মাইক্রোসফট অ্যাজুর: ক্লাউড সেবার বিশ্বসেরা মডেল 

মাইক্রোসফট অ্যাজুর (Microsoft Azure) হচ্ছে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট-এর একটি জনপ্রিয় কম্পিউটিং সেবা। মাইক্রোসফট-এর বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত বিভিন্ন ডাটা সেন্টার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নানা ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ও সার্ভিস তৈরি, পরীক্ষা নিরীক্ষা, প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনা করার একটি অসাধারণ ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা হচ্ছে অ্যাজুর। এটি একই সঙ্গে সফটওয়্যার অ্যাজ-আ-সার্ভিস (SaaS), প্লাটফর্ম অ্যাজ-আ-সার্ভিস (PaaS) ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ-আ-সার্ভিস (IaaS)- তিনটিই প্রদান করে। মাইক্রোসফটের নিজস্ব এবং থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ও সিস্টেমসহ নানা ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ, টুল ও ফ্রেমওয়ার্ক সাপোর্ট করার কারণে মাইক্রোসফট অ্যাজুর বৈশ্বিক ব্যবহারকারীদের কাছে পছন্দের ক্লাউড সেবার শীর্ষে অবস্থা করছে।

অ্যাজুর-এর যাত্রা শুরু ২০০৮-এর অক্টোবরে, ‘প্রজেক্ট রেড ডগ’ কোড নামকে সঙ্গী করে। ২০১০-এর ফেব্রুয়ারিতে এটি উইন্ডোজ অ্যাজুর এবং ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ মাইক্রোসফট অ্যাজুর নাম ধারণ করে। মাইক্রোসফট অ্যাজুর-এর অধীনে ৬০০-রও বেশি সেবা প্রদান করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল:

কম্পিউট (Compute)

ভার্চুয়াল মেশিন: ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ-আ-সার্ভিস, যার সাহায্যে জেনারেল পারপাস মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ও লিনাক্স ভার্চুয়াল মেশিন লঞ্চ করা যায়।  অ্যাপ সার্ভিস: যা হচ্ছে ওয়েবসাইট প্রকাশ ও ব্যবস্থাপনা করার জন্য বিশেষায়িত প্লাটফর্ম অ্যাজ-আ-সার্ভিস। ওয়েব সাইট: ওয়েব সাইটের হাই ডেনসিটি হোস্টিং। এর সাহায্যে ডেভেলপাররা সাইট তৈরি ও ফাইল আপলোড করতে পারেন। ওয়েবজবস: ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসিং-এর উদ্দেশ্যে অ্যাপ সার্ভিস পরিবেশে প্রয়োগ করা যায় এমন অ্যাপ্লিকেশন।

মোবাইল সার্ভিস

মোবাইল এনগেজমেন্ট: এটি রিয়েল টাইম এনালিটিক্স সংগ্রহ করে যার সাহায্যে ব্যবহারকারীদের আচরণ সম্বন্ধে ভালো ধারণা পাওয়া যায়। হকিঅ্যাপ: এর সাহায্যে মোবাইল অ্যাপ তৈরি, বিতরণ ও বেটা-টেস্ট করা যায়।

স্টোরেজ সার্ভিস: এই সেবার অধীনে ক্লাউডে ডাটা সংরক্ষণ ও অ্যাকসেসের জন্য REST ও SDK এপিআই প্রদান করা হয়। টেবল সার্ভিস: এই সেবার সাহায্যে প্রোগ্রামগুলো স্ট্রাকচারড টেক্সটকে এমন ভাবে সংরক্ষণ করা যায় যাতে সেগুলোতে পার্টিশন কি ও প্রাইমারি কি দিয়ে অ্যাকসেস নেয়া যায়। ব্লব সার্ভিস: আনস্ট্রাকচারড টেক্সট ও বাইনারি ডাটাকে ব্লব আকারে সংরক্ষণ করা যায়।এই সেবার অধীনে আরো আছে কিউ সার্ভিস ও ফাইল সার্ভিস।

ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যাজুর সার্চ টেক্সট এবং ও’ডাটার স্ট্রাকচারড ফিল্টারে একটি সাবসেট সার্চ করা যায়। আছে কসমস ডিবি, যা বস্তুত একটি NoSQL ডাটাবেস সেবা। রেডিস ক্যাশ রেডিস-এর একটি ম্যানেজড ইমপ্লিমেন্টেশন। স্টরসিম্পল অন-প্রিমিস ডিভাইস এবং ক্লাউড স্টোরেজ-এর মধ্যে স্টোরেজ সম্পর্কিত কাজগুলো ব্যবস্থাপনা করে। আছে এসকিউএল ডাটাবেস, যেটি মাইক্রোসফট এসকিউএল সার্ভার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ডাটাবেস অ্যাপ্লিকেশন তৈরি ও ব্যবস্থাপনা কাজ করে। এছাড়া অ্যাজুর-এর ডাটা ম্যানেজমেন্ট সেবাগুলোর মধ্যে আরও আছে SQL Data Warehouse, Azure Data Factory, Azure Data Lake, Azure HDInsight ও Azure Stream Analytics

মেসেজিংমাইক্রোসফট অ্যাজুর সার্ভিস বাস ব্যবহার করে অ্যাজুর প্রিমিসেস বা অফ-প্রিমিস-এ চলা অ্যাপ্লিকেশনগুলো অ্যাজুর-এর সাথে যোগাযোগ করতে পারে। এর মাধ্যমে সার্ভিস ওরিয়েন্টেড আর্কিটেকচার (SOA) পরিবেশে সম্প্রসারণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা যায়। অ্যাজুর সার্ভিস বাস নানা ধরনের কমিউনিকেশন মেকানিজম সাপোর্ট করে,  যেমন Event Hubs, Queues, Topics ও Relays ।

উপরোক্ত সেবাগুলোর বাইরেও অ্যাজুর আরো বহুমাত্রিক সেবা প্রদান করে। যেমন, মিডিয়া সার্ভিসেস, কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক বা সিডিএন, ডেভেলপারদের জন্য বিশেষায়িত সেবা, ব্যবস্থাপনা সেবা (অ্যাজুর অটোমশেন ও মাইক্রোসফট এসএমএ), মেশিন লারনিং (মাইক্রোসফট অ্যাজুর মেশিন লারনিং ও কগনিটিভ সার্ভিসেস) এবং ইন্টারনেট অব থিংস সেবা।
ক্লাউড রিসোর্স-এর জন্য মাইক্রোসফট অ্যাজুর-এর দুটো ডেপ্লয়মেন্ট মডেল রয়েছে। একটি হলো ক্লাসিক ডেপ্লয়মেন্ট মডেল, যার আওতায় প্রতিটি অ্যাজুর রিসোর্স (ভার্চুয়াল মেশিন, এসকিউএল ডাটাবেস ইত্যাদি) এককভাবে ম্যানেজ করা হয়। আর দ্বিতীয়টি হল অ্যাজুর রিসোর্স ম্যানেজার মডেল। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই মডেল-এর সাহায্যে ব্যবহারকারীরা পরস্পর-সম্পর্কিত সার্ভিসের গ্রুপ তৈরি করতে পারেন যাতে এসব গ্রুপকে একইসাথে প্রয়োগ, ব্যবস্থাপনা ও মনিটর করা যায়।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ
Please Share This Post.