ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্প চালু

রাজধানীর সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের কনফারেন্স কক্ষে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করা হলো ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্প ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের এক বছরব্যাপী পাবলিক লাইব্রেরি ক্যাম্পেইন “চলো গ্রন্থাগারে চলো-দেখি সম্ভাবনার আলো”।

জাতীয় পর্যায়ের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদমাধ্যমকর্মীসহ উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব আশীষ কুমার সরকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর বারবারা উইকহ্যাম এবং আবদুল্যাহ হারুন পাশা, পরিচালক, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং যুগ্ম সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্পের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জনাব কার্স্টি ক্রফোর্ড এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ.জে.এম আবদুল্ল্যাহেল বাকী, পরিচালক গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং যুগ্ম সচিব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। জনাব বারবারা উইকহ্যাম জানান বিশ্বের ১১৫ এর চেয়েও বেশী দেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কার্যক্রম চালু আছে। তিনি আরো বলেন, আমরা একটি উন্মুক্ত, অংশগ্রহণমূলক এবং সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য সরকার এবং সুশীল সমাজের সাথে সমন্ময় করে থাকি। আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন, সুযোগ সৃষ্টি এবং নেতৃত্ব বিকাশের জন্য কাজ করছি।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে জনাব আশীষ কুমার সরকার বলেন “চলো গ্রন্থাগারে চলো দেখি সম্ভাবনার আলো” ক্যাম্পেইনটি সবাইকে আহবান জানাবে সরকারি গ্রণগ্রন্থাগার ব্যবহারের। সেই সাথে অবহিত করবে সরকারি গণগ্রন্থাগরের নতুন নতুন সেবা যেমন, গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার, শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার

কোডিং এবং প্রোগ্রামিং শেখার ব্যবস্থা এবং শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য টয়ব্রিক সামগ্রী। সরকারি গণগ্রন্থাগার সমূহ এইসব নতুন সেবা চালু করায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্পকে ধন্যবাদ জানানআশীষ কুমার সরকার। তিনি আরো জানান, ২০১৭-২০১৮ সালে প্রায় ৫৮.৫০ লক্ষ মানুষ সরকারি গণগ্রন্থাগার ব্যবহার করেছেন। এই ক্যাম্পেইনের ফলে সরকারি গণগ্রন্থাগারসমূহে আগামী এক বছরে আরো প্রায় ৫ লক্ষ নতুন গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীর সৃষ্টি হবে।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্পের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জনাব কার্স্টি ক্রফোর্ড বলেন গণগ্রন্থাগার খাতের উন্নয়নে সরকারের সাথে কাধেঁ কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছি আমরা। আমরা ৬৪ টি জেলার সরকারি গণগ্রন্থাগারসমূহে গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য ওয়াইফাই ইন্টারনেট চালু করছি। জনসংযোগ বিষয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন্স স্পেশালিস্ট জিনাত আরা আফরোজ জানান, ২৫টি জেলার মানুষের সাাথে জনসংযোগের উপায় হিসেবে আমরা তৈরি করেছি ক্যাম্পেইনের বিশেষ নেমনিকটি। যেখানে আপনারা দেখতে পাবেন সূর্য্যরে আলোয় আলোকজ্জল পটভ‚মিতে আনন্দিত এবং শান্তিময় পরিবেশে গ্রন্থাগারে নারী এবং পুরুষ গ্রন্থাগার ব্যবহারকারীদের। যারা সবাইকে বছরজুড়ে গ্রন্থাগারে আসতে আহবান জানাবেন, সেই সাথে সচেতন করবেন সরকারি গণগ্রন্থাগারের বিভিন্ন নতুন সেবা সম্পর্কে। আমাদের সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্রটি পাঠক এবং সম্ভাব্য পাঠকদের গ্রন্থাগার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক জনসংযোগ চালানো হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এ.জে.এম আবদুল্ল্যাহেল বাকী বলেন, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নির্ধারিত ২৫ টি গণগ্রন্থাগারের কর্মকর্তাদের এই পাবলিক লাইব্রেরি ক্যাম্পেইনটি বাস্তবায়ন করতে ব্রিটিশ কাউন্সিলকে সহযোগীতা করার জন্য দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পেইনের সার্বিক সফলতা কামনা করে তিনি বলেন সরকারি গণগ্রন্থাগারভিত্তিক জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং গ্রন্থাগারে পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভ‚মিকা রাখবে “চলো গ্রন্থাগারে চলো দেখি সম্ভাবনার আলো” ক্যাম্পেইনটি।

এই পাবলিক লাইব্রেরি ক্যাম্পেইনটি ঢাকাসহ বাংলাদেশের মোট ২৫টি জেলায় বাস্তবায়িত হবে। জেলাসমূহ হলো- ঢাকা, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, জামালপুর, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, ফরিদপুর, রাঙ্গামাটি, গোপালগঞ্জ, বান্দরবন, টাঙ্গাইল, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, রাজশাহী, যশোর, পাবনা, খুলনা, রংপুর, কুষ্টিয়া, নীলফামারী, সিলেট, নারায়নগঞ্জ এবং দিনাজপুর।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২০এম/১৯

Please Share This Post.