মোবাইল ওয়ালেটই হবে মুদ্রা বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম

প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারে পারস্পরিক সহায়তা আরও বাড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে শেষ হলো দুই দিনের সার্ক টেক সামিট ২০০১৬। সিটিওফোরাম এবং ইনফোকমের যৌথ আয়োজনে বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের শেষদিন শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৭টি সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম। এর মধ্যে দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল যুগে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির সংশ্লেষ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্স্যুরেন্স ইনফরমেশন ব্যুরো অব ইন্ডিয়ার ক্যাম্পস ইন্স্যুরেন্স রিপোজিটরি সার্ভিস লিমিটেডের ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর জয়দীপ রায়। মূলপ্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন আশরাফুল ইসলাম, ডিজিএম, ফিন্যানন্সিয়াল ইনক্লুসন, বাংলদেশ ব্যাংক এবং শুভংকর সাহা, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

মূল প্রবন্ধে জয়দীপ রায়, অনলাইন ইন্স্যুরেন্স এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যত প্রযুক্তিতে অর্থ বিনিময় ধারায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ইতিমধ্যেই বিটকয়েন- সেই আলামত দেখাতে শুরু করেছে। আর মুঠোফোন জীবন ধারায় যে রেঁনেসার জন্ম দিয়েছে তাতে বোঝাই যাচ্ছে মোবাইল ওয়ালেটই হবে আগামীর মুদ্রা বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম।

সবসময়ই ভোক্তারা চয় কত কমে ও দ্রুততার সঙ্গে পণ্য ও সেবা পাবে। তারা চায় পণ্যের বৈচিত্রতা, অনেক পণ্যের মধ্য থেকে তারা প্রয়োজনীয়টা বেছে নিতে। আর এসব কারণেই ব্যবসায়কে এখন অনলাইনমুখী হতে হচ্ছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ব্র্যান্ড এবং প্রথাগত প্রচারণায়ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যাবসায়ীকে মার খেতে হচ্ছে। আর এই সেবায় ডিজিটাল রূপন্তরে প্যাটার্নের পাশাপাশি গেমিফিকেশন এর মাধ্যমে সিকিউরিটি ইথিকস ও ক্যারেক্টর সম্পর্কে ব্যবহারকারিদের অবহিত করার প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, প্রযুক্তি ভীতি দূরকরতে এই খাতেও ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্স চালু করা দরকার।

আলোচনায় বাংলাদশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, দেশে প্রতিদিন মেবাইলে ৫৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ ব্যাংকিংয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। গত পাঁচ বছরে কৃষি অর্থনীতি ভিত্তিক দেশ এখন অর্থনীতিক সমৃদ্ধির পথে হাঁটতে শুরু করেছে। আমরা সরকারের পাশাপশি অর্থনৈতিক খাতেও ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ করছে।

এর আগে জীবনের যাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভয় ও সঙ্কোচকে জয় করতে হবে। এজন্য কারিগরি উন্নয়ন ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে অ্যানালগ পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে হোঁচট ক্ষেতে হবে। হুমকীর মুখে পড়তে পারে ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা। আর এই নিরপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখতে সার্কভূক্ত দেশগুলোর প্রযুক্তি কর্মীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তরা।

শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে শুরু হয় দুই দিনের ‘সার্ক টেক সামিট’ ২০১৬। সার্ক চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতায় যৌথভাবে ‘আর্কিটেক্টিং সিকিউর ডিজিটাল বিজনেস’ স্লোগানে শুরু হওয়া এই প্রযুক্তি সম্মেলনের আয়োজন করে সিটিও ফোরাম এবং ইনফোকম।
স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও  ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মায়ানমারের প্রায় ৪শ’ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই সম্মেলনে অংশ নেন।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স

Please Share This Post.