মোবাইলে অর্থ লেনদেনে নিরাপত্তা অগ্রগণ্য : তপন কান্তি সরকার

পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর, সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, বিআইবিএম (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট) এবং ভিসার সহযোগীতায় ‘সিকিউর ইউর পেমেন্ট ইকোসিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকার্স ও একাডেমিশিয়ানদের জন্য দু’দিনব্যাপী আয়োজিত আর্ন্তজাতিক সম্মেলনের অংশ হিসাবে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভিসা ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার সিনিয়র ডিরেক্টর (ক্লায়েন্ট সাপোর্ট) সঞ্জয় নাজারেথ ও সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএম এর ডিরেক্টর জেনারেল ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।

সেমিনারের দ্বিতীয় ভাগে সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকারের সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে প্যানেল আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চ্যাটার্ট ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি প্রধান মো. মুনিতুর রহমান, কর্মাশিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসির তথ্যপ্রযুক্তি প্রধান ড. ইজাজুল হক ও ডাটা এজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুর এ আলম।

মূল বক্তব্যে সঞ্জয় নাজারেথ অনলাইন লেনদেন এবং কার্ড ব্যবহারের ব্যক্তি পর্যায় হতে প্রতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চতকরণে বিভিন্ন পদ্ধতি এবং আধুনিক প্রযুক্তিক সমাধানের উপায়গুলো ব্যখ্যা করেন।

সেমিনারে সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক আরটিজিএস, বিএফটিএন, ইএফটি, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ সহ অনেকগুলো প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করেছে, যার মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিকভাবে টাকা লেনদেন হচ্ছে। বর্তমানে ইএফটির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৮ লাখ লেনদেন হয় যা টাকার অংকে প্রায় ৫৭৮০ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে প্রায় ৭২০০ এটিএম বুথ আছে যার মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৪,০০,০০০ বারেরও বেশি লেনদেন হয় যা টাকার অংকে প্রায় ২৮০ কোটি টাকাও বেশি, পিওএস মেশিন আছে প্রায় ৩২,০০০ যার মধ্যে প্রায় ১৬,০০০ ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইসের সঙ্গে যুক্ত। পিওএস এর মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৩৬,০০০ এরও বেশিবার লেনদেন হয় যা টাকার অংকে প্রায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি। আমাদের দেশে ৮০র দশকের শেষ দিক থেকে কার্ড এর প্রচলন শুরু হয়েছে এবং ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন শুরু হয়েছে ১৯৯৭ সাল থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ এবং ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেকার্ডের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার বারেরও বেশি লেনদেন হচ্ছে যা টাকার অংকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। ই-কমার্সের প্রসারের ফলে অনলাইনেও টাকা লেনদেনের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৩৫০ কোটি টাকা। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের খুচরা বাজারগুলোর ২ থেকে ৩ শতাংশ অনলাইনে আনা সম্ভব হলে অনলাইন বাজারের পরিমান দাড়াবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। সম্ভামনাময় এই খাতের উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলো অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তা। অনলাইনে লেনদেনের সিংহভাগই প্লাষ্টিক মানি বা মোবাইলেই লেনদেন হয়ে থাকে। এবং এক্ষেত্রে কার্ডের তুলনায় মোবাইলে ঝুঁকি বেশি। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে ব্যাংকিং সেবাপ্রদান এবং গ্রহণে নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ নিশ্চিতকরণে প্রয়েজনীয় প্রযুক্তি দক্ষতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই এই সেমিনারের উদ্দেশ্য। আমরা মনে করি সিটিও ফোরামের এই আয়োজন দেশের অনলাইন বা ই-কমার্সের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদেরকে অবশ্যই পিসিআই-ডিএসএস ও ইএমভির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। আমাদের দেশে ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততটা সন্তোষজনক নয়। আমরা আর কোন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে গ্রাহকের টাকা ও তথ্য সুরক্ষিত রাখতে পারি, সেই বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।’

সেমিনারে বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি প্রধান ও কার্ড ডিভিশনের প্রধানরা সহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.