মার্কিন সরকারের হুয়াওয়ের পণ্য কেনার নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করলো হুয়াওয়ে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনে’র (এফসিসি) একটি বে-আইনী আদেশ বাতিল করতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আইসিটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। গত ২২শে নভেম্বর পাশ হওয়া ঐ আদেশের বৈধতা নিয়ে এফসিসি’র বিরুদ্ধে আজ আইনী প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আদেশটিতে আমেরিকার গ্রামীণ অঞ্চলে ক্যারিয়ার নেটওয়ার্ক সরবরাহকারীদের প্রতি ‘ইউনিভার্সেল সার্ভিস ফান্ড’ (ইউএসএফ) থেকে হুয়াওয়ের সরঞ্জাম ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

হুয়াওয়ে বিশ্বাস করে যে, স্বেচ্ছাচারী যুক্তি-তর্ক তুলে ধরার পরও হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, প্রশাসনিক কার্যবিধি আইন কিংবা অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের অকাট্য কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি এফসিসি।

এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে হুয়াওয়ের চিফ লিগাল অফিসার ড. সং লিউপিং বলেন, কেবলমাত্র চীনা প্রতিষ্ঠান বলেই হুয়াওয়ের মতো একটি কোম্পানিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির সমাধান পাওয়া যাবে না”

তিনি আরো বলেন, হুয়াওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকী’ এমন দাবীর পক্ষে এফসিসি’র চেয়ারম্যান অজিত পাই এবং অন্যান্য কমিশনারগন, কেউই কোনো ধরণের প্রমাণপত্র হাজির করতে পারেনি। তাছাড়া ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবার প্রস্তাব উপস্থাপনের পর হুয়াওয়ে এবং গ্রামীণ ক্যারিয়ারদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত আপত্তির বিষয়গুলিও এফসিসি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।

এফসিসি’র আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কতটা ক্ষতি করবে, সে বিষয়ে ২১ বার বিস্তারিত মন্তব্য জমা দিয়েছে হুয়াওয়ে। কিন্তু সবগুলোই উপেক্ষা করে গেছে এফসিসি”-এমনটা জানিয়েছেন ড. সং লিউপিং।

তিনি আরো বলেন, “গোটা আমেরিকার গ্রামাঞ্চল এমনকি- মন্টানা, কেন্টাকির মতো ছোট শহরের ক্যারিয়ার নেটওয়ার্ক সরবরাহকারী এবং ওয়ামিংয়ের ফার্মগুলোও হুয়াওয়ের সাথে কাজ করে, কারণ তারা হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতির গুণমানের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সংযুক্ত করার এই যৌথ প্রচেষ্টা বন্ধ করা এফসিসি’র উচিত হবে না।”

আইনী পদক্ষেপের বিষয়ে হুয়াওয়ের প্রধান পরামর্শদাতা গ্লেন নাগের বলেন, এফসিসি একটি অত্যন্ত নিম্নমানের আইন গ্রহণ করেছে, যেটা কেবল হুয়াওয়ে এবং অন্য একটি চীনা কোম্পানিকে মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।“

তিনি আরো বলেন, “এফসিসই গৃহীত সিদ্ধান্তটি সংস্থাটির ‘বিধিবদ্ধ ক্ষমতা’ বহির্ভূত। কেননা, এফসিসি জাতীয় সুরক্ষার বিষয়ে রায় দেয়া কিংবা এজাতীয় রায়ের উপর ভিত্তি করে ‘ইউএসএফ তহবিলে’র ব্যবহারকে সীমাবদ্ধ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নয়। এই কমিশনের জাতীয় সুরক্ষার বিষয়ে কোনো দক্ষতা বা কর্তৃত্ব নেই।”

নাগের মতে, হুয়াওয়েকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকী’ হিসাবে দেখার কোনো আইনী ভিত্তি নেই। কার্যত: চীনের আইন নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি এবং প্রমাণহীন, অনির্ভরযোগ্য ও অগ্রহণযোগ্য কিছু অভিযোগ এবং উদ্বেগের ওপর ভিত্তিতে কর এটি তৈরি হয়েছে। এর কোনো ভিত্তি নেই। বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক, নিকৃষ্টতম ও নেক্কারজনক কাজ।

হুয়াওয়ের কর্পোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্ল সং বলেন, এফসিসি’র নিয়মটি আমেরিকার গ্রামীণ যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য হুমকীস্বরূপ। কেননা, হুয়াওয়ে ছাড়া অন্য কোনো ভেন্ডর আমেরিকার ঐসব এলাকায় কাজ করতে চায় না। ‘দুর্গম, কষ্টসাধ্য- এরকম নানান অজুহাত দেখিয়ে তারা আগ্রহ দেখায় না।

তিনি আরও বলেন, ‘রিপ অ্যান্ড রিপ্লেস’ নির্ভর এই প্রস্তাবনা শত শত মিলিয়ন ডলারের ব্যয় যেমন বাড়াবে, তেমনি ছোট ছোট কিছু ক্যারিয়ারকেও দেউলিয়া হতে বাধ্য করবে।

 

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/০৭ডিসে./১৯

 

Please Share This Post.