শেষ হলো জমজমাট বিপিও সামিট ২০১৫

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ কলসেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথম বারের মতো আয়োজিত বিপিও সামিট ২০১৫ শেষ হলো। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দুই দিনের এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সিএক্সও নাইট এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।

এ সময় তিনি বলেন, আমাদের তরুণদের স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্নহীন বা গন্তব্যহীন জাতি কোনো দিন ভালো করতে পারে না। বর্তমান সরকার আইসিটি খাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ অন্তত দুটো ক্ষেত্রে বিশে^ এক নম্বর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, একটি হলো ক্রিকেট আরেকটি হলো আইসিটি। সরকার আইসিটি খাতে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলছে। আমি স্বপ্ন দেখি অল্প দিনের মধ্যেই আমরা বাংলাদেশ থেকে মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগলের মতো তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারবো।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তরুণদের প্রযুক্তিক্ষেত্রে আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে। তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তরুণরা এগিয়ে না আসলে দেশ এগিয়ে যাবে না। তিনি বলেন, প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজার ছেলে মেয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। চাকরি প্রত্যাশিতদের আইটিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে সরকার ১ কোটি মানুষের কাজের ব্যবস্থা করতে চায় বলেন জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাক্য সভাপতি আহমাদুল হক।

index

দুই দিনের এ আয়োজনে ১০টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও কার্যক্রম প্রদর্শন করেছে। আয়োজন সম্পর্কে আইএসএসএল’র ম্যানেজার (বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ) নূর হোসেন বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা কলসেন্টার কাস্টমাইজ, কলসেন্টার সার্পোট, টেলি সার্ভিস, টেলি মার্কেটিংসহ বিভিন্ন সেবার কথা তুলে ধরছি। প্রতি বছর এ রকম আয়োজন করা উচিত। ফাইবার অ্যাট হোম’র ম্যানেজার (ব্যবসা উন্নয়ন) রেহেনা জাকিয়া বলেন, সারা দেশে আমরা ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছি। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা বিপিও সেক্টরকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই।

সেমিনারে অংশ নিতে আসা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইমন জাকারিয়ার বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি বিপিও সেক্টরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই আয়োজনে এসে বিপিও সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছি। যা ভবিষ্যতে কাজ করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, বিপিও সামিটে এসে এই খাতে কাজ করার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি এই খাতে কাজ করলে ভালো করতে পারবো।

আয়োজন সম্পর্কে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ কলসেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সভাপতি আহমাদুল হক বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বিপিও সেক্টর থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা, দেশী এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশী বিপিও সেক্টর সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা দেওয়া, বাংলাদেশে বিপিও সেক্টরে সাফল্যের গল্পগুলো বিশ্ববাসীকে জানানো এবং দেশের তরুণ সমাজের কাছে এই সেক্টরকে কাজের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের বিপিও খাতকে এগিয়ে নিতে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আয়োজন। প্রথম বারের মতো এ আয়োজনে এক্ষেত্রে আমরা বেশ সফল হয়েছি বলে আমি মনে করি। এখন থেকে নিয়মিতভাবে আমরা এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন অব্যাহত রাখবো। ইতোমধ্যে আগামী বছরের বিপিও সামিটের সম্ভাব্য পরিকল্পনাও শুরু করেছি আমরা।

a_11073

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী বিপিও সামিট ২০১৫ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স (উইটসা) এর  সভাপতি সান্তিয়াগো গুতিয়ারেজ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, এফবিসিসিআই’র সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ ও বাক্য সভাপতি আহমাদুল হক।

উদ্বোধনী দিনে ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল অ্যান্ড অপারেশনাল রেডিনেস’, ‘এন্টারপ্রেইনারশিপ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বিপিও ইন্ডাস্ট্রি’, ‘কানেক্টিং স্টার্টআপস বাংলাদেশ: নারচারিং দ্যা ফিউচার’, ‘ফিউচার চ্যালেঞ্জেস অফ আইসিটি ডেভেলপমেন্ট এন্ড ট্রান্সফরমেশন অফ বিপিও ইন্ডাস্ট্রি’ ও ‘দ্যা অপরচুনেটিজ অফ আউটসোর্সিং ক্লায়েন্ট সার্ভিসেস ফ্রম আইটি পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের শেষ দিন অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ টু ড্রাইভ বিপিও ইন্ডাস্ট্রি’, ‘গ্লোবাল বিপিও ইন্ডাস্ট্রি বেস্ট প্রাক্টিসেস’, ‘দ্যা অপরচুনেটিজ ইন দ্যা ডোমেস্টিক মার্কেট ফর আউটসোর্সিং’, ‘অপরচুনেটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন ব্যাংকিং আউটসোর্সিং’, ‘রোল অফ হায়ার এডুকেশন ইন্সিটিউশনস ফর বিপিও ইন্ডাস্ট্রি’ এবং ‘কানেক্টিং উইথ আনট্যাপড স্কিলস: পলিটেকটিক, ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল’ শীর্ষক সেমিনার।

fgfffg

সম্মেলনের সহযোগী হিসাবে ছিলো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)। আয়োজনে গোল্ড স্পন্সর হিসাবে ছিলো এডিএন গ্রুপ, জিনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড। সিলভার স্পন্সর সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিসকো সিস্টেমস, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, টেলিটক, এয়ারটেল এবং আইটি পার্টনার আমরা কোম্পানীজ ও নেটওয়ার্ক পার্টনার ফাইবার এট হোম।

দেশের প্রথম এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিলো বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ), বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই), আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.