রাজশাহীতে গ্রামীণফোন ও বিশ্ব সাহিত্যে কেন্দ্রের পুরষ্কার বিতরণী

বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচিতে নিজের উৎকর্ষতার পরিচয় দেয়ার জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, রাজশাহীতে ১০৮২ জন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কার প্রদান করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন। সকাল সাড়ে আটটায় নগরীর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আমন্ত্রিত অতিথিগণকে সঙ্গে নিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন উপসচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ ।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৬ সালে রাজশাহী মহানগরীর ৩৪টি স্কুলের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে মূল্যায়নপর্বে যারা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে, তাদেরকে পুরস্কার প্রদানের জন্য গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় এই পুরস্কার বিতরণী উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এই উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও লেখক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মনির হোসেন, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব খায়রুল আলম সবুজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান সরকার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নাটোর শাখার সংগঠক ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অলক মৈত্র, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ মো. তাইফুর রহমান, গ্রামীণফোনের রাজশাহী হেড অব সার্কেল মার্কেটিং সোহেল মাহমুদ এবং উপসচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ স্বাগত বক্তব্যে পুরো বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান। বিশ্বসাহিত্য কের্র্ন্দের এই পথ চলায় সকলের সহযোগিতা উত্তরোত্তর আরো প্রসারিত হবে এবং আগামী বছর এই বইপড়া কর্মসূচির সদস্য সংখ্যা আরো উন্নিত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক প্রথমেই পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ভাষাভিত্তিক একটি দেশ। তোমাদের বিভিন্ন দেশের ভাষা, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি শেখার প্রয়োজন আছে। তোমরা দেশের ভবিষ্যৎ। এটা কথার কথা নয়। এটা বাস্তব। সঠিক সংস্কৃতির জায়গায় নিয়ে যাওয়া তোমাদের দায়িত্ব। এই দিনটাই তোমাদের নতুন জীবনের ডাক দিয়েছিল। এই বয়সে বহু রকমের পথের হাত ছানি দেবে। কিন্তু মানবিকতার প্রকাশ যেন ঘটে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বই সবসময়ই মানবিকতার কথা বলে। আমরা সবাই যদি মানবিক হই, দেখবো, বাংলাদেশ একদিন পরিবর্তন হয়ে গেছে। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চলের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান সরকার শুরুতেই পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানান। তারপর বলেন, মানুষের জন্য তিনটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো- বই, বই আর বই। তোমরা ব্যস্ত থাকবে বই পড়ে। কেননা মানুষ ব্যস্ততার মধ্যে থাকলে ভালো থাকে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই মহৎ কাজটি পরিচালনা করার জন্য বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

নাট্যব্যক্তিত্ব খায়রুল আলম সবুজ বলেন, বাংলাদেশে একসময় ভাল মানুষের বসবাস হবে, জ্ঞানী মানুষের বসবাস হবে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সেই কাজগুলো করে যাচ্ছে। সমৃদ্ধ দেশের জন্য সমৃদ্ধ মানুষ দরকার। তোমরাই সেই সমৃদ্ধ মানুষ। তোমরা যখন দেশের হাল ধরবে দেখবে সত্যি সত্যিই বাংলাদেশ সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়েছে। সবশেষে পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রী ও তার অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নাটোর শাখার সংগঠক ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অলক মৈত্র বলেন,এই দেশ মাতৃকার সেবা করে সোনার বাংলা গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি এখনো বইপড়া কার্যক্রমের সাথে যুক্ত আছি। আমরা বিশ্ব দরবারে শিঁড় উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। আর শিঁড় উঁচু করে দাঁড়াতে হলে বই পড়তে হবে। বই পড়লে আমাদেরকে কেউ অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারবে না। তাই বই পড়ে পুরস্কার পাওয়ার জন্য পুরস্কার প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ মো. তাইফুর রহমান উপস্থিত পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রী,অভিভাবকবৃন্দ,মঞ্চে উপস্থিত শ্রদ্ধেয় অতিথিবৃন্দ আগত সবাইকে তার স্কুলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। বিশেষ করে যাদের জন্য এই উৎসব সেই পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বই মানুষকে ধৈর্য্য ধরতে শিক্ষা দেয়, সৃজনশীল হতে শিক্ষা দেয়। তিনি ছাত্রছাত্রীদের আরো বেশি বই পড়ার আহ্বান জানান এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে এই মহৎ কাজ পরিচালনার জন্য অভিনন্দন জানান।

গ্রামীণফোনের রাজশাহী অঞ্চলের হেড অব সার্কেল মার্কেটিং সোহেল মাহমুদ বলেন, সারাদেশে বইপড়া কর্মসূচি এভাবে বাড়তে থাকলে দেশ আর অন্ধকারে থাকবে না, আলোকিত হয়ে যাবে। জ্ঞান মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের চলার পথ কখনোও মসৃণ নয়। তবে এই জ্ঞান আমাদের চলার পথকে মসৃণ করে দেয়। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তোমরা বেশি বেশি করে বই পড়বে। তিনি জানান, http://www.alorpathshala.org ওয়েবসাইটে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বই অনলাইনে পড়ার সুযোগ আছে যা ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল ছাত্রছাত্রীসহ উপস্থিত সকলকে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ স্বাগত বক্তব্যে পুরো বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই পথ চলায় সকলের সহযোগিতা উত্তরোত্তর আরো প্রসারিত হবে এবং আগামী বছর এই বইপড়া কর্মসূচির সদস্য সংখ্যা আরো উন্নিত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত রাজশাহী মহানগরীর বইপড়া কর্মসূচির এই পুরস্কার বিতরণী উৎসবে ৩৪টি স্কুলের ১ হাজার ৮২ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

গ্রামীণফোন এর সহযোগিতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত রাজশাহী মহানগরীর বইপড়া কর্মসূচির এই পুরস্কার বিতরণী উৎসবে ৩৪টি স্কুলের এক হাজার ৮২ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় সারাদেশে প্রায় দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পড়া কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই লক্ষ ছাত্রছাত্রী বইপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা ও বরিশাল মহানগরীর স্কুলসমূহের বিজয়ী ছাত্রছাত্রীকে বর্ণাঢ্য উৎসব মুখর পরিবেশে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। আগামী মার্চ মাসে চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরীর ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণী উৎসব সম্পন্ন হবে।

উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের গল্প শুনে তাদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে ছাত্রছাত্রীরা বইপড়ার বিষয়ে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠে। পাঁচটি মহানগরীর বাইরে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজয়ী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক আয়োজনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.