মিডল আর্থ: শ্যাডো অব ওয়ার

লর্ড অব দ্য রিংস অথবা হবিট-এর সাথে যারা পরিচিত, মিডল আর্থ নামটি তাদের কাছে পরিচিত ঠেকবে। জে.আর.আর টলকিনের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় গেম মিডল আর্থ: শ্যাডো অব ওয়ার।

শ্যাডো অব ওয়ার ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া শ্যাডো অব মরডোর এর সিকুয়্যেল। এটি একটি থার্ড পারসন ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার গেম। এর নির্মাতা মনোলিথ,প্রকাশক ওয়ার্নার ব্রস। গেমটির অ্যাকশন গেমপ্লে অনেকটা ব্যাটম্যান আরকাম সিরিজের মতো। গেমার তলোয়ার,ড্যাগার আর তীর ধনুক ব্যবহার করতে পারবেন শত্রুদের মারার জন্য। মুখোমুখি লড়াইয়ের জন্য তলোয়ার,স্টেলথ গেমপ্লের জন্য ড্যাগার আর লং রেঞ্জ শুটিংয়ের জন্য আছে তীর ধনুক। তীর দিয়ে নিখুঁত নিশানাভেদ করার জন্য গেমার ফোকাস মোড ব্যবহার করতে পারবেন,যা সময়কে থামিয়ে দিবে।

এছাড়াও স্কিল পয়েন্ট দিয়ে অসাধারণ সব স্কিল আনলক করা যাবে। কোনো স্কিল ব্যবহার করে গেমার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যেতে পারবেন। আবার কোনো কোনো স্কিল দিয়ে ফোকাস মোডের স্থায়ীত্ব বাড়াতে পারবেন,টেলিপোর্ট করে অন্য জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন। অ্যাকশনের কম্বো অর্জন করতে পারলে ‘টেকডাউন’ শুরু হয়। টেকডাউন মোডে এক আঘাতেই শত্রুকে মেরে ফেলা যাবে। গেমে অনেক কাল্পনিক প্রাণীর দেখা মিলবে-ড্রাগনের মতো দেখতে ড্রেক কিংবা ঘোড়া আর কুকুরের সংমিশ্রণের ক্যারাগোর। এদের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে বিশেষ কৌশল খাটাতে হবে। আবার স্কিল ব্যবহার করে এসব প্রাণীকে নিজের কব্জায় নেয়া যায়। বিশেষ করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে কিংবা শত্রুদের আগুনে ঝলসে দিতে ড্রেকরা খুব কাজে দেয়।


ওপেন ওয়ার্ল্ড এই গেমটির পটভূমি আসলেই বিস্তৃত। অন্ধকারাচ্ছন্ন জঙ্গল থেকে বরফাবৃত উপত্যকা-সবই আছে এতে। কিšতু অন্যন্য ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমেও তো এমন ‘নয়নাভিরাম দৃশ্য’ দেখা যায়। শ্যাডো অব ওয়ারের বিশেষত্ব হলো ‘নেমেসিস সিস্টেম।’ গেমার শত্রুদের ‘ডমিনেট’ করতে পারবেন। সোজা কথায় শত্রুদের মহজ ধোলাই করে নিজের দলে নিতে পারবেন। এদেরকে বলা হবে ‘ফলোয়ার’।

গেমটির অন্যতম নির্দেশনা থাকে ফোর্ট বা দূর্গ দখল করার। এজন্যে গেমারকে ফলোয়ার আর্মি বানাতে হবে যারা দূর্গ দখলে গেমারকে সাহায্য করবে। আবার অনেক ফলোয়ারকে প্রতিপক্ষের দলে পাঠিয়ে দেয়া যাবে,তারা শত্রুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ট্যাকটিকাল অ্যাডভান্টেজ দিতে পারবে। গেমারের প্রত্যেকটি অ্যাকশন বা ক্রিয়ার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া ঘটবে। যেমন গেমার যদি কোনো ফলোয়ারকে বাঁচিয়ে থাকে,তাহলে সে তা মনে রাখবে এবং গেমারের মরণাপন্ন দশায় সে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে।

আবার গেমার যদি কোনো শত্রুকে আগুনে পোড়ায়, তাহলে পরের বার ওই শত্রুকে দগ্ধ অবস্থায় দেখা যাবে এবং সে-ও গেমারকে আগুনে পোড়াতে চাইবে। গেমের প্রত্যেকটি শত্রু আলাদা এবং সবার রয়েছে নিজস্ব ডায়লগ সেট। তাই কোনো ডায়লগ কিংবা শত্রুকে রিপিট হতে দেখা যাবে না। গেমার যার হাতে মারা যাবে, সে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং পরেরবার দেখা হলে গেমারকে তাচ্ছিল্য করবে। এই ‘নেমেসিস সিস্টেম’ নির্মাতা মনোলিথের মস্তিষ্কপ্রসূত এবং পুরোপুরি ‘অরিজিনাল কনসেপ্ট।’

গেমটি খেলার জন্য যা যা প্রয়োজন:
অপারেটিং সিস্টেম: উইন্ডোজ ৭
প্রসেসর: ইন্টেল আই ৫-২৫৫০কে ৩.৪ গিগাহার্টজ
র‌্যাম: ৮ গিগাবাইট
গ্রাফিক্স কার্ড: জিফোর্স জিটিএক্স ৬৭০ অথবা রেডিয়ন ৭৯৫০
হার্ডডিস্ক: কমপক্ষে ৬০ গিগাবাইট খালি জায়গা

শ্যাডো অব ওয়ারের কাহিনী লর্ড অব দ্য রিংস আর হবিট-এর মাঝামাঝি সময়ের। মিডল আর্থের ত্রাস ‘সওরন’কে মূল ভিলেনের ভূমিকায় দেখা যাবে। এছাড়াও নাজগুল,শিলোব,ব্যালরগ এর মতো চরিত্রকে দেখতে পাওয়া যাবে গেমটিতে। আর অতি পরিচিত ‘গলাম’ তো আছেই। আগের গেমের রেঞ্জার ট্যালিয়ন আর এলফ ক্যালিব্রিম্বর এবারও থাকছে প্রটাগনিস্টের ভূমিকায়। তারা সওরনকে প্রতিহত করার জন্য নতুন ‘রিং অব পাওয়ার’ তৈরি করে।

এটা ব্যবহার করে তারা অর্কদের মগজ ধোলাই করে আর বিশাল বাহিনী গড়ে তোলে। এদিকে সওরনও বসে নেই। সে পুরো মিডল আর্থকে নিজের কব্জায় নিয়ে আসার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। প্রটাগনিস্টকে বাধা দিতে তার অনুগত নাজগুল বাহিনীকে পাঠায়। শুরু হয় মহাযুদ্ধ, মাটি থেকে জেগে ওঠে কিংবদন্তীর ব্যালরগ,পতন ঘটে বড় বড় সা¤্রাজ্যের। কাহিনীর পাশাপাশি গেমটার গ্রাফিক্স,টেক্সচার আর গেমপ্লে এতো অসাধারণ যে গেমারের মনেই হবে না কোনো গেম খেলছেন। বরং মনে হবে কোনো অ্যাকশন মুভি উপভোগ করছেন। বিশেষ করে টেকডাউনের সময় মারামারির যে অ্যানিমেশন দেখা যায়, তার সাথে কেবল ছবিরই তুলনা করা যায়। ড্রেক ব্যবহার করে ব্যালরগের সাথে লড়াইয়ের দৃশ্যগুলো তো গেমিং জগতেরই সেরা দৃশ্যগুলোর একটি। গেমটির পরতে পরতে রয়েছে নাটকীয়তা।

সোজাসাপ্টা কোনো লড়াইয়ে হঠাৎ করে গেমার মারা যেতে পারেন, আবার নিশ্চিত মৃত্যু থেকেও অভাবনীয়ভাবে ফিরে আসতে পারেন। শত্রু, মিত্র, ফলোয়ার,ক্যাপ্টেন,ওয়ারচিফ-সব মিলিয়ে গেমার অন্য এক জগতে চলে যেতে বাধ্য হবেন। যেহেতু সব র‌্যানডম ক্যারেক্টারকে ‘ইউনিক’ করে গড়ে তোলা হয়েছে, তাই একজন গেমারের অভিজ্ঞতার সাথে আরেকজনের অভিজ্ঞতা মিলবে না। মুক্তির মাসখানেক পর এখনও গেমটি অ্যসাসিনস ক্রিড অরিজিনস কিংবা ফিফা ১৮ এর মতো গেমকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। গেমার এখনই বসে পড়তে পারেন শ্যাডো অব ওয়ার নিয়ে, ডুবে যেতে পারেন মিডল আর্থের জগতে।

মিডল আর্থ: শ্যাডো অব ওয়ার ভিডিওঃ

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২০আগস্ট/১৯  

Please Share This Post.