শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করলো ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এক্সামিনেশন’স

 ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের সহায়তায় গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আউটস্ট্যান্ডিং ক্যামব্রিজ লার্নার’স অ্যাওয়ার্ড’স ২০১৬’-এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক শিক্ষা কর্মসূচি ও সনদ বিতরণী প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এক্সামিনেশন’স (সিআইই)।

নভেম্বর ২০১৪ এবং জুন ২০১৫ পর্বে ক্যামব্রিজের ধারাবাহিক পরীক্ষায় বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতি ও উদযাপনের লক্ষ্যে এ পুরস্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিটের পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল মজিদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক ও ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর বারবারা উইকহ্যাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্ট্যারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এক্সামিনেশন’স-এর ডেপুটি ডিরেক্টর গাই চ্যাপমান, ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এক্সামিনেশন’স-এর দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ডিরেক্টর রুচিরা ঘোষ ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের হেড অব ক্লায়েন্ট রিলেশন’স মার্টিন লাওডার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারবারা উইকহ্যাক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক, প্রধান অতিথি সাইফুল মজিদ ও গাই চ্যাপম্যান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল মজিদ বলেন, ‘এ সম্মানজনক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে এবং দেশের সম্ভাবনাময় তরুণদের মাঝে থাকতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। এ দেশ ও বিজয়ীদের কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা অনেক। বিজয়ীদের উৎসাহিত করা ও তাদের উদ্যমের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আমি ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এক্সামিনেশনস এর প্রশংসা করছি।’

গাই চ্যাপম্যান তার বক্তব্যে বলেন, ‘সারাদেশের শিক্ষার্থীদের অসামান্য সাফল্য উদযাপনে এটা একটা আনন্দের মুহূর্ত। জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে যেনো আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাক্ষেত্রে সফল হতে পারে এভাবেই আমরা আমাদের কর্মসূচিগুলো প্রস্তুত করেছি। সফলতা অর্জনকারীদের স্বীকৃতি দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

রুচিরা ঘোষ বলেন, ‘আমাদের সবকিছুর কেন্দ্রেই আমাদের শিক্ষার্থীরা। এজন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান ক্যামব্রিজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকরী শিক্ষাদান পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সফল হওয়ার মূল কারণগুলোর একটি এ কারণে আমরা শিক্ষকদের স্বীকৃতি দেই। শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নয়নে আমাদের পেশাদারী উন্নয়নের যে সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ক্যামব্রিজের শিক্ষকদের ধারাবাহিকভাবে তার সাথে সংযুক্তি বাড়ছে এটা আমাদের সন্তুষ্টির কারণ।’

মার্টিন লাওডার বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ক্যামব্রিজ আউটস্ট্যান্ডিং লার্নার অ্যাওয়ার্ডস-এ উপস্থিত হতে পেরে এবং শিক্ষার্থী, বাবা-মা ও শিক্ষদের সরাসরি অভিনন্দিত করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী আয়োজিত এ পরীক্ষায় বাংলাদেশের ২২ জন শিক্ষার্থী ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এএস, এ লেভেল এবং ও লেভেলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে। এছাড়াও, একক বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে বাংলাদেশের মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী এবং দেশের ২০টি স্কুলের ৬১ জন শিক্ষার্থী ক্যামব্রিজ পরীক্ষায় তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। এসব শিক্ষার্থী গণিত, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানে অনন্য সাধারণ ফল লাভ করেছে।

যেসব বিষয় সাধারণত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা নেয় না সেসব বিষয়ে যেসব শিক্ষার্থী অসামান্য সাফল্য লাভ করেছে এবং বিষয়ের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে সর্বমোট বেশি নাম্বার পেয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ‘হাই অ্যাচিভমেন্ট’ স্বীকৃতি পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবসময় পুরস্কার বিতরণী উদযাপিত হয়। ক্যামব্রিজ ও লেভেল, ক্যামব্রিজ আইজিসিএসই, ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এএস ও এ লেভেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সারাবিশ্বের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে এসব শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফল অর্জন করে।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.