শেষ হলো আন্তর্জাতিক আলোর বছরের আয়োজন

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আলো এবং আলোক-প্রযুক্তির বছর ২০১৫ শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে আলোর বছরের কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠান।

আমার মুক্তি আলোয় আলোয় শিরোনামে এই অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্বে ছিল আন্তর্জাতিক আলোর বছর উপলক্ষে বাংলাদেশের আয়োজন নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র, আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়। ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রর মিলনায়তনের অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্বে ছিল আলো নিয়ে না-গান গাওয়ার দল এর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আন্তর্জাতিক আলোর বছর উদযাপনে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সহযোগী বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) এই আয়োজন করে।

বাংলাদেশে আলোর বছর উদযাপনের মূল অনুষ্ঠান ছিল আলো বিষয়ক সেমিনার আলোর কথামালা (Light Talks) এবং আলো সংক্রান্ত হাতে -কলমের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার আয়োজন আলোর ঝিলিক (Spark of Light)। আলোর কথামালায় আলোর বিজ্ঞানীদের কাজ, তাদের জীবন এবং গবেষণা, আলোক প্রযুক্তির বিবর্তন, জ্যোতির্বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং বিজ্ঞানীদের বক্তৃতামালা।

অন্যদিকে আলোর ঝিলিক ছিল হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতেকলমে আলোর ধর্মগুলো জানানো এবং বুঝানোর আয়োজন। এসপিএসবির অ্যাকাডেমিক দলের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় হাই স্কুলগুলোতে যায়, শিক্ষার্থীদের আলোর ধর্মগুলো টুলবক্সে থাকা সাধারণ কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে হাতেকলমে দেখায়।

২০১৫ সালে সারা দেশের ১৬টি জেলার ৩৮টি স্থানে আলোর ঝিলিকের মোট ৪৪টি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. রেজাউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন এবং রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নুরুজ্জামান খান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. আরশাদ চৌধুরী, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সহসভাপতি মুনির হাসান।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বক্তারা আলোর ঝিলিকের মতো হাতেকলমে বিজ্ঞান চর্চার আয়োজনগুলো স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানের ভয় দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। পরে আলোর ঝিলিকের পৃষ্ঠপোষক অ্যাপবিডি এবং বিজমোশন লিমিটেডকে এসপিএসবির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল না-গান গাওয়ার দল এর পরিবেশনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সলীল চৌধুরীর গান নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘এত আলো জ্বালিয়েছ এই গগনে’, ‘এই তো ভালো লেগেছিল আলোর নাচন পাতায় পাতায়’, ‘চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে’, ‘অন্ধকারের উৎস-হতে উৎসারিত আলো সেই তো তোমার আলো’, ‘ও আমার চাঁদের আলো’, ‘আলো আমার আলো’, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ ইত্যাদি সহ বেশ কিছু গান পরিবেশন করা হয়। এছাড়া ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আলবার্ট আইনস্টাইনের মধ্যে ১৯৩০ সালে হওয়া একটি বিশেষ কথোপকথন।

গত বছর – ২০১৫ সালকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক আলো এবং আলোক-প্রযুক্তি বছর হিসেবে পালন করেছে। আন্তর্জাতিক আলোর বছর পালনের উদ্দেশ্য ছিল কীভাবে আলো এবং আলোক-প্রযুক্তিগুলি মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করেছে, জীবনকে সহজ করেছে, সেটা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা এবং কীভাবে ভবিষ্যতে আরো ব্যাপক মাত্রায় অবদান রাখতে পারে সে বিষয়েও মানুষকে জানানো।

২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম সেশনে ২০১৫ সালকে আন্তর্জাতিক আলো এবং আলোক-প্রযুক্তির বছর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সারা পৃথিবীর ৮৫টির বেশি দেশ থেকে ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক আলোর বছর উদযাপনে জাতিসংঘের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশে আলোর বছর উদযাপনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি। আলোর বছর নিয়ে আরো জানতে পারা যাবে www.light2015.org ওয়েবসাইটে।

 

 

সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.