যুক্তরাষ্ট্রের সবচে দামি প্রতিষ্ঠান ‘মাইক্রোসফট’

যুক্তরাষ্ট্রের সবচে দামি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেলো মাইক্রোসফট। প্রায় সড়ে সাতশো বিলিয়ন ডলার বাজার মূলধন নিয়ে প্রথমবারের মত প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলকে পেছনে ফেললো সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকা বলছে এর আগে ২০১০ সালে অ্যাপলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো বিল গেটসের প্রতিষ্ঠানটি। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার মুল্যমানের প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পাওয়ার নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে ব্যাপক দরপতনের অভিজ্ঞতা পায় অ্যাপল। গত শুক্রবারে পুঁজিবাজারে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন হয় সাতশো ছিচল্লিশ বিলিয়ন ডলার, যা কিনা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশার অনেক নিচে। পাশাপাশি সাতশো ছত্রিশ বিলিয়ন ডলার বাজার মূল্য নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। প্রযুক্তি বিশ্বের মহীরুহ গুগলকে চতুর্থ অবস্থানে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটির সাতশো পঁচিশ বিলিয়ন ডলারের মূল্যমান। এমএসপাওয়ার ইউজার ডটকম নামের একটি ব্লগে বলা হয়েছে, সিলিকন ভ্যালীর জায়ান্টদেরকে পেছনে ফেলে সবচে দামি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে এগিয়ে রাখলো মাইক্রোসফট।

পাশাপাশি যখন ফেইসবুক গুগলের মত প্রতিষ্ঠানেরা বিশ্বব্যাপী গ্রাহক তথ্য সুরক্ষায় ‘বিতর্কিত’ অবস্থানে তখন বিনিয়োগকারীরা ক্লাউড ভিত্তিক সেবা এবং সফটওয়্যার ফার্মে অর্থ সঞ্চালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন বলে দাবি বাজার বিশ্লেষকদের। আন্তর্যালে মেঘভিত্তিক সেবা অ্যাজিউর ক্লাউড, গেমিং এবং সারফেইস ল্যাপটপের মাধ্যমে বাজারে আধিপত্য রেখে এবছরের প্রথমার্ধে ২৯ বিলিয়ন রাজস্বসহ ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন নেট আয় ছিলো প্রতিষ্ঠানটির। মাইক্রোসফটের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশ যখন নেট আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত। এই সময়কালে প্রতিষ্ঠানটি ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে পরিচলন মূনফা করে ১০ বিলিয়ন ডলার।

মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বলেন, নতুন বছরে অসাধারন একটি শুরু হবে আমাদের। নতুন উদ্ভাবন এবং গ্রাহকের আস্থা আমাদের প্রযুক্তিগত রুপান্তরের শক্তি হিসেবে কাজ করে। বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্লাউড সেবায় ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব এই ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির গতবছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। মাইক্রোসফট বলছে এই সময়কালে সার্ভার পন্যে ২৮ শতাংশ প্রবিদ্ধি হলেও সবচে বেশি আকর্ষন ছিলো অ্যাজিউর সেবা যেটির বাজার ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মাইক্রোসফটের আদি ব্যাবসা ব্যাক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) পন্যেও সমানতালে এগচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পনেরো শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব অর্জন করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। মাইক্রোসফটের বিবৃতি অনুযায়ী বানিজ্যিক উইন্ডোজ এবং ক্লাউড সেবায় ১২ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

গেমিং বাজারে এক্সবক্স এবং সারফেইস পন্য দুটি সমানতালে এগিয়ে রেখেছে মাইক্রোসফটকে। প্রতিষ্ঠানটির এক্সবক্স সেবার প্রবৃদ্ধি ৩৬ শতাংশ হলেও গেমিং সেক্টরের সার্বিক বাজার প্রবৃদ্ধি ছিলো ৪৪। এককভাবে সারফেইস পন্যের রাজস্ব বেড়েছে ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মুঠোফোন বাজারের আধিপত্য বজায় রেখেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন নতুন আইফোন এক্সআরের বিশ্ববাজারে ৩ কোটি ইউনিট চাহিদা রয়েছে। জাপানের মিং চি-কুও নামে একজন অ্যাপল বিশেষজ্ঞ আভাস দিয়েছেন যে আইফোন এক্সআর পন্যটির জীবনসীমার মধ্যে বিশ্ববাজারে সাত কোটি ইউনিট বিক্রি হবে।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি

Please Share This Post.