শিক্ষার মানোন্নয়নে এডুকেশন গসিপ

ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও শহর-গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ‘এডুকেশন গসিপ’ নামে একটি প্লাটফর্ম চালু করেছে একদল তরুণ। ২৭ ডিসেম্বর রাতে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে (সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক) এই প্লাটফরমের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি।

এ প্লাটফর্মের আওতায় একটি অ্যাপস, একটি ওয়েবসাইট ও একটি অ্যাটেনডেন্ট মেশিন রয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন এ প্লাটফরমের প্রধান উদ্যোক্তা তানভীর তাবাসসুম অভি।

অনুষ্ঠানে তানভীর তাবাসসুম জানান, এডুকেশন গসিপ কোনো প্রথাগত পদ্ধতি নয়। এটি শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার আধুনিক পদ্ধতি। এ প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় গমন নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীর তথ্য সম্বলিত ডাটাবেজ তৈরি, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নির্ণয় ও বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংসহ অ্যাপস ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব উপকরণ (সিলেবাস, রুটিন, ই-বুক, বেতন পরিশোধ, শিক্ষার্থীর অগ্রগতি নিরূপণ করা যাবে) নিশ্চিত করবে।

অভি আরো জানান, ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের চাহিদা যেমন অ্যাসাইনমেন্ট জমা, টিউশন ফি, ব্যক্তিগত রুটিন নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষার্থীর নিবন্ধন ও মূল্যায়ন উপস্থিতির পরিসংখ্যান ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দিক-নির্দেশনা প্রদান করবে। একই সঙ্গে সিস্টেমটি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি সফটওয়্যার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। এ প্লাটফরমের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করার একটি বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করাসহ শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার মানের তারতম্য দূর করতে সহায়তা করবে।

পুরো সিস্টেমটি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজেবল হবে। এতে করে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সেবা পরিবর্তন করা, পরিমার্জন করা, পরিবর্ধন করা এবং সময়ের সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সুবিধা সংযোজন করা সম্ভব হবে।

অ্যাটেনডেন্টস রেকর্ড মেশিনটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্টাফদের দৈনন্দিন উপস্থিতি রেকর্ড করবে। এতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টি ফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। মেশিনটি ডিজাইন করেছে অ্যাভেলোন টেকনোলজি। এটি অন্য সিস্টেমে রিয়েলটাইম ডাটা স্থানান্তর করতে সক্ষম। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার কথা বিবেচনা করে এই সিস্টেমটি ডিজাইন করা হয়েছে। যেন এটি বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় ইনস্টল এবং ব্যবহার করা যায় এবং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে মনিটর করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে মেশিনটি লেজার ভিশন ম্যাথডে আপগ্রেড করা যাবে এবং শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কাজে তাদের আইডি কার্ড রিচার্জও করতে পারবে।

এমনকি কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিতে পারবে এবং অন্য সুবিধাগুলা হল: নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সহজবোধ্য বিভিন্ন টিউটোরিয়াল সরবরাহ করে বাড়িতে বসে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা যা তাদের কোচিংমুখী করবেনা। ফলে টাকা ও সময় দুটোরই সাশ্রয় হবে। এডুকেশন গসিপ প্লাটফর্মটি শহর ও গ্রামঅঞ্চলে শিক্ষার মানের তারতম্য দূর করতে সহায়তা করবে।

এ প্লাটফর্ম তৈরিতে অভির নেতৃত্বে মোসাদ্দেক হোসেন, আহমেদ তারেক ও মো. রমজান নামে তিনজন জার্মান প্রবাসী তরুণ অংশগ্রহণ করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হোসনে আরা বেগম, এনডিসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.