মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নতুন নির্দেশনা

মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় অসাধু ব্যক্তিদের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত নতুন নিয়মানুযায়ী, কোনো মোবাইল হিসাবে ৫০০০ টাকা এবং তার বেশি নগদ অর্থ জমা (ক্যাশ-ইন) বা উত্তোলন (ক্যাশ-আউট) করার ক্ষেত্রে গ্রাহককে তার পরিচয়পত্র/স্মার্ট কার্ড বা তার ফটোকপি এজেন্টকে প্রদর্শন করতে হবে এবং এজেন্ট গ্রাহকের যাবতীয় পরিচয়পত্র নম্বর রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রাখতে হবে। মোবাইল অ্যাকাউন্টে গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জমা এবং দিনে ১০ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করতে পারবে না। – এসব সহ আরো বেশ কিছু নতুন নিদের্শনা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সেবাদাতা ব্যাংক ও তার সাবসিডিয়ারী কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করার নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সেবাদাতা ব্যাংক ও তার সাবসিডিয়ারী কর্তৃপক্ষের প্রতি নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস একটি দ্রুত বিকাশমান সেবা যা অতি অল্প সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশেষতঃ নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি এ সেবাটির অপব্যবহার করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে যা দেশ জাতির জন্য ক্ষতিকর।

এ প্রেক্ষিতে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস এর অপব্যবহার রোধকল্পে এবং এর সুশৃঙ্খল ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে নিম্নিলিখিত নির্দেশনাসমূহ প্রস্তুত করা হয়েছে যা যথার্থভাবে পরিপালনের জন্য আপনাদেরকে পরামর্শ দেয়া হল:

১. পেমেন্টে সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক জারিকৃত ২৭/১১/২০১৪ তারিখের পিএসডি সার্কুলার নং-০৭/২০১৪ এর মমার্থ মোতাবেক একজন ব্যক্তি কোনো এফএফএস প্রোভাইডার এর সঙ্গে একাধিক মোবাইল হিসাব চলমান রাখতে পারবেন না। সে প্রেক্ষিতে কোনো গ্রাহককের একই জাতীয় পরিচয়পত্র/স্মার্ট কার্ড বা অন্য কোনো পরিচয়পত্রের বিপরীতে আপনাদের সঙ্গে একাধিক মোবাইল হিসাব থাকলে উক্ত গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে তার বেছে নেয়া যেকোনো একটি মোবাইল হিসাব চালু রেখে অন্য হিসাবগুলো বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে এরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ দুরূহ হলে যে হিসাবটিতে সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে তা চালু রেখে অন্য হিসাবগুলো বন্ধ করতে হবে।

২. উপরিল্লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণকালে যে সকল মোবাইল হিসাব বন্ধ করা হবে তার সমুদয় স্থিতি সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে পরিশোধ/প্রদান বা হস্তান্তরের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. মোবাইল ফিনান্সয়াল সার্ভিসেসের ব্যক্তি হিসাবের ক্ষেত্রে লেনদেন সীমা নিম্নরূপে পুন:নির্ধারণ করা হল:

ক্যাশ-ইন : দিনে সর্বোচ্চ মোট ১৫,০০০ টাকা, অনধিক ২ বারে। মাসে সর্বোচ্চ মোট ১,০০,০০০ টাকা, অনধিক ২০ বারে।
ক্যাশ-আউট : দিনে সর্বোচ্চ মোট ১০,০০০ টাকা অনধিক ২ বারে। মাসে সর্বোচ্চ মোট ৫০,০০০ টাকা অনধিক ১০ বারে। একটি মোবাইল হিসাবে ক্যাশ-ইন হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই হিসাব থেকে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকার বেশি নগদ উত্তোলন (ক্যাশ-আউট করা যাবে না)।
পি২পি অর্থ স্থানান্তর : পূর্ব নির্ধারিত সীমা, অর্থাৎ প্রতিদিন সর্বোচ্চ টাকা ১০,০০০ এবং মাসিক ভিত্তিতে সর্বমোট টাকা ২৫,০০০ বলবৎ থাকবে।

৪. কোনো মোবাইল হিসাবে ৫০০০ টাকা এবং তার বেশি নগদ অর্থ জমা (ক্যাশ-ইন) বা উত্তোলন (ক্যাশ-আউট) করার ক্ষেত্রে গ্রাহক কর্তৃক তার পরিচয়পত্র/স্মার্ট কার্ড বা তার ফটোকপি এজেন্টকে প্রদর্শন করতে হবে এবং এজেন্ট গ্রাহকের যাবতীয় পরিচয়পত্র নম্বর রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন।

৫.এজেন্ট গ্রাহকের মোবাইল হিসাবে নগদ অর্থ জমাকরণ (ক্যাশ-ইন) এবং উত্তোলনের (ক্যাশ-আউট) বিবরণ পৃথক পৃথক রেজিষ্টারে লিপিবদ্ধ করবেন এবং লিপিবদ্ধ প্রত্যেকটি লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকের স্বাক্ষর বা টিপসহি লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৬. উপরিল্লিখিত কার্যাদি এজেন্টকে যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং বর্ণিত কার্যাদি সম্পাদনে এজেন্টের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে এজেন্টেরে এজেন্সিশীপ বাতিল করতে হবে। সে লক্ষ্যে, এজেন্টদের ওপর নজরদারি জোরদার করতে হবে।

৭. উপরের ১ এবং ২ নং ক্রমিকে বর্ণিত বিষয়ে আপনাদের গৃহীত পদক্ষেপ মাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। প্রতি মাসের বিবরণী পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করতে হবে।

৮. ০১/০৯/২০১৩ তারিখের পিএসডি সার্কুলার লেটার নং-০১/২০১৩ এর অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক