শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক হচ্ছে না দ্বিতীয় বিপিও সামিট-তৌহিদ হোসেন


প্রশ্ন: প্রথম বিপিও এর অর্জন এবং এবারের বিপিও এর সাড়া কেমন?

তৌহিদ হোসেন: গত বছর বিশ্বের ১১টি দেশের প্রতিনিধি বিপিও সামিটে অংশ নিয়েছিল। সামিট চলাকালিন সময়ে ৫৬টি দেশ থেকে মানুষ বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করেছেন। ১৪ টি বিশ্ববিদ্যায়ে বিপিও এর উপর সেমিনার করা হয়েছিল। এর ফলে আমরা শিক্ষার্থীদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি বিপিও কি, এখানে কাজের সম্ভাবনা কতটুকু। অনেকেরই ধারনা ছিল বিপিও মানেই কল সেন্টার। এই ভুল ধারনাটি গত বছরের প্রচার প্রচারনার ফলে অনেকটা দূর হয়েছে। মূলত বিপিওতে দুই ধরনের কাজ হয় ভয়েস ও নন ভয়েস। কলসেন্টার বা ভয়েস এর কাজ হয় মাত্র ১০ শতাংশ। ডাটা এন্ট্রি, ব্যাক অফিস, চ্যাটিং, গ্রাফিক্স সহ নানা রকম নন ভয়েস কাজই আমরা বেশি করছি।
প্রথম বিপিও এর পরে আমরা বেশ কয়েকটি দেশে গেছি। এসব দেশ থেকে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। গতবার আমরা সবকিছুই করেছি ঢাকা কেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে শুধু সিলেটে ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল। আর এবার সারা দেশ জুড়েই ক্যাম্পেইন চলছে। ইতিমধ্যে রাজশাহী, পাবনা, কুমিল্লাতে ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আমাদের তত্বাবধানে বিপিও সামিটে অংশগ্রহন করার সুযোগ দিতে পারবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া লিস্ট অনুসারে এসব শিক্ষার্থী ঢাকায় আসার সুযোগ পাবে। এসব শিক্ষার্থীর যাওয়া আসার খরচ আমরা বহন করবো। তারা বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহন করে বিপিও সম্পর্কে সম্যক ধারনা পাবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পেইন চলাকালিন সময়ে আমরা বিক্রয় ডটকমের সহায়তায় জব সার্কুলার দিচ্ছি। আমরা ইতমধ্যে ৫ হাজার সিভি পেয়েছি। এবার আমরা ৩০০ জনকে চাকরি সুযোগ দিতে পারবো।

প্রশ্ন: আপনারা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কি ধরনের কাজ করছেন?
তৌহিদ হোসেন: প্রথম বিপিও সামিটের পরে আমরা প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কাজ শুরু করেছি। বিপিও এর কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে চেনার কোন সুযোগ নাই। আপনি আপনার কাজের দক্ষতা দেখাতে পারলেই হলো। কেউ যদি ডাটা এন্ট্রিতে ভালো করে তার পা না থাকলেও কোন সমস্যা নাই। অ্যাসিড দগ্ধ অনেক নারি আছেন যারা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই চাকরিই করতে পারেন না। তাদের জন্য বিপিও কিন্তু সম্ভাবনার অন্যতম জায়গা। কেউ যদি কোন প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি মনিটর করে আর সে যদি বাক প্রতিবন্ধি হয় তাতে কোন সমস্যা নাই। অন্যদের তুলনায় প্রতিবন্ধিরা বেশ ভালো করছে বিপিওতে।

প্রশ্ন: এই খাতে আরো ভালো করার উপায় কি?
তৌহিদ হোসেন: আমরা এখন কাজ করতে গিয়ে কিছু সমস্যায় পড়ছি। ৫ বছর আগে আমাদের সাথে যারা কাজ শুরু করেছিল তারা কিন্ত প্রমিত বাংলায় কথা বলতে পারতো। এখন অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যেই আঞ্চলিকতার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকে ৫ মিনিট শুধু বাংলায় কথাই বলতে পারছে না। এর ফলে আমরা যাদের সাপোর্ট দিচ্ছি তারা নানা সমস্যায় পড়ছেন। বিপিওতে কাজ করার জন্য শুদ্ধ ভাবে কথা বলার অভ্যাস থাকাটা খুব জরুরী। ইংরেজিতে দক্ষ হলে খুবই ভালো। তবে ইংরেজিতে দক্ষ না হলে অন্তত বাংলায় ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। পরিস্কার করে স্পষ্টভাবে সহজে কোন কিছু বোঝানোর দক্ষতা থাকলে খুবই ভালো করতে পারবে বিপিও সেক্টরে।

প্রশ্ন: তরুণদের নিয়ে বাক্য কি ভাবছে?
তৌহিদ হোসেন: আমাদের এবারের ক্যাম্পেইনের স্লোগান হলো তারুণ্যের শক্তিতে বিপিও। গতবার আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কম গেলেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি গেছি। এটা থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা সবাই যাই। আর সে ক্ষেত্রে কিছুটা অবহেলিত থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। আর এ কারনে আমাদের এবারের ফোকাস হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এবার সারা দেশ ব্যাপি ১৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপিও সামিটের ক্যাম্পেইন চলছে। এর পাশাপাশি ১২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্যাম্পেইন চলবে।

প্রশ্ন : ঢাকার বাইরে বিপিও সামিট নিয়ে কোন আয়োজন করা হবে কি?
তৌহিদ হোসেন: বিপিও সামিট উপলক্ষে আগামী ২১ জুলাই চট্রগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে প্রাক সামিট। এই সামিটে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিপিও খাতের প্রসারের সম্ভাবনা নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিপিও খাতে সফল উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ থাকবে। একদিনের এই প্রাক-সামিটে দেশের প্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

প্রশ্ন: বিপিওতে কাজ করার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু প্রয়োজন?
তৌহিদ হোসেন: বিপিও এর অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে সব বিষয়ে শিক্ষার্থীরাই কাজ করতে পারে। কলসেন্টারগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কে কোন বিষয়ে পড়েছে সেটা মুখ্য নয়। এখানে আগ্রহ থাকলে যে কোন বিষয়ের যে কেউ ভালো করতে পারে। তবে বিশেষায়িত কিছু কাজ এখনো হচ্ছে। এসব জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থী হলে ভালো। বিপিও এর কাজের পরিসর বড় হওয়ায় বর্তমানে প্রায় সব বিষয়ের শিক্ষার্থীদেরই কাজের সুযোগ আছে। এই সেক্টরে এক বছর কাজ করলেই আপনার যোগাযোগের দক্ষতা অনেক বেড়ে যাবে।

প্রশ্ন: সরকারের এসআইপি প্রজেক্টে বাক্য কি অবদান রাখতে পারে?
তৌহিদ হোসেন: বিপিওতে যারা কাজ করছে তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রতিটা প্রতিষ্ঠানই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে। ফলে আন্তজার্তিক বাজারের জন্যও যে কেউ নিজেকে প্রস্তুত করতে পারছে। সম্প্রতি আমরা অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে এসআইপি (স্কিল ইমপ্লয়মেন্ট প্রজেক্ট) প্রজেক্টে কাজ করছি। এখানে যারা প্রশিক্ষন নিচ্ছে তাদের প্রায় ৭০ শতাংশের চাকরি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রোজেক্টে ৫৭০০ মানুষকে বিপিও এর ট্রেনিং করানো পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে বড় পরিসরে কাজের জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুত?
তৌহিদ হোসেন: বড় পরিসরে কাজের জন্য আমাদের কোয়ালিটি একটা বড় ফ্যাক্টর। এজন্য এখন যারা বিপিওতে কাজ করছেন তাদের গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। না হলে নতুন কাজ সৃষ্টি হবে না। বিপিওতে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। এখানে কাজ শিখে যে কেউ নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে। আমার সাথে একসময় কাজ করতো এরকম অনেকেই এখন নিজেই বিপিও চালাচ্ছে।

তৌহিদ হোসেন, সেক্রেটারি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং