মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপের এশিয়া পর্বের ফাইনালে বাংলাদেশ

১৫তম মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপ ২০১৭-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় আঞ্চলিক অংশের ফাইনালে নির্বাচিত তিনজনের দল ‘টিম প্যারাসিটিকা’ প্রতিনিধিত্ব করবে বাংলাদেশের হয়ে।

ভবিষ্যতের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের শিক্ষার্থী তৈরির লক্ষ্যে এটি মাইক্রোসফটের বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য একটি প্রোগ্রাম।

আগামি ২৩ থেকে ২৬ এপ্রিল, ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে লড়বে টিম প্যারাসিটিকা। দলটি তাদের ‘ফাস্টনোসিস’ অ্যাপকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতা করবে। অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারী সহজেই পরজীবি রোগ যেমন- টিউবারকুলোসিস, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগের লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ম্যানিলাতে ইমাজিন কাপ-২০১৭ এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় আঞ্চলিক অংশের ফাইনালে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।

চলতি বছরের ১০ মার্চের মধ্যে অনলাইনে ১৭টি দল নিজেদের প্রকল্প প্রস্তাব ও প্রকল্পের ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে উক্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে মার্চের ২০ তারিখ পাঁচটি দল নির্বাচিত হয়। উক্ত পাঁচটি দল এপ্রিলের ৬ তারিখ নিজেদের প্রকল্পগুলো নিয়ে লড়াই করে। এদের থেকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় একটি দলকে। যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ বিচারকমন্ডলী।

বিজয়ী দল ‘টিম প্যারাটিসিকা’-এর ২জন সদস্য তৌহিদুল ইসলাম ও সৈয়দ নাকিব হোসেন ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ১জন সদস্য ফজলে রাব্বি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শিক্ষার্থী। তিনজনই দেশের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (বুয়েট)-এর চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী। এরা তিনজনই ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিতব্য ইমাজিন কাপের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় অঞ্চলের ফাইনালে লড়াই করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল ও লাওস থেকে মোট ১০টি দল ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে অংশ নেবে। সবশেষে শীর্ষ ৭টি দল প্রতিযোগিতার ওয়ার্ল্ড ফাইনালে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে।

টিম প্যারাসিটিকার দলনেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিতে অভিনব ধারণা কাজে লাগিয়ে এ ধরনের বিশ^মানের প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রকল্প প্রদর্শন করার সুযোগ আমাদেরকে বিশ্বের মানুষের জীবনকে সহজ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। এমন একটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি বলে আমরা গর্বিত। প্রতিযোগিতায় আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করব, যাতে করে দেশের এবং দেশের মানুষের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি।”

ইমাজিন কাপ আয়োজন প্রসঙ্গে মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, “কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশ্ব দরবারে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতেই ইমাজিন কাপ আয়োজন করে মাইক্রোসফট, যাতে করে এসকল শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল সল্যুশনের মাধ্যমে আমাদের জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিতে পারে। বাংলাদেশ থেকে যেসকল শিক্ষার্থী এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে তাদের কাছ থেকে চমৎকার সব ধারণা এসেছে। বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত যে দলটি ফিলিপাইনে অংশ নিতে যাচ্ছে তারা সেখানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

এ বছর বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রতিযোগিরা বিভিন্ন পর্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং এদের থেকে শীর্ষ ৩০টি দল অংশ নেবে রেডমন্ডে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ফাইনাল পর্বে ।

মাইক্রোসফট ইমাজিন কাপ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করায় আগ্রহী করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতেই এ আয়োজনটি করে থাকে মাইক্রোসফট। সৃজনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিতে গভীর সংযোগের সংমিশ্রনের মধ্য দিয়ে সহজ জীবন-যাপন ও কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সহজ সমাধান বের করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ইমাজিন কাপ জেতার মাধ্যমে অর্থ, ভ্রমণ, পুরস্কার ও সন্মান অর্জনের লক্ষ্যে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে থাকে।

গত কয়েক বছরে প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের সব মেধাবী ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়ে আসছে যেখানে তারা তাদের অভিনব ধারণাগুলো প্রদর্শনের পাশাপাশি সেগুলো পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং অগ্রগামী একটি প্রোগ্রামে পরিণত হয়েছে, যা আয়োজন করে থাকে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

 
– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.