রাজস্ব অর্জনে রেকর্ড গড়লেও প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জিন হয়নি আজিয়াটার

২০১৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ (আজিয়াটা বা গ্রুপ) যা ২ হাজার কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ছাড়িয়ে গেছে এবং নিরীক্ষা অনুযায়ী পুরো বছরের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পরিচালন মুনাফা (ইবিআইটিডিএ) ডাবল ডিজিট হয়েছে।

২০১৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে মূলত আজিয়াটার বেশিরভাগ কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত ইতিবাচক ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ফলে রাজস্ব ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১৬০ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতে দাঁড়িয়েছে যা পূর্ববর্তী বছরে ছিল ১ হাজার ৯৯০ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত।

উচ্চ রাজস্বের কারণে একই সময়ে গ্রুপটির পরিচালন মুনাফা (ইবিআইটিডিএ) ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮শ’ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতে পৌঁছেছে এবং মার্জিন ০ দশমিক ৬ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ দশমিক ২ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য তিনটি কারণে গ্রুপের কর পরবর্তী মুনাফায় (পিএটি) নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে: ১) নতুন নতুন পদক্ষেপ ২) একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ’র কারণে ব্যয়সহ (যার বেশিরভাগই এককালীন) দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির জন্য কৌশলগত বিনিয়োগ এবং ৩) কয়েকটি আজিয়াটা কোম্পানি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল ভাল না হওয়া।

রিঙ্গিতের মান কমা এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্থিতিশীল মূল্যমানের কারণে কর-পূর্ববর্তী বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে ক্ষতির পরিমাণ ৬৮ কোটি ৫০ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। এনসেল অধিগ্রহণের জন্য মার্কিন ডলারে ঋণ নেয়ার কারণে মূলত কর পরবর্তী মুনাফায় এ ক্ষতি হয়েছে। ভারতের বাজারে নতুন প্রতিযোগীসহ আগ্রাসী প্রতিযোগীতা এবং অপ্রত্যাশিত কয়েকটি ঘটনার কারণে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাত্র ৩০ কোটি ৪০ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত আয় হয়েছে।

কৌশলগত বিনিয়োগ অব্যহত রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতির লক্ষ্যে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের কারণে বেশ কয়েটি বড় খাতে ব্যয় হয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে রবি’র অবস্থান আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে দেশটির টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথম একীভূতকরণের ফি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়বাবদ খরচ হয়েছে ৮ কেটি ৭০ লাখ মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত। একই অর্থবছরে এনসেল অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত খাতে খরচ হয়েছে ৩১ কোটি ৩০ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত।

ইন্টারনেট সেবায় নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে বিশেষত মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশে মূলধনী ব্যয়ের কারণে অবচয় ও ঋণ পরিশোধে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে যা ২০১৫ সালের তুলনায় ১৫০ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বেশি। এর মধ্যে ৬০ কোটি ক্রমবর্ধমান অবচয়ও রয়েছে। ২০১৬ অর্থবছরে ডিজিটাল বা ইন্টারনেট খাতে বিনিয়োগের কারণে প্রারম্ভিক লোকসান হয়েছে।

২০১৬ সালের কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ৬৫ কোটি ৭০ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০১৫ সালে যা ছিল ২৬০ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। এককালীন ও পরিচালন ব্যয় ১৫০ কোটি বাদ দিয়ে ২০১৬ সালের কর-পরবর্তী মুনাফা স্বাভাবিক আছে।

আজিয়াটা’র প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার তান শ্রি জামালুদিন ইব্রাহিম বলেন, ‘কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপের কারণে ২০১৬ সালটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জের। সর্বোচ্চ রাজস্ব অর্জন ও পরিচালন মুনাফায় (ইবিআইটিডিএ) শক্তিশালী অবস্থান সত্ত্বেও এ অর্থবছরে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জিত হয়নি। আজিয়াটার কয়েকটি কোম্পানির ফলাফলে স্বভাবতই আমরা অসন্তুষ্ট হলেও বেশ কয়েকটি কোম্পানি খুব ভাল করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মার্কিন ডলারের বিপরীতে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের মান কমে যাওয়ায় গ্রুপের মুনাফা কমেছে। এনসেল অধিগ্রহণের লক্ষ্যে মার্কিন ডলারের হিসাবে ঋণ নেয়ায় ফরেক্স লোকসানের কারণে এমনটি হয়েছে। এছাড়া ভারতে আগ্রাসী প্রতিযোগিতার কারণে কম মুনাফা অর্জন, যেখানে সাধারণত ভাল ফলাফল পাওয়া যায়; কৌশলগত বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশ ও নেপালে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ফলে একাকলীন ও অন্যান্য ব্যয়; ইন্টারনেট খাতে নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে থাকার লক্ষ্যে ক্রমাগত মূলধনী বিনিয়োগের ফলে অবচয় ও ঋণ পরিশোধে অধিক অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান অবচয় এবং ডিজিটাল বা ইন্টারনেট খাতে প্রাথমিক বিনিয়োগের কারণেও গ্রুপের মুনাফা কমেছে।’

আজিয়াটা সম্পর্কে:

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি হিসাবে আজিয়াটা গ্রুপ ১০টি দেশে ৩০০ মিলিয়ন গ্রাহককে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেশনে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবা ও ডিজিটাল সেবা প্রদানের মাধ্যমে সেরা সংযোগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ কাজে লাগিয়ে এশিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে আজিয়াটা।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোতে সিংহভাগ মালিকানা রয়েছে আজিয়াটার। মালয়েশিয়ায় ‘সেলকম’, ইন্দোনেশিয়ায় ‘এক্সএল’, শ্রীলঙ্কায় ‘ডায়ালগ’, বাংলাদেশে ‘রবি’, ক্যাম্বোডিয়ায় ‘স্মার্ট’, নেপালে এনসেল এবং কৌশলগত অংশীদার হিসাবে ভারতে ‘আইডিয়া’ ও সিঙ্গাপুরে ‘এম ওয়ান’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে আজিয়াটা।

প্রতিশ্রুতিশীল ও দীর্যমেয়াদী বিনিয়োগকারী হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ২৫ হাজার মানবসম্পদ নিয়োগ করেছে আজিয়াটা। অগ্রগতি ধরে রাখার লক্ষ্যে তরুণ মেধাবীদের উন্নয়নে পদক্ষেপ এবং দুর্যোগকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের ওপর জোর দিচ্ছে আজিয়াটা।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.