শেরপুরে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প

 

দেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আগ্রহী করে তাদের এই খাতে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প আয়োজন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প থেকে এই আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প চালু করা হয়েছে।

যশোর, চাঁদপুর, ভোলা, কুমিল্লা, পঞ্চগড়, নোয়াখালী, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, নওগাঁ সহ আরো কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে আয়োজিত হয়েছে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প। তারই ধারাবাহিকতায় এবার শেরপুরে আয়োজিত হল আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প।

১৭ জানুয়ারি, শেরপুর সরকারি কলেজে শেরপুর জেলার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ গভর্নেন্স (এলআইসটি) প্রকল্প আয়োজিত আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলছে। বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত জনবল । দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের এ সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: এ কেএম রেজাউল হাসান, শেরপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) এটিএম জিয়াউল ইসলাম, এলআইসিটি প্রজেক্টের কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট হাসান বেনাউল ইসলাম, শেরপুর সরকারি কলেজ-এর বাংলা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং শেরপুর সরকারি কলেজ শিক্ষক কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মো. আকরাম হোসেন, শেরপুর সরকারি কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও আইসিটি ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কোডেক্স সফটওয়্যার সল্যুউশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাভেল সারোয়ার ও উইমেন অ্যান্ড ডিজিটাল-এর ময়মনসিংহ কমিউনিটি লিডার নাহিদ বিনতে আনিস। এছাড়াও উক্ত কলেজর বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে আইটি পেশাজীবির সংখ্যা বর্তমান সাত লাখ থেকে ২০ লাখে উন্নীত করতে চায়। এজন্য নানামূখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আইটি শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী এলআইসিটি প্রকল্পের মাধ্যমে আইটিতে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৪৫ হাজার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলছে। দেশব্যাপী অব্যহত রয়েছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এছাড়াও চলমান রয়েছে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরির প্রশিক্ষণ। তাছাড়া বিসিসিতে অব্যাহতভাবে তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

ড. মো. এ কে এম রেজাউল হাসান তার বক্তব্যে বলেন, আইসিটি ডিভিশনের অধীনে এলআইসিটি প্রজেক্টের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারপ্রান্তে যে ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা যেন তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে। একই সাথে তরুণ সমাজকে আইটিতে তাদের ভবিষ্যত গড়ারও আহবান জানান।

এলআইসিটি প্রোজেক্টের কমিউিনিকেশন স্পেশালিস্ট হাসান বেনাউল ইসলাম তার বক্তব্যে কলেজের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

এলআইসিটি প্রোজেক্টের কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট হাসান বেনাউল ইসলামের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অন্যান্য বক্তারা আইটিতে অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের আইসিটিতে ক্যারিয়ার গড়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অনলাইন কুইজে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে একজন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একজন শিক্ষার্থীকে উই মোবাইলের সৌজন্যে একটি করে স্মার্ট মোবাইল ফোন পুরষ্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.