ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস

আমাদের মস্তিষ্ক আমাদর মনের মধ্যে খেলে যাওয়া বিভিন্ন চিন্তার সাহায্যে নানা ধরনের বৈদ্যুতিক সিগনাল তৈরি করে। এভাবেই প্রতিটি নির্দিষ্ট চিন্তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি স্বতন্ত্র বৈদ্যুতিক ছক বা প্যাটার্ন তৈরি হয়। এসব অনন্য বৈদ্যুতিক সিগনালকে কাঠামো তৈরি বা ম্যাপিং-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট নির্দেশ (command) সম্পন্ন করা যায়, ফলে কোনো কিছু চিন্তা করার মাধ্যমেই ঐ চিন্তাকে কমান্ড আকারে কার্যকরী করাও সম্ভব হয়। বোঝাই যাচ্ছে, এভাবে কম্পিউটারের সাথে মিথস্ক্রিয়ারও একটি অনন্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়ে যায়।

ইউজার ইন্টারফেসের এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রটিতেও উদ্ভাবনমূলক নানারকম কাজ হয়ে চলেছে। ইমোটিভ লাইফ সায়েন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ট্যান লি-র তৈরি ইপিওসি (EPOC) নিউরোহেডসেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সাই-ফাই ঘরানার একটি হেডসেট মাথায় পরার মাধ্যমে তাদের মাথায় খেলে যাওয়া চিন্তা থেকে সৃষ্ট মস্তিষ্কতরঙ্গের (brainwaves) মাধ্যমে কম্পিউটারে কাজ করতে পারবেন।

তবে ট্যান লি-র এই ইপিওসি এখনও মোটামুটি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এ মুহূর্তে এটিকে দিয়ে খুব সিরিয়াস ধরনের কিছু করানোর উপায় নেই। বোঝাই যাচ্ছে, সর্বসাধারণের ব্যবহার-উপযোগী একটা পর্যায়ে পৌঁছাতে এটির এখনও ভালই সময় লাগবে। তবে আমরা ভবিষ্যতে এমন একটা সময়ের কল্পনা অবশ্যই করতে পারি যখন কেবল চিন্তা দিয়েই কম্পিউটার সিস্টেমকে অপারেট করতে পারবে মানুষ।

তখন সম্ভব হবে ‘স্মার্ট হোম’-এর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা, যখন কেবল চিন্তার মাধ্যমেই বাতি জ্বালাতে বা নেভাতে পারব আমরা, বা আমাদের মনের অবস্থা বা মুড-এর ওপর নির্ভর করেই খেলতে পারব অসাধারণ সব গেম। বোঝাই যায়, এ ধরনের ইউজার ইন্টারফেসের ভবিষ্যৎ রীতিমত উজ্জ্বল। তবে এর উপযোগী প্রযুক্তি তৈরি হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।

-সিনিউজভয়েস.ডেক্স/৮আগস্ট/১৯

Please Share This Post.