অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটেই সম্প্রচার হবে সব টিভি চ্যানেল

সরকারি ও বেসরকারি মিলে মোট ৩৪ টি টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। ২ অক্টোবর থেকে দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই দিন সবগুলো টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চুক্তিপত্র হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে টেলিভিশনগুলোর সঙ্গে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড।

এর আগে ১৯ মে বিসিএসসিএলের সঙ্গে ছয়টি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল – সময় টিভি, যমুনা টিভি, দীপ্ত টিভি, বিজয় বাংলা, বাংলা টিভি ও মাই টিভি আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করছে। তা ছাড়া বিটিভির চারটি চ্যানেলও একইভাবে এই স্যাটেলাইট দিয়ে সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। ইতোমধ্যে টেলিভিশনগুলোর সঙ্গে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিএসসিএল।

চুক্তিপত্র হস্তান্তরের পরেই বেসরকারি টেলিভিশনগুলো আগে যে স্যাটেলাইটের সঙ্গে তাদের চুক্তি ছিল সেটি ছিন্ন করবে বলে জানিয়েছেন বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ। তিনি জানান, এর মাধ্যমে দেশের বছরে অন্তত ছয় মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে।

বর্তমানে দেশের সবগুলো টেলিভিশনের হংকং ভিত্তিক স্যাটেলাইট কোম্পানি স্টার অ্যালায়েন্সের কাছ থেকে প্রতি মাসে মেগাহার্টজ প্রতি স্পেকট্রাম ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারে কেনে। একেকটি টেলিভিশন চ্যানেলে চার থেকে ছয় মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম লাগে। এতে মাসে সর্বনিম্ন সাড়ে ১৩ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।

কিন্তু বিসিএসসিএল দেশি টিভি চ্যানেলগুলোর জন্য প্রতি মেগাহার্টজের দাম এক লাখ ৯৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে যেটি আগামী এক বছর ডিসকাউন্টেড রেটে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা হবে। এতে চার থেকে ছয় মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের খরচ পড়বে ৬ লাখ ২৮ হাজার থেকে ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বিসিএসসিএল মূল্য কমিয়ে দেওয়ায় এখন স্টার অ্যালায়েন্সও প্রতি মেগাহার্টজ ২০০০ ডলারে দেওয়ার প্রস্তাব করছে বলে জানাচ্ছে সূত্রগুলো।

শাহজাহান মাহমুদ জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই আট বছরের মধ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের খরচ হওয়া ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা উঠে আসবে।

সবগুলো টিভি চ্যানেল মিলে প্রায় সাড়ে পাঁচ ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি ব্যবহার করবে। তাছাড়া এর আগে বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি ডাইরেক্ট টু হোম বা ডিটিএইচ আকাশ ছয়টি ট্রান্সপন্ডার ভাড়া নিয়েছে। সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এ রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার।

এদিকে এটিএন বাংলার চিফ ইঞ্জিনিয়ার জাহিরুল ইসলাম আবেদন জানান সম্প্রচার সক্ষমতার দিক থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ খুবই ভালো। সে কারণে ছবির মানও অনেক ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চাম্পিয়নশিপ সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু হয়। পরে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুবাই থেকে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের সম্প্রচারসহ আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

 

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২৮সেপ্টে./১৯

Please Share This Post.