ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত রাখুন আপনার পিসিকে

কম্পিউটারকে নতুনভাবে ফরম্যাট করে পিসিকে আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়াকে (reformatting and restoring) খুব আনন্দময় কাজ বলা যাবে না, ঠিক যেভাবে ডেন্টিস্টের চেম্বারে দুই ঘণ্টা কাটিয়ে আসাকেও কেউ আনন্দময় কাজ বলবে না। ফরম্যাট করার আগে আপনার সব ডাটার ব্যাক আপ নিতে হবে, হার্ড ড্রাইভকে নতুনভাবে ফরম্যাট করতে হবে, উইন্ডোজ ইনস্টল করতে হবে, হারানো ড্রাইভারগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে, আপনার সমস্ত সফটঅয়্যার খুঁজে বের করে আবার ইনস্টল করতে হবে, ডাটাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, কাজ কম নেই। আপনি যদি স্মার্ট হন তাহলে অবশ্য এটিকে ঝামেলা বলে না ভেবে সব কিছু আবার সঠিকভাবে করার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখতে পারেন। তবে এটি করার জন্য আপনাকে সঠিক নিয়ম মেনে পরিকল্পনা অনুসারে কাজে হাত দিতে হবে। নইলে আবারও পুরোনো সমস্যায় পড়বেন। আরেকভাবে বলি। ফরম্যাট করা মানে হচ্ছে আপনি আপনার বাড়িটি ঝেড়েমুছে পরিষ্কার করেছেন। এখন সময় হয়েছে বাড়িটাকে আবার নতুন করে গোছানোর। কী করতে হবে তাহলে? আসুন একটি একটি করে জেনে নেয়া যাক।

আপনার নতুন সিস্টেমের একটি ইমেজ তৈরি করুন

পিসি

উইন্ডোজ ইনস্টল করা, আপডেট করা এবং আপনার পছন্দমত পারসোনালাইজ করা হয়ে গেছে? দরকারি সব অ্যাপ্স লোড করাও সারা? ড্রাইভারগুলোও কাজ করছে ঠিকমত? দারুণ। এবার আপনার উচিত হবে নির্ঝঞ্ঝাট, ঝামেলামুক্ত এই মুহূর্তটাকে সব সময়ের জন্য ধরে রাখা, যাতে ভবিষ্যতে কোথাও কিছু গোলমাল হয়ে গেলেও আবার এ সময়ের অবস্থাতে ফিরে যাওয়া যায়। এটি করতে হলে বর্তমানে আপনার সিস্টেম যেমনটা আছে তার একটি ইমেজ সৃষ্টি করতে হবে। ইমেজ মানে হচ্ছে একটি ফুল সিস্টেম ব্যাকআপ, তবে নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করার পর যেসব বাড়তি জিনিস ঢুকিয়েছেন সেগুলোসহ। ভবিষ্যতে যদি আবার সিস্টেমকে রিফরম্যাট ও রিস্টোর করতে হয় তাহলে এই ইমেজটির মাধ্যমে আপনি অনেক ঝামেলা এড়াতে ও সময় বাঁচাতে সক্ষম হবেন। এ কাজ করার জন্য হাতের কাছেই আছে অনেকগুলো ড্রাইভ ইমেজ ইউলিটিটি, এর মধ্যে অসাধারণ একটি ইউটিলিটি হচ্ছে ম্যাক্রিয়াম রিফ্লেক্ট ফ্রি (Macrium Reflect Free)। এটি ব্যবহারের দিক দিয়ে সহজ এবং এর সাহায্যে এক্সটারনাল ড্রাইভ, নেটওয়ার্ক ড্রাইভ বা এমনকি সিডি/ডিভিডিতেও আপনার ইমেজ ফাইলকে সেভ করতে পারবেন। সঙ্গে পাবেন একটি বুটেবল রেসকিউ ডিস্কও, যা দিয়ে ইমেজকে রিস্টোর করতে পারবেন – মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিস্টেমের ক্ষেত্রেও।

লিনাক্স পার্টিশন অ্যাড করুন

Linux partition

মাঝেমধ্যেই লিনাক্স ব্যবহার করতে মন চায় না এমন মানুষ খুব কম আছে। লিনাক্স একটি দ্রুতগতির শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেম, সঙ্গে আছে প্রাত্যহিক ব্যবহারের দরকার হয় এমন প্রায় সব সফটঅয়্যার। তার চেয়েও বড় কথা, এটি ফ্রি। আপনার উইন্ডোজ ইনস্টল যদি কখনো খুব বেশি ঝামেলাপূর্ণ হয়ে পড়ে তাহলে লিনাক্স ইনস্টল ব্যবহার করে আপনি সে ঝামেলা এড়াতে পারেন। এ কারণে একটি ডুয়াল বুট এনভায়রনমেন্ট সৃষ্টি করে আপনার কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভে লিনাক্সের জন্য আলাদা একটি জায়গা করে দেবার এখনই উপযুক্ত সময়। এটি করা হয়ে গেলে প্রতিবার বুট করার সময় উইন্ডোজ বা লিনাক্স যে কোনো একটিকে বেছে নিতে পারবেন। ব্যাপারটা যেন একটি পিসিকে দুটি পিসিকে রূপান্তরিত করার মত। সেট আপের সময় অনাকাক্সিক্ষত কোনো পরিস্থিতি মুখোমুখি হলেও বড় ধরনের সমস্যা হবে না। আগে যে ড্রাইভ ইমেজটি তৈরি করে রেখেছিলেন সেটির মাধ্যমে আপনার সিস্টেমকে ঝামেলার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে পারবেন অনায়াসে। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞই আপনাকে লিনাক্সের উবুন্টু ভারসনটি বেছে নিতে বলবেন, যদিও আছে আরো অসংখ্য সংস্করণও। উইন্ডেজের পাশাপাশি উবুন্টু ইনস্টল করতে হলে আপনাকে এটি ডাউনলোড করতে হবে বা সিডিতে বার্ন করতে হবে। তারপর উইন্পেজের মধ্যে একটি পার্টিশন তৈরি করে উবুন্টু সিডিটি বুট করে যেসব নির্দেশনা দেয়া হবে সেগুলো অনুসরণ করতে হবে। উবুন্টুর ওয়েব সাইটে আছে উইন্ডোজ ডুয়াল বুটিংয়ের ওপর হেল্প পেজ, সেখানে বিস্তারিতভাবে এই কাজের বর্ণনা দেয়া আছে।

একটি অটোমেটেড ব্যাকআপ সিস্টেম সেট আপ করুন

আপনার কম্পিউটারে রক্ষিত সমস্ত উপাত্ত এখন পর্যন্ত সুসংরক্ষিত আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সব সময়ই এমনটা থাকবে। বিপদ আসার আগে আমরা কল্পনাও করতে পারি না যে বিপদের সম্মুখীন হব। কিন্তু এটি এমন একটি বিষয় যে বিষয়ে ঝুঁকি নেবার উপায় নেই। যে কোনো সময়ই ভয়ঙ্কর একটি ম্যালঅয়্যার অ্যাটাক আপনার সমস্ত ডাটাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। শেষে মাথার চুল ছিঁড়ে বা বহু সময় ও অর্থ ব্যয় করেও হারানো ডাটাকে আর ফিরে পাবেন না। এজন্য সময় থাকতেই সাবধান হওয়া দরকার। কাজেই নিয়মিতভাবে আপনার কম্পিউটারে রক্ষিত সমস্ত ডাটার ব্যাক আপ রাখতে হবে। এজন্য দুটো পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমত, সাপ্তাহিক ভিত্তিতে একটি ফুল সিস্টেম ব্যাক আপ রাখুন। সমস্ত ডাটার ব্যাক আপ রাখুন একটি এক্সটারনাল হার্ড ড্রাইভে। উপরে যে ম্যাক্রিয়াম রিফ্লেক্ট ফ্রি সফটঅয়্যারের কথা বলা হল সেটি এই কাজটি সুচারুভাবে করতে পারে। এটি আপনার ঠিক করে দেয়া নির্দিষ্ট সময়ে সিস্টেমের একটি ইমেজ তৈরি করতে পারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। তবে এর ফুল ভারসনটি যদি সংগ্রহ করতে পারেন (এটি ফ্রি নয়) তাহলে ডিফারেন্সিশয়াল ও ইনক্রিমেন্টাল উভয় ধরনের ব্যাক আপই নিয়ে রাখতে পারবেন। ইনক্রিমেন্টাল ব্যাক আপের মানে হল, সফটঅয়্যারটি শুধুমাত্র সর্বশেষ ব্যাক আপ করার পর যেসব ডাটা ও ফাইল যুক্ত হয়েছে সেগুলোরই ব্যাক আপ করবে। এর মাধ্যমে অনেক সময় অপচয়ের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন। আর দ্বিতীয় পন্থাটি হচ্ছে, একটি অনলাইন ব্যাক আপ টুলে তালিকাভুক্ত হওয়া। এ ধরনের টুলের মধ্যে কারবোনাইট (Carbonite) ও মোজি (Mozy) বেশ ভাল। অথবা আপনার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ডাটা (অফিস ডকুমেন্ট, আর্থিক নথিপত্র ইত্যাদি) ক্লাউডে সেভ করে ফেলা। অনেকেই মোজি-র সেবার প্রশংসা করে থাকেন। এটি আপনাকে ২ গিগাবাইট ফ্রি ব্যাক আপ স্পেস দেবে, সঙ্গে পাবেন উ”চমাত্রায় স্বয়ংক্রিয় একটি ব্যাকআপ ইউটিলিটি এবং ক্লাউড ভারসনের পাশাপাশি লোকাল ব্যাক আপ করার আলাদা অপশনও। একবার সেট আপ করার পর এটির কথা ভুলে গেলেও চলবে। মোজি নিজের কাজ করে যাবে নীরবে নিভৃতে!

আপনার ফাইল, ফোল্ডার ও ডেস্কটপ অর্গানাইজ করুন

ফাইল

নতুন একটা বাড়িতে ওঠার মতই পুনরুদ্ধার করা একটি পিসি আবার ব্যবহার শুরু করা আপনার সামনে সব কিছুকে আবার নতুন করে সাজানোর মোক্ষম একটি সুযোগ এনে দেবে। এ যেন খারাপের মধ্যেও ভাল কিছুকে আবিষ্কার করা। আপনার ফাইল, ফোল্ডার, এমনকি আপনার ডেস্কটপকেও এবার নতুন করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারবেন। সবার আগে ডেস্কটপের কথা দিয়েই শুরু করি। বেডরুমের মেঝে জুড়ে কাপড় চোপড় ছড়িয়ে রাখার মত গোটা ডেস্কটপ জুড়ে এখানে সেখানে আইকন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার বদভ্যাস থেকে বের হয়ে আসুন। তার পরিবর্তে আইকনগুলোকে সুন্দরভাবে সাজান, যেজন্য আপনার ব্যবহারের অপেক্ষায় আছে একাধিক ইউটলিটি। এর মধ্যে একটি ভাল ইউটিলিটি হচ্ছে ফেন্সেস (Fences)। এই ফ্রি সফটঅয়্যারটি দিয়ে ডেস্কটপের অগোছালো ভাবকে মুহূর্তেই পরিপাটি করে তোলা যাবে। একবার ফেন্সেস ব্যবহার শুরু করলে দেখবেন, এতদিন এটি ছাড়া কীভাবে ছিলেন সে প্রশ্নই জাগবে মনের মধ্যে। এবার ফাইলের কথায় আসা যাক। সব সময়ই আপনার পছন্দ অনুসারে আপনার যাবতীয় ফাইলকে নিজের হাতে সাজিয়ে রাখাই আসলে ভাল। যেমন ডকুমেন্টগুলোকে রাখলেন একটি ফোল্ডারে, ছবিগুলোকে আরেক ফোল্ডারে, আবার ভিডিওগুলোকে তৃতীয় একটি ফোল্ডারে। তবে এ ধরনের জিনিসপত্র যদি এক বা একাধিক ড্রাইভে শত শত ফোল্ডারে ছড়ানো ছিটানো থাকে তাহলে উইন্ডোজ ৭-এর লাইব্রেরিজ (Libraries) ফিচারটি আপনার সাহায্যে আসতে পারে। সত্যি বলতে কি, আদ্যিকালের পুরোনো ফোল্ডার/সাব ফোল্ডার সিস্টেমের চাইতে লাইব্রেরিজ সিস্টেমটিই ফাইল-ফোল্ডার গোছানোর জন্য অনেক বেশি উপযোগী। এখানে একমাত্র ঝামেলার বিষয় হচ্ছে লাইব্রেরিজকে ঠিকভাবে সেট আপ করা। কীভাবে এ কাজটি সুন্দরমত করা যাবে সেটি জেনে নিতে পারেন এই লিংক থেকে http://www.pcworld.com/businesscenter/article/187473/simplify_file_organization_with_windows_7_libraries.html

নিরাপত্তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না

উইন্ডোজ

অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীই নিরাপত্তা নিয়ে বড় বেশি বাড়াবাড়ি করেন, ইংরেজিতে যাকে ‘সিকিউরিটি ওভারকিল’ বলা হয়। তারা মনে করেন, যত বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে তত ভাল, এজন্য তারা প্রথমে ফায়ারওয়াল ইনস্টল করেন, তারপর ইনস্টল করেন অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম, অ্যান্টি স্পাইঅয়্যার প্রোগ্রাম, রুটকিট ব্লকার এবং তারপর হয়ত গোটা একটা ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুইট। তারপর বসে বসে ভাবতে থাকেন আমার কম্পিউটার কেন বুট হতে ১০ মিনিট সময় নিচ্ছে! আপনার পিসিকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেবার এই বদভ্যাস ত্যাগ করুন। তার পরিবর্তে সহজ সরল একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার শুরুটা হবে আপনার উইন্ডোজ ৭ অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে (দুঃখিত, এক্সপি ইউজাররা, এক্সপির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে খুব একটা ভাল বলা যাচ্ছে না)। বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, উইন্ডোজ ৭-এ আপনাকে অনলাইনে নিরাপদ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই আছে: একটি ফায়ারওয়াল, একটি স্পাইঅয়্যার ও পপ-আপ ব্লকার, একটি উন্নত মানের ইউজার অ্যাকাউন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম এবং ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৮-এর মধ্যে বিল্ট-ইন আছে অনেকগুলো ম্যালঅয়্যার ও ফিশিং (phishing) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা । আর সব কিছুর ওপরে মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেন্সিয়াল অ্যান্টিভাইরাস ইউটিলিটি এবং ‘ওয়েব অব ট্রাস্ট’ ব্রাউজার অ্যাড অনতো আছেই। এর বাইরে অতিরিক্ত আর যা আপনার লাগতে পারে সেটি হচ্ছে একটি স্প্যাম ফিল্টার, যদিও বেশির ভাগ ওয়েব বেজড ইমেইল সার্ভিস (জিমেইল, ইয়াহু ইত্যাদি) আপনার জন্য স্প্যাম ফিল্টারিংয়ের কাজটি বেশ ভালভাবেই করে।

ভাল একটি আনইনস্টলার ইনস্টল করুন

আনইনিসটলার

আপনার কম্পিউটারে যদি এমন কোনো প্রোগ্রাম থাকে যেটি আপনি আর ব্যবহার করছেন না, তাহলে এটিকে আনইনস্টল করে ফেলাই তো ভাল, তাই না? এর মাধ্যমে ডিস্ক স্পেস বাঁচিয়ে উইন্ডোজকে ভালমত রান করার সুযোগ করে দিতে পারবেন। তবে এটা তত্ত্বের কথা, বাস্তবে কাজটা এতটা সহজ নয়। কারণ আনইনস্টল করা অনেক প্রোগ্রামই পেছনে তার টুকরা-টাকরা রেখে যায়- এক জায়গায় হয়ত একটা কনফিগারেশন ফাইল ফেলে রাখল তো একটা রেজিস্ট্রি এন্ট্রি ফেলে রাখল আরেক জায়গায়, ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এসব আবর্জনাই এখানে সেখানে পড়ে থেকে উইন্ডোজের গতিকে পেছন দিকে টেনে ধরে রাখে। কাজেই আপনার আসলে যা দরকার তা হচ্ছে একটি উন্নত মানের আনইনস্টলার, এমন একটি প্রোগ্রাম যেটি আপনার কম্পিউটার থেকে অবাঞ্চিত অ্যাপ্লিকেশনকে একেবারে ঝাড়েবংশে বিদায় করে দেবে। অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীই এজন্য রিভো আনইনস্টলার (Revo Uninstaller) ব্যবহার করে থাকেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি আনইনস্টলার ব্যবহারকারীদের মন জয়ে সক্ষম হয়েছে যেটির নাম আইওবিট অ্যাডভান্সড আনইনস্টলার (IObit Advanced Uninstaller)। ওয়েব ঠিকানা। এই আনইনস্টলারটিতে এমন কিছু বিশেষ সুবিধা আছে যেটি রিভোতে নেই। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ব্যাচ আনইনস্টলিং। আপনি একটির পরিবর্তে একাধিক প্রোগ্রামকে একই সঙ্গে রিমুভ করার জন্য চিহ্নিত করতে পারেন। এই ফিচারটি আপনার প্রোগ্রাম মোছার সময়কে অনেকটাই সাশ্রয় করতে পারে, বিশেষ করে আপনি যখন একসঙ্গে অনেকগুলো অ্যাপ্লিকেশন মোছার জন্য বসবেন তখন। আইওবিট-এর আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, এটি আকারে বেশ ছোট, মাত্র ৭০০ কিলোবাইটের মত। তাছাড়া এটি সহজে বহনক্ষম, এর নিজের কোনো ইনস্টলেশনের প্রয়োজন পড়ে না। কাজেই আপনার পিসিতে এটিকে ইনস্টল করে রাখার দরকার নেই, কোনো সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইসে রেখে দিতে পারেন। আর দাম নিয়ে তো চিন্তা করারই দরকার নেই। এটি ফ্রি।

একটি ড্রাইভার লাইব্রেরি তৈরি করুন

drive library

নতুন করে পিসিকে রিস্টোর করার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতাগুলোর একটি হচ্ছে, কম্পিউটারের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট ও পেরিফেরালের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রাইভারগুলো খুঁজে বের করা। এমনকি আপনি যদি কোনো ইমেজ ফাইল থেকেও সিস্টেমকে পুনরুদ্ধার করেন তাহলেও এমন কিছু ড্রাইভার হয়ত পুনরুদ্ধার হবে যেগুলো এখন আর কাজ করে না, অর্থাৎ আউটডেটেড। আর একেবারে প্রয়োজনের সময়ে ড্রাইভারের সিডিটা যে হাতের কাছে পাওয়া যায় না এটি ভুক্তভোগীর চাইতে ভাল আর কে জানে! এ কারণে আপনাকে উদ্যোগী হয়ে এমন একটি ড্রাইভার ব্যাক আপ তৈরি করতে হবে যা আপনার রেগুলোর ব্যাক আপ হাতিয়ারগুলোর মধ্যে  স্থান পাবে। এ কাজে আপনার ভাল সঙ্গী হতে পারে ডাবল ড্রাইভার ৪.১ (Double Driver 4.1)। এটি ড্রাইভার ব্যাক আপের কাজটি খুব দ্রুত ও সুবিধাজনকভাবে করতে পারে। এটি আপনার পিসিকে স্ক্যান করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব ড্রাইভারকে চিহ্নিত করবে যেগুলো অপারেটিং সিস্টেমের অংশ নয়। তারপর ইউএসবি ড্রাইভ, নেটওয়ার্ক ফোল্ডার বা অন্য কোনো স্টোরেজ ডিভাইসে সেটির ব্যাক আপ নিয়ে নেবে।

আপনার পিসি যাতে দ্রুত বুট করে সেটি নিশ্চিত করুন

soluto

উইন্ডোজের ক্ষেত্রে একটি অপরিবর্তনীয় নিয়ম হল, যত সময় যায়, উইন্ডোজ বুট হবার গতি কেবলই কমতে থাকে। এজন্য মূলত দায়ী বিভিন্ন সফটঅয়্যার। আপনার কম্পিউটারে যত প্রোগ্রাম ইনস্টল করছেন তার প্রায় সবগুলো কম্পিউটার বুট হবার সময় নিজের একটি অংশকে লোড করিয়ে নেয়। এটা যেন বিভিন্ন রাস্তা থেকে বড় রাস্তায় এক সঙ্গে অনেকগুলো গাড়ি এসে ঢুকতে চাওয়ার মত। এজন্য মহাসড়কে জ্যাম লাগাকে এড়ানোর জন্য ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে ফ্রিঅয়্যার ইউটিলিটি সল্যুটো (Soluto) ব্যবহার করুন। এই টুলটি আপনার পিসিতে ইনস্টল্ড থাকা সফটঅয়্যার ও সার্ভিসগুলোকে বিশ্লেষণ করবে, তারপর এগুলোকে মুছে ফেলার জন্য আপনাকে অপশন দেবে, নয়ত এগুলোর স্টার্টআপে দেরি করিয়ে দেবে বা – কিছুই করবে না! তাছাড়া এটি আপনাকে নানারকম পরামর্শও দেবে, সঙ্গে থাকবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরিসংখ্যান, যাতে করে এগুলোর ব্যাপারে আপনি সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রচলিত সমস্ত স্টার্ট আপ ম্যানেজারের মধ্যে সল্যুটোকে সবচেয়ে ভালগুলোর একটি বলা যায়। কাজেই আপনি যদি কম্পিউটার দ্রুত বুট করানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকেন তাহলে সল্যুটোই আপনার জন্য সেরা সল্যুশন!

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/
Please Share This Post.