মোবাইল নম্বর পোর্ট্যাবিলিটির চালু, ৯০ দিনে ১বার অপারটের বদলের সুযোগ

দেশে মোবাইল গ্রাহকদের বহুল প্রতীক্ষিত সেবা মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তন করার সুবিধা তথা মোবাইল নম্বর পোর্ট্যাবিলিটি (এমএনপি)-এর অপারেশনাল এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম আজ ০১ অক্টোবর ২০১৮ রাত ১২:০০ থেকে চালু করা হয়েছে। এখন থেকে মোবাইল গ্রাহকগণ তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে যে কোন অপারেটরে বদল করে ভয়েস ও ডাটা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। একজন সেবা গ্রহীতা নির্ধারিত ফি প্রদানের মাধ্যমে প্রতিবারের জন্য অপারেটর বদল করতে পারবেন।

একজন গ্রাহক একবার অপারটের বদলে ৯০ দিনের মধ্যে পুনরায় অপারটের বদল করতে পারবনে না। ইতোমধ্যে কমিশন কর্তৃক এমএনপি প্রসেস এর কারিগরী ও বাণিজ্যিক মডেল নির্ধারণ করা হয়েছে যার উপর ভিত্তি করে এমএনপি, মোবাইল অপারেটর, আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স, আইপিটিএসপি, পিএসটিএন অপারেটর প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের সিস্টেম স্থাপন, আপগ্রেডেশন এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কারগিরী পরীক্ষা- নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

মোবাইল নম্বর পোর্ট্যাবিলিটি বা এমএনপি সেবা বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য একটি বড় পরিবর্তন এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে আরেকটি ধাপ অতিক্রম করলো বাংলাদেশ। আজ বিটিআরসি’র প্রধান সম্মেলন কক্ষে কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল হক উপস্থিত থেকে এ সেবাটির বানিজ্যিক কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালুর বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের এ সেবার কারিগরী ও বানিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়ে অবহিত করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি’র বিভিন্ন বিভাগের কমিশনার, মহাপরিচালক, পরিচালক ও এমএনপি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেক-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

এমএনপি বাস্তবায়নের নিমিত্তে স্টেকহোল্ডারদরে মধ্যে সমন্বয়রে দায়ত্বিপ্রাপ্ত র্কমর্কতা এবং বিটিআরসি’র ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডয়িার জেনারেল মোঃ মোস্তফা কামাল এমএনপি সেবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে আগত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীদের নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সহজতর উপায় সম্পর্কে সম্যক ধারনা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর ২০১৭ এ বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার যৌথ কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেক কে মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে দেশে মোবাইল নম্বর পোর্ট্যাবিলিটি বা এমএনপি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

অপারেশন চালুর পরবর্তী ০৬ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের মোবাইল গ্রাহকের কমপক্ষে ০১ শতাংশ, ০১ বছরের মধ্যে ০৫ শতাংশ এবং ০৫ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ-কে এ সেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া, এমএনপি গাইডলাইনের শর্তানুযায়ী বাৎসরিক লাইসেন্স ফি ২৫ লক্ষ টাকা, রেভিনিউ শেয়ারিং (২য় বছর থেকে) ১৫ শতাংশ হারে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে ২য় বছর থেকে বাৎসরিক নিরীক্ষাকৃত আয়ের ০১ শতাংশ বিটিআরসিকে প্রদান করতে হবে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭২টি দেশে এ সেবাটি চালু রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১১ সালে এবং পাকিস্তানে উক্ত সেবা ২০০৭ সাল থেকে চালু রয়েছে।

এমএনপি চালু হলে এক অপারেটরের নম্বরে অন্য অপারেটরের নেটওর্য়াক ব্যবহার যাবে। গ্রাহক যে অপারেটররের সেবা পছন্দ করবে, বিনা দ্বিধায় সেই অপারেটরে বদল করতে পারবে। এ জন্য নিজের ফোন নম্বরটিও পাল্টাতে হবেনা। এ সেবা প্রবর্তনের ফলে মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে গুনগত সেবা (Quality of Service) প্রদানের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ
Please Share This Post.