‘শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের প্লাটফর্ম আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প’

আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প ২০১৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ রুপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলছে। সে লক্ষ্যে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হচ্ছে। দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের এ সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

৯ জুন বৃহস্পতিবার, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ গভর্নেন্স (এলআইসটি) প্রকল্প আয়োজিত আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প ২০১৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সাত্তার, বিসিসি’র নির্বাহী পরিচালক এস. এম আশরাফুল ইসলাম, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আলম হোসেন, মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সনিয়া বসির কবির, বেসিস-এর সভাপতি শামীম আহসান, এলআইসিটি প্রকল্পের কম্পোনেন্ট টিস লিডার সামি আহমেদ। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই অনুষ্ঠানে যোগ দান করেন।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আইসিটিতে দক্ষ তরুণদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ তরুণ যাদের বয়স ৩৫ বছরের কম। আর তাদেরকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে মানব সম্পদে পরিণত করা আমাদের লক্ষ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই তরুণদের মেধা এবং শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করবে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি রপ্তানী খাতে ৫ বিলিয়ন করা। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলছি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা দেশে আইটি পেশাজীবির সংখ্যা ৭ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ্যে উন্নীত করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সারাদেশে ১২টি আইটি পার্ক তৈরির উদ্দ্যোগ নিয়েছি। এর ধারাবাহিকতায় যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। অচিরেই এখানে বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হবে। এছাড়া গাজীপুর কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। ৩৩২ একর জমির উপর এ পার্কটি নির্মিত হলে প্রায় ১ লক্ষ মানুষের কর্ম সংস্থান হবে।’

এস এম আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার ২০২১ সালের মধ্যে আইটি পেশাজীবির সংখ্যা বর্তমান সাত লাখ থেকে ২০ লাখে উন্নীত করতে চায়। এজন্য নেওয়া হয়েছে নানা কার্যক্রম। আইটি শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী এলআইসিটি প্রকল্পের মাধ্যমে আইটিতে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণে ৪৫ হাজার দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলছে। দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরির প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। বিসিসিতে অব্যাহতভাবে তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’

বক্তারা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সামি আহমেদের পরিচালনায় প্যানেল আলোচনায় অন্যান্য বক্তারা আইটিতে অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের আইসিটিতে ক্যারিয়ার গড়ার আহবান জানান।

অনলাইন কুইজে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একজন ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে একজনকে একটি করে স্মার্ট মোবাইল ফোন পুরষ্কার হিসাবে দেওয়া হয়।

 

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.