মেডেল পরিয়ে উৎসাহিত করেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারন সম্পাদক মুনির হাসান, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী এবং ভলেন্টিয়ারী এসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জসিমুজ্জামান । উৎসবে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার (শিক্ষা)রিতা রাণী পাল,সরকারী হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব শহীদুজ্জামান সহ প্রমুখ।

এ উৎসবে অংশ নেয়া স্কুলগুলো হল – সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, ভাঙ্গুড়া জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, অষ্টমনিষা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, বিবি স্কুল এন্ড কলেজ,হাসিনা মোমেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,পাটুলিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়,ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী,পার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন নিন্ম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়,চর ভাঙ্গুড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়,মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়,ছোট বিশাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়,রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়,করতকান্দী উচ্চ বিদ্যালয়,ময়দান বাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়,পুকুরপাড় আইডীয়াল উচ্চ বিদ্যালয়,সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়,দহপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়,দিলপাশার উচ্চ বিদ্যালয় এবং আদাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়। উৎসবের আয়োজন সম্পর্কে জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রকৌশলী ড.মাসুদ মোহাম্মদ জাহিদ হাসান বলেন,ভাঙ্গুড়ার শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য এখন থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ থাকে যে, এ শিক্ষা ও প্রযুক্তি উৎসবের আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সোসাইটি, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার। সহযোগী হিসেবে ছিলেন কাজী আইটি লিমিটেড এবং কম্পিউটার সার্ভিসেস লিমিটেড। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আম্বার আইটি, ভলেন্টিয়ারী এসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি, মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার, অন্যরকম বিজ্ঞান বাক্স এবং নাগরিক টেলিভিশন।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স/২৮অক্টো./১৯

Please Share This Post.