বাজেটে রবি’র প্রত্যাশা

আগামীকাল বৃহস্পতিবার, সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মোবাইল অপারেট রবি, আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজেট ঘিরে তাদের প্রত্যাশার কথা। বাজেটে রবির প্রত্যাশা হচ্ছে:

* প্রথমে আমাদেরকে বিদ্যমান সব ধরনের বিবাদ সমাধান করা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে এ ধরনের অনেক সমস্যা রয়েছে এবং এসব সমস্যা বিনিযোগকারীদের আস্থা অর্জনে সাহায্য করে না। সিম ট্যাক্স এখনো পর্যন্ত একটি প্রধান বাধা হিসাবে বিদ্যমান আছে যা এ খাতের উন্নয়নকে দমিয়ে রাখে। আমরা একক গ্রাহকের সংখ্যা ৫৪ শতাংশে বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। বাকী গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম, যার মানে হচ্ছে সিম ট্যাক্স প্রদান করার কারণে এসব প্রাহকদের কাছে পৌঁছানো খুব কঠিন হবে।

* গ্রাহকদের জন্য আমাদের মানসম্পন্ন সেবা উন্নত করতে এবং ফোরজি সেবা নিয়ে আসতে আমাদের অতিসত্ত্বর প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা প্রয়োজন। তরঙ্গের উপর থেকে ভ্যাট তুলে দেওয়া প্রয়োজন অথবা বিধিবদ্ধ প্রয়োজন অনুসারে আমাদেরকে মুসক-১১ প্রদানের জন্য বিটিআরসি’র প্রয়োজন ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন করা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে স্পেকট্রামের ওপর ওপর ভ্যাট প্রযোজ্য হয় না।

* বাৎসরিক বিক্রির সর্বনিম্ন ৭৫ শতাংশ ট্যাক্স অথবা এআইটি হিসাবে উচ্চহারে যে অর্থ নেয়া হয় আমরা তার বিলুপ্তি দেখতে চাই। রিবেট চাওয়ার জন্য ট্রেজারি চালানকে মুসক চালান হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। আমাদের টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতির কাস্টমস ডিউটি সমন্বয় করা প্রয়োজন। কাস্টমস ডিউটি নিয়ে অব্যহত বিবাদ সহজেই এড়ানো সম্ভব। এজন্য আমাদের শুধুমাত্র সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

* বর্তমান কর্পোরেট ট্যাক্সের রেট (৪৫%) অন্তত ৪০%এ কমিয়ে আনা প্রয়োজন। ভোক্তাকে আরো সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করতে ভোক্তা কর কমানো প্রয়োজন। এই মুহূর্তে টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য তারা ১০০ টাকার সমান খরচ করলে সেখান থেকে ২১.৭৫ টাকা সরকারের তহবিলে চলে যায় ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ হিসেবে। ইন্টারনেট সেবা থেকে ভ্যাট তুলে দেয়া উচিত, এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রক্রিয়ায় সহায়ক নয়।

টেলিকম খাত থেকে করের ভার কমিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনের উপায়
* আমরা বিশ্বাস করি, যদি আমাদের প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয় তাহলে জাতীয় উন্নয়নে এই খাতের অবদান নানাবিধভাবে বেড়ে যাবে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত ‘ইকনোমিক ইম্প্যাক্ট: বাংলাদেশ মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি- জিএসএমএ’ অনুসারে, এই ইন্ডাস্ট্রি ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে এবং অপারেটরদের জন্য যদি সঠিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় তবে ২০২০ সালে ৮২০ হাজার মানুষের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাকুরির সুযোগ তৈরি করতে পারবে। এ ধরনের অবদান বর্তমানে তারা যা করছে তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

* পাশাপাশি, আমরা যদি অতীতের দিকে তাকাই তবে দেখতে পাবো যে, ২০১১ সালে যখন সিম ট্যাক্স ৬০০ টাকা করা হয়েছিল তখন জিডিপি’তে এ খাতের অবদান ছিল ৩.২%, ২০১৩ সালে যখন এটি কমিয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছিল তখন জিডিপিতে এ খাতের অবদান বেড়ে ৪.৯% হয়েছিল এবং ২০১৫ সালে সিম ট্যাক্স কমিয়ে যখন ১০০ টাকা করা হয়েছিল তখন জিডিপিতে অবদান ছিল ৬.২%। এ কারণে ট্যাক্স কমানোর পক্ষে পরিস্কার যুক্তি আছে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.