ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে ইজেনারেশন

ইজেনারেশন লিমিটেড, বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ আইটি কনসাল্টিং এবং সফটওয়্যার কোম্পানি, “বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ব্লকচেইন – বাংলাদেশের করণীয়” শীর্ষক ক্রাউডফান্ডিং এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। সম্প্রতি ইজেনারেশন লি. দুবাইভিত্তিক দ্রুত বিকাশমান ফিনটেক কোম্পানি স্মার্টক্রাউড এর জন্য ব্লকচেইন ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভিত্তিক ডিজিটাল বিনিয়োগ প্লাটফর্ম তৈরি করছে। ১০ জানুয়ারি, বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারের বিডিবিএল ভবনে অবস্থিত বেসিস মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইজেনারেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীম আহসান। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার। বাংলাদেশে ব্লকচেইনের সম্ভাবনা নিয়ে মূল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইজেনারেশন গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান এসএম আশরাফুল ইসলাম এবং সিলিকন ভ্যালীর প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও ইউপ্লাস ইনকর্পোরেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শওকত শামিম। এ বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার,সিটিও ফোরামের প্রেসিডেন্ট তপন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ কল সেন্টার এ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুর রহমান, বাংলাদেশের ব্যাংকের পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

মোস্তাফা জব্বার বলেন,ইজেনারেশন দুবাই এ ব্লকচেইন সলুশন দিচ্ছে যা বহির্বিশ্বকে অবহিত করে যে বাংলাদেশ ব্লকচেইনের মত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে সক্ষম। আমরা আশা করি ইজেনারেশনের মত বাংলাদেশি অন্যান্য কোম্পানিগুলোও দেশের নাম উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখবে। জনগণের জন্য উপকারী এমন যে কোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করবে। এখানে উপস্থিত সকলকে আমি অনুরোধ করব, এই প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশ কিভাবে উপকৃত হতে পারে এটি নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা করুন যেন সরকার এটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

শামীম আহসান বলেন,”গণমাধ্যমে ইন্টারনেট যেমন ভূমিকা রেখেছে, ব্যাংকিং খাতে ব্লকচেইনও তেমনি ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, রিয়েল স্টেট এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এই প্রযুক্তি । যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সির সচেতনতা ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং ছোট পরিসরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা মনে করা হয় যে, ব্লকচেইন প্রযুক্তি বিনিয়োগশিল্পকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে গতানুগতিক ও বিকেন্দ্রীভূত প্রতিষ্ঠানগুলো ইনিশিয়াল কয়েন অফারিং (আইসিও) দ্বারা ব্যবসায় বিনিয়োগের তহবিল সংগ্রহ করছে।“

আশরাফুল ইসলাম বলেন,বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে আমরা যে প্রযুক্তি পরিবেশে বসবাস করেছি, ২০১৮ সালে তা অনেকটাই বদলে যাবে। ডাটার ওপেন অ্যাক্সেস এর কারণে কপিরাইট সংরক্ষণ একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। কপিরাইট নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে ব্লকচেইন একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। আমাদের দেশে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের জীবনে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে আমরা আবার বিশ্ব ময়দানে পিছিয়ে যাব।

ইউপ্লাস ইনকর্পোরেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শওকত শামিম বলেন, বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ইন্টারনেটের পর ব্লকচেইন-ই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশেরও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এই বিপ্লবে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/


Please Share This Post.