মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপের আঞ্চলিক পর্বে জিতেছে বাংলাদেশ

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলাতে অনুষ্ঠিত মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অংশের ফাইনালে জিতে ওয়ার্ল্ড ফাইনালে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ফাইনালে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল ও লাওস থেকে নির্বাচিত দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দল– টিম প্যারাসিটিকা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম প্যারাসিটিকা’। বুয়েটের তিন ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম, ফজলে রাব্বি ও সৈয়দ নাকিব হোসেন এই দলের সদস্য। দলটি তাদের ‘ফাস্টনোসি’ অ্যাপকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতা করেছে। অ্যাপটির মাধ্যমে সহজেই পরজীবী রোগ যেমন- টিউবারকুলোসিস, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগের লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।

মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বাংলাদেশ দলের দুইটি সুসংবাদ জানিয়েছেন। একটি হচ্ছে, ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলের ফাইনালে বাংলাদেশ দল ‘টিম প্যারাসিটিক’ ওয়ার্ল্ড ফাইনালের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। আরেকটি হচ্ছে, পিপলস চয়েজ ক্যাটাগরিতে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে পুরস্কারও পেয়েছে ‘টিম প্যারাসিটিক’।

inner

সোনিয়া বশির কবির ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ম্যানিলায় আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১০টি দেশের বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যারা দুটি গৌরব অর্জন করেছে।

আগামী জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বসবে মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপের ১৫তম ওয়ার্ল্ড ফাইনালের আসর। এ বছর বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রতিযোগীরা বিভিন্ন পর্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং এদের থেকে শীর্ষ ৩০টি দল অংশ নেবে ওয়ার্ল্ড ফাইনাল পর্বে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ফাইনালের মতো বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ফাইনালেও বিজয়ী হবে, এমন শুভ কামনা করছেন সকলে।

মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করায় আগ্রহী করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতেই এ আয়োজনটি করে থাকে মাইক্রোসফট।

সৃজনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিতে গভীর সংযোগের সংমিশ্রনের মধ্য দিয়ে সহজ জীবনযাপন ও কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সহজ সমাধান বের করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ইমাজিন কাপ জেতার মাধ্যমে অর্থ, ভ্রমণ, পুরস্কার ও সন্মান অর্জনের লক্ষ্যে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে থাকে।

গত কয়েক বছরে প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের সব মেধাবী ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়ে আসছে যেখানে তারা তাদের অভিনব ধারণাগুলো প্রদর্শনের পাশাপাশি সেগুলো পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং অগ্রগামী একটি প্রোগ্রামে পরিণত হয়েছে, যা আয়োজন করে থাকে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.